আগামী ১ আগষ্ট থেকে কাতারে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু

আগামী ১ আগস্ট থেকে কাতারে আন্তজাতিক ফ্লাইট চালু হবে। কভিড-১৯ সংক্রমণে স্বল্প ঝুঁকির দেশগুলোতে থাকা নাগরিক ও প্রবাসী বাসিন্দাদের জন্য ওই দিন থেকে সীমান্ত  ও বিমানবন্দর খুলে দেয়া হবে। বাংলাদেশী নাগরকিরাও  কিছু শত স্বাপেক্ষ কাতার প্রবে করতে পারবেন।

ওইদিন থেকে বিদেশী কর্মী ও পারিবারিক ভিসার অভিবাসীসহ যাদের ভিসা আছে এমন যেকোনো ব্যক্তি কাতারে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে কাতার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের করা স্বল্প ঝুঁকির দেশের তালিকায় না থাকায় প্রবেশের পর বাংলাদেশীদের এক সপ্তাহ থাকতে হবে হোটেলে।

সম্প্রতি কাতারের যোগাযোগ কর্তৃপক্ষ ও কাতার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিদেশীদের কাতার আসাসংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে দেশ ও ক্যাটাগরিভেদে বিদেশীদের ফেরার ক্ষেত্রে আলাদা প্রক্রিয়া ও নিয়ম নির্ধারণ করেছে কাতার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।

সেখানে কভিড-১৯-এর স্বল্প ঝুঁকিতে থাকা ৪০টি দেশের তালিকা দেয়া হয়েছে। ওই ৪০টি দেশ থেকে যাওয়া যাত্রীদের বিমানবন্দরে কভিড-১৯ পরীক্ষা করে নেগেটিভ ফল পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সাতদিনের জন্য হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হবে।

অন্যদিকে স্বল্পঝুঁকির তালিকার বাইরে থাকা দেশগুলো থেকে যারা কাতারে ফিরতে চাইবেন, তাদের প্রথমে কাতার কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ওয়েবসাইট কাতার পোর্টালে কাতারে ফেরার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে।

এতে অনুমতি মিললে কাতারে আসার পর তাকে নির্ধারিত হোটেলে এক সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। ওই ব্যক্তি যদি কর্মী ভিসাধারী হন, তবে তার কোয়ারেন্টিনের খরচসংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে বহন করতে হবে। তবে বিদেশী কর্মীদের ফেরার অনুমতি দেয়ার বেলায় সরকারি ও আধাসরকারি খাতে কর্মরত কর্মীদের চাহিদা ও কাতারের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।

এ প্রসঙ্গে কাতারের বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের প্রথম সচিব মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, কাতারে কর্মী হিসেবে কাজ করতেন, কিন্তু ছুটিতে গিয়ে আটকা পড়েছেন এমন বাংলাদেশ রা আগামী ১ আগস্টের পর থেকে ফিরতে পারবেন। তবে এজন্য আগে নিজ নিজ কর্মস্থলে তাদের যোগাযোগ করতে হবে। সেখান থেকে অনুমতি পাওয়া সাপেক্ষে তারা কাতারে ফিরতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পারিবারিক ভিসায় যারা কাতারে থাকেন, তাদের মধ্যে যারা কভিডের স্বল্পঝুঁকির তালিকার বাইরের দেশ থেকে কাতারে ফিরবেন তাদের ফেরার পর নিজ খরচে এক সপ্তাহের জন্য হোটেল কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

এক সপ্তাহ পার হওয়ার পর তাদের করোনার পরীক্ষা করা হবে। করোনার ফল নেগেটিভ হলে বাসায় আরো এক সপ্তাহের জন্য হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। আর পজিটিভ হলে কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে আইসোলেশনে যেতে হবে। কোন কোন হোটেলে প্রথম সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে, এরই মধ্যে সেগুলোর তালিকা ডিসকভার কাতার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই এক সপ্তাহের জন্য হোটেল কোয়ারেন্টিনের পরিবর্তে এক সপ্তাহের হোম কোয়ারেন্টিন প্রযোজ্য হবে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ৫৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, হার্টের সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তি, ক্যান্সার চিকিৎসাধীন ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা নারী, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু ও মা, লিভার ও কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী শিশু ও শিশুর মা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে অসুস্থ ব্যক্তি।

কাতার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিশ্বে কম ঝুঁকিপূর্ণ ৪০টি দেশের তালিকা প্রকাশ করে জানিয়েছে, এসব দেশ থেকে কাতারে এলে বিমানবন্দরে করোনা টেস্ট করা হবে এবং ১০টি শর্ত মেনে চলার শপথনামায় স্বাক্ষররে এক সপ্তাহের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

সেক্ষেত্রে হোটেল কোয়ারেন্টিনের কোনো প্রয়োজন নেই। এসব দেশের তালিকায় রয়েছে ব্রুনেই, ভিয়েতনাম, চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, মালটা, ফিনল্যান্ড, হাঙ্গেরি, দক্ষিণ কোরিয়া, এস্তোনিয়া, নরওয়ে, লিথুনিয়া, লাটভিয়া, জাপান, সাইপ্রাস, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, স্লোভাকিয়া, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, মরক্কো, পোল্যান্ড, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, স্লোভেনিয়া, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, চেক, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, আলজেরিয়া, তুরস্ক, আইসল্যান্ড, স্পেন, ক্রোয়েশিয়া ও এন্ডোরা।

আরও খবর
Loading...