আরভিনের সেঞ্চুরি; শেষ বিকেলটা বাংলাদেশের

ঢাকা টেস্টের শুরুতে জিম্বাবুয়ে শিবিরে কাঁপন ধরিয়েছিলেন বাংলাদেশের পেসাররা। তবে ধীরে ধীরে তা মলিন হয়ে যায় অধিনায়ক এরভিন আর প্রিন্স মাসভাউরের শতাধিক রানের জুটিতে। উল্টো স্বচ্ছন্দে ব্যাটিং করে চলেন অতিথিরা। শেষ সেশনে এসে নাঈমের ঘূর্ণি বল আর আবু জায়েদের পেসে ম্যাচের রাশ টেনে ধরেছে বাংলাদেশ। যদিও শেষ বিকালে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন। তরুণ নাঈম ৬৮ রানে তুলে নিয়েছেন ৪ উইকেট। দিন শেষে ৯০ ওভারে সফরকারীদের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২২৬ রান।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের পেস আক্রমণের বিরুদ্ধে তাদের শুরুটা ছিল সতর্ক। তবে শেষ পর্যন্ত বড় ওপেনি জুটি হয়নি। দলীয় ৭ রানে আবু জায়েদে বলে নাঈম হাসানের তালুবন্দি হন কাসুজা (২)। তবে এরপর ঘুরে দাঁড়ায় অতিথিরা। তবে এতে বাংলাদেশি ফিল্ডারদের অবদানও স্বীকার করতে হবে। নাঈম হাসানের পরপর দুই ওভারে জীবন পান প্রিন্স মাসভাউরে। বাঁহাতি ওপেনারের ক্যাচ স্লিপে মুঠোয় নিতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত। এর আগে কঠিন ফিরতি ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন স্বয়ং নাঈম।

বাংলাদেশের বাজে ফিল্ডিংয়ের সুযোগে দ্বিতীয় উইকেটে ১১১ রানের জুটি গড়ে ফেলে সফরকারীরা। ওপেনার প্রিন্স মাসভাউরে ১০৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। ব্যক্তিগত ৬৪ রানে তাকে কট অ্যান্ড বোল্ড করে জুটি ভাঙেন নাঈম হাসান। উইকেটে আসেন ব্রেন্ডন টেইলর। বিপজ্জনক এই ব্যাটসম্যানকেও ১০ রানে থামিয়ে বাংলাদেশকে বড় ব্রেক থ্রু দেন নাঈম। ১৯ বছর বয়সী এই তরুণের ঘূর্ণিতেই জিম্বাবুয়ের চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে। তার বলে লিটন দাসের গ্লাভসবন্দি হন অল-রাউন্ডার সিকান্দার রাজা (১৮)। মিডল অর্ডারে টিমিসেন মারুমাকে (৭) এলবিডাব্লিউ করে নিজের দ্বিতীয় শিকার ধরেন আবু জায়েদ। ১৯৯ রানে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের অর্ধেক শেষ হয়।

একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলছিলেন অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন। শেষ বিকালে ২১৩ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন ৩৪ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের মাটিতে সফরকারী দেশের অধিনায়ক হিসেবে সেঞ্চুরি করা চতুর্থ ব্যাটসম্যান তিনি। এর আগে অধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশে সেঞ্চুরি করেন রাহুল দ্রাবিড় (ভারত), মাহেলা জয়াবর্ধনে (শ্রীলঙ্কা) এবং অ্যালিস্টার কুক (ইংল্যান্ড)। এরপর বেশিদূর এগোয়নি তার ইনিংস। ২২৭ বলে ১৩ বাউন্ডারিতে ১০৭ রান করা এরভিনকে নিজের চতুর্থ শিকারে পরিণত করেন নাঈম। ৯০ তম ওভার শেষে প্রথম দিনের খেলার ইতি টানেন আম্পায়াররা। জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ২২৬ রান। চাকাভা ৯* এবং তিরিপানো ০* রানে অপরাজিত।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের দলে থাকলেও একাদশে সুযোগ হয়নি পেসার তাসকিন আহমেদের। আগের টেস্টে খেলা মাহমুদউল্লাহ ও রুবেল হোসেন স্কোয়াডেই নেই। তাদের জায়গায় একাদশে ফিরেছেন মুশফিকুর রহিম ও বিসিএলে দারুণ বোলিং করা তরুণ অফ স্পিনার নাঈম হাসান। চোট কাটিয়ে ফেরা মেহেদী হাসান মিরাজের জায়গা হয়নি একাদশে। অন্যদিকে জিম্বাবুয়ের হয়ে টেস্ট অভিষেক হচ্ছে পেসার চার্ল্টন টিশুমা। একাদশে ফিরেছেন আইন্সলে এনডিলোভু।

বাংলাদেশ: তামিম ইকবাল, সাইফ হাসান, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, মোহাম্মদ মিঠুন, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, আবু জায়েদ চৌধুরী, ইবাদত হোসেন।

জিম্বাবুয়ে: সিকান্দার রাজা, রেজিস চাকাভা, ক্রেইগ আরভিন, কেভিন কাসুজা, টিমিসেন মারুমা, প্রিন্স মাসভাউরে, আইন্সলে এনডিলোভু, ভিক্টর নাউচি, ব্রেন্ডন টেইলর, ডোনাল্ড টিরিপানো, চার্ল্টন টিশুমা।

আরও খবর
Loading...