আজ ববিতার জন্মদিন

সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রের ‘অঙ্গন’ বউ চরিত্রে ফরিদা আক্তার পপিকে আলাদা করে পরিচয় করে দেয়ার কিছু নেই। তবে নামটি শুনে অনেকেই হয়ত অবাক হতে পারেন। কিন্তু যদি বলা হয় ‘ববিতা’, তাহলে মুহূর্তেই সবাই বুঝতে পারবেন কার কথা বলা হচ্ছে। সত্যজিৎ রায়, জহির রায়হান, সুভাষ দত্তের মতো গুণী নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। পাঁচ দশক ধরে চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রায় তিনশত ছবিতে অভিনয় করেছেন। অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা এ শিল্পীর আজ জন্মদিন।

তবে জন্মদিন ঘিরে নেই কোনো পরিকল্পনা। বিগত বেশ কয়েকটি বছর কানাডায় থাকা ছেলে অনিকের সঙ্গে নিজ জন্মদিন উদযাপন করেছেন। কিন্তু এ বছর করোনা মহামারীর কারণে আর সন্তানের কাছে যেতে পারেননি। ববিতা বলেন, ‘জন্মদিন এলেই আমার মন খারাপ হতে থাকে। কারণ জন্মদিন আসা মানেই এই নয় যে খুব আনন্দের বিষয়। জন্মদিন মানেই হচ্ছে জীবন থেকে আরো একটি বছর চলে যাওয়া। মৃত্যুর কাছাকাছি এগিয়ে যাওয়া। জন্মদিন এলেই আমার এসব বিষয় আগে অনুভব হয়। তারপর খুব মনে পড়ে বাবা আর মায়ের কথা। আর এখন খুব বেশিই মনে পড়ে অনিক-কে।’ তবে অনিকের সঙ্গে জন্মদিন কাটাতে না পারলেও সবসময়ই ছেলের সঙ্গে স্কাইপিতে কথা হয়।

নিজের বয়সের বেলায় যেন একটু রসিকতাই করলেন ববিতা। কততম জন্মদিন? এর বিপরীতে ববিতার উত্তর, ‘থাক না অজানা আমার এই বয়সের কথা। সত্যি বলতে কী মেয়েরা কখনোই নিজের বয়সের কথা বলতে চান না। তবে বুঝতে পারি দিনে দিনে বয়স বেশ ভালোই বেড়ে গিয়েছে।’ হয়তো বয়স নিয়ে ভাবতে চান না বলেই এখনো বাংলা চলচ্চিত্রের চিরসবুজ অভিনেত্রীদের একজন তিনি। এবারের জন্মদিন নিয়েও আলাদা কোন পরিকল্পনা নেই ববিতার। এর আগে ডিসিআইআই’র পক্ষ থেকে সমাজের অসহায় বঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে নিয়ে দিনটি তিনি একটু অন্যভাবে উদযাপন করতেন। কিন্তু এখন আর সেই সুযোগটিও নেই করোনার কারণে।

উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সালে চলচ্চিত্রের পর্দায় নিজের অভিষেক ঘটলেও সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ববিতার বিশাল পরিচিত এবং গ্রহণযোগ্যতা গড়ে উঠে। ববিতা অভিনীত এ চলচ্চিত্র ১৯৭৩ সালে বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এবং ১৯৭৪ সালে শিকাগো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সেরা চলচ্চিত্র’ হিসেবে পুরস্কৃত হয়। এছাড়া ১৯৭৪ সালে কলকাতায় ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ডে তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করে।

নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘আলোর মিছিল’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ১৯৭৫ সালে ববিতা প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। পরপর তিনি মোহসীনের ‘বাদী থেকে বেগম’ এবং আমজাদ হোসেনের ‘নয়ন মনি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্যও একই সম্মাননায় ভূষিত হন। টানা তিনবছর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে তিনি হ্যাট্রিক করেন। গুণী অভিনেত্রী ববিতা পরবর্তী সময়ে পোকা মাকড়ের ঘর বসতি, রামের সুমতি এবং ম্যাডাম ফুলি সিনেমাতে অভিনয়ের জন্যও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

অভিনেত্রী হিসেবে ববিতা প্রায় ২৯০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সুন্দরী, এক মুঠোভাত, অনন্ত প্রেম, বসুন্ধরা, সোহাগ, ফকির মজনুশাহ, ওয়াদা, লাঠিয়াল, কথা দিলাম, নিশান, এতিম, লাইলী মজনু, দূরদেশ, ফুলশয্যা, বীরাঙ্গণা সখিনা, মিন্টু আমার নাম ও বেহুলা লক্ষিন্দরসহ আরও বেশ কিছু চলচ্চিত্র।

আরও খবর
Loading...