অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকার পরও ঝুঁকিতে শাহজালাল বিমানবন্দর

স্টাফ রিপোর্টার : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় অগ্নি শনাক্তকরণ ও নির্বাপণ যন্ত্রপাতি। বাড়ানো হয়েছে ফায়ার ফাইটিং জনবল। তবে এত আয়োজনের পরও অগ্নি ঝুঁকিতে দেশের প্রধান এই বিমানবন্দর। ঝুঁকির অন্যতম কারণ হচ্ছে, অরক্ষিত ও এলোমেলো বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ, বিভিন্ন স্থানে স্তূপ করে ফেলে রাখা পরিত্যক্ত দাহ্য জিনিসপত্র। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, শিগগিরই এসব সমস্যা দূর হবে।

সূত্র জানায়, বিমানবন্দরের তৃতীয় তলায় রয়েছে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের অফিস। সেখানে সিলিং থেকে খুলে ঝুলে আছে লাইট ও বৈদ্যুতিক তার। পরিত্যক্ত জিনিসিপত্রের স্তূপের আড়ালে পড়ে আছে ফায়ার হাইডেন্ট। বিভিন্ন স্থানে জমা করে রাখা হয়েছে পরিত্যক্ত দাহ্য জিনিসপত্র। টার্মিনাল ভবনের দ্বিতীয় তলার দক্ষিণ পাশে স্মোকিং জোনের পাশেও ফেলে রাখা হয়েছে পরিত্যক্ত জিনিসপত্র। এছাড়া টার্মিনালের বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক সংযোগের বক্সগুলো অরক্ষিত। কোথাও কোথাও এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে আছে বৈদ্যুতিক তারযেকোনও ভবনেই পরিত্যক্ত দাহ্য জিনিসপত্র অগ্নি ঝুঁকি বাড়ায় বলে জানান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতবের উপ-পরিচালক (ঢাকা) দেবাশীষ বর্ধন। তিনি বলেন, সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা জরুরি। বৈদ্যুতিক সংযোগগুলোরও নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৮ এপ্রিল বিমানবন্দরে বহুতল গাড়ি পার্কিং ভবনের তৃতীয় তলার স্টোর রুমে আগুন লাগে। ২০১৭ সালে ১০ আগস্ট এয়ার ইন্ডিয়ার অফিসে আগুন লাগে। আগুনে এয়ার ইন্ডিয়া অফিসের পাশাপাশি কাতার এয়ারওয়েজের অফিসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন সময় অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্ত কমিটি করে ফায়ার সার্ভিস। তদন্ত শেষে ফায়ার সার্ভিস বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে।

.বিমানবন্দর সূত্র জানায়, এসব সুপারিশের সবগুলো বাস্তবায়ন করেনি কর্তৃপক্ষ। কয়েক দফা অগ্নিকাণ্ডের পর বিমানবন্দরে বাড়ানো হয়েছে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা। বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে স্মোক ও ফায়ার ডিটেকটর। বাড়ানো হয়েছে ফায়ার এক্সটিংগুইশার, ফায়ার হাইড্রেন্ট। এছাড়া আধুনিক মনিটরিং যন্ত্র বসানো হয়েছে যার মাধ্যমে ঠিক কোন স্থানে আগুন লেগেছে তা শনাক্ত করা সম্ভব। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে জনবল। পরিত্যক্ত জিনিসপত্র সরানো, বৈদ্যুতিক সংযোগ পরিবর্তন, বৈদ্যুতিক তার সুরক্ষিত করার কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

.কয়েকটি এয়ারলাইন্সের কর্মীরা জানিয়েছেন, টার্মিনালে সব চেয়ে বেশি অপরিচ্ছন্ন অংশ এয়ারলাইন্সগুলোর অফিস জোন। সিলিং থেকে লাইটসহ বৈদ্যুতিক তার ঝুলে রয়েছে। যেখানে সেখানে পরিত্যক্ত জিনিসপত্র ফেলে রাখা হয়েছে। এসব বিষয়ে বিভিন্ন সময় বিমানবন্দরের পরিচালককে জানানো হয়েছে, কিন্তু কোনও পরিবর্তন হয়নি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতবের উপ-পরিচালক (ঢাকা) দেবাশীষ বর্ধন বলেন, বিমানবন্দরে কয়েকবার অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। সর্বশেষ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের অফিসে আগুন লেগেছিল। আমি তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলাম। আমরা অনেকগুলো সুপারিশ দিয়েছিলাম। অগ্নি নিরাপত্তার স্বার্থে সুপারিশগুলো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে বাস্তবায়ন করতে হবে। না হলে ঝুঁকি থেকেই যাবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনালগুলো বেশ পুরাতন। সেখানে এখনও অনেক জায়গায় বৈদ্যুতিক তার এলোমেলো। এখন সমস্যা হচ্ছে, সব কিছু নতুনভাবে করা সম্ভব হবে না। কারণ বিমানবন্দরের অপারেশন বিঘ্নিত হবে। তারপরও আমরা কিছু কাজ হাতে নিয়েছি। এক্সটারনাল ওয়ারিং করে আমরা কাজ সেরে নিচ্ছি। তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ কাজ শেষে হলে তখন এ টার্মিনালের সংস্কার কাজ করা হবে। পরিত্যক্ত জিনিসপত্র স্তূপ করে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, অব্যবহৃত পুরাতন অনেক জিনিস বিভিন্ন স্থানে আছে। এগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হবে।

আরও খবর
Loading...