আম্পানে তছনছ বিমানবন্দর আবার চালু ১২ ঘণ্টা পরে

জলমগ্ন টারম্যাক, হাঁটু জলের নীচে রানওয়ে, ব্যবহারের অযোগ্য দু’টো হ্যাঙ্গার, এক জায়গায় ধসে পড়েছে ছাদ — ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব শেষে এমনই বিধ্বস্ত পরিস্থিতি কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বিমানবন্দরের। আগামী ২৫ মে ফের অভ্যন্তরীন রুটের ফ্লাইট চালু হওয়ার কথা। তার আগে যত দ্রুত সম্ভব বিমানবন্দরকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে মরিয়া চেষ্টা কর্তৃপক্ষের।

অন্যদিকে, এ দিনই সকাল ১০টা থেকে চালু হওয়ার কথা ছিল ভারতীয় রেলের প্যাসেঞ্জার রিজার্ভেশন সিস্টেম (পিআরএস)-এর। ১ জুন থেকে গোটা ভারতে যে ২০০টি ট্রেন চালু হওয়ার কথা, তারই টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা ছিল এ দিন। কিন্তু বুধবার রাত থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকার ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনলাইন টিকিট বিক্রি বেশ কয়েক ঘণ্টা পিছিয়ে যায়। রেল এবং আইআরসিটিসি-র আশা, আজ, শুক্রবার পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।

ঝড়ের তাণ্ডব শেষ হওয়ার পর বিমানবন্দরের অবস্থা দেখে প্রাথমিক ভাবে মনে হয়েছিল, আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে তাকে হয়তো ব্যবহারযোগ্য করে তোলা যাবে না। কিন্তু প্রকৃতি একটু শান্ত হতেই বিমানবন্দরের কর্মীরা দ্রুত কাজে নেমে পড়েন। যে কারণে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টো ৩১ মিনিটে বিমানবন্দরে একটি রুশ চার্টার্ড বিমান অবতরণ করতে পারে। যাকে এই কর্মীদেরই সাফল্য হিসেবে দেখছেন অনেকে। কিছুক্ষণ বাদে দিল্লির উদ্দেশে উড়ে যায় একটি বেসরকারি কার্গো বিমান।

বুধবার রাতে যে ভাবে বিমানবন্দরের রানওয়েগুলো জলমগ্ন হয়ে পড়ে, তাতে চিন্তায় পড়েছিলেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। অধিকর্তা কৌশিক ভট্টাচার্য বলেন, ‘দু’টি হ্যাঙ্গারের যা অবস্থা, তাতে সেগুলি নতুন ভাবে তৈরি করতে হবে।’ প্রয়োজনীয় মেরামতি এবং বিমানবন্দরকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন কৌশিক।

এ ছাড়া আম্পানে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা লন্ডভন্ড। তাই ২৫ মে যে অভ্যন্তরীন রুটের ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা, তার জন্য টিকিট বুকিং এ দিন শুরু করা যায়নি।

আরও খবর
Loading...