আরো দুই পাইলটের সংসার ভেঙ্গেছিলেন বিমানের কেবিন ক্রু সোনিয়া

যোবায়ের আহমেদ অভি, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : বিমানের সিনিয়র পাইলট ক্যাপ্টেন ইশরাতের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনার আগে বিমানেরই আরো দুই পাইলটের সংসার ভেঙ্গেছিলেন কেবিন ক্রু সোনিয়া। এদের একজন বিমানের পাইলট অপরজন ফাস্ট অফিসার। এই ঘটনায় একজনের সংসার ভেঙে গেছে। ডিভোর্স হয়ে গেছে স্বামী-স্ত্রীর। অপরজনের সংসারে এখনো জ্বলছে ভয়াবহ আগুন। ত্রিভুজ প্রেমের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। মামলা হয়েছে উত্তরা থানাতে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই পাইলটের একজনের স্ত্রী এভিয়েশন নিউজকে জানান, কেবিন ক্রু সোনিয়ার কারণে তাদের মধুর দাম্পত্য জীবন তছনছ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, পারিবারিকভাবে অনেক চেষ্টা তদবির করেও তার স্বামীকে সোনিয়ার কাছ থেকে ফেরাতে পারেননি। একাধিকবার শালিস বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই কিছু করা সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে তিনি ডিভোর্স নিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, সোনিয়া সব সময় ধনাঢ্য পরিবারের পাইলটদের সঙ্গে এধরনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ত্রিভুজ প্রেমের এই ঘটনা তদন্ত করলে ও দুই পাইলটের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কেঁচো খুুড়তে সাফ বেরিয়ে আসবে। একই সঙ্গে বিমানের সিনিয়র কেবিন ক্রু ও পার্সারদের কাছে সোনিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলেও অনেক ভয়াবহ তথ্য জানা যাবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের কেবিন ক্রু এসোসিয়েশনের একজন নেতা এভিয়েশন নিউজকে জানান, সোনিয়াকে এখনো তাদের এসোসিয়েশনের সদস্য পদ দেয়া হয়নি। তার মতে বিমানের কেবিন ক্রুদের সঙ্গে পাইলটদের সম্পর্ক অনেক ঘনিষ্ঠ ও পারিবারিক ছিল। ক্যাপ্টেন ইশরাত ৩০ বছর পাইলট হিসাবে চাকরী করছেন বিমানে। কোন দিন কোন কেবিন ক্রু‘র কাছ থেকে এধরনের আভিযোগ শোনা যায়নি। এঠাৎ এরকম রহস্যজনক অভিযোগ পেয়ে তারা অবাক। তাছাড়া  শারীরিকভাবে কোন যৌন হয়রানিও করা হয়নি। লিখিত অভিযোগেও তা বলা হয়নি। শুধুমাত্র ককপিটে কিছু কথাবার্তার অভিযোগ আনা হয়েছে একজন সিনিয়র পাইলটের বিরুদ্ধে। আর তাতেই একজন পাইলটের ৩০ বছরের পারিবারিক ও চাকুরী জীবন ধুলিস্যাত করে দেয়া হয়ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের একজন সিনিয়র কেবিন ক্রু বলেন আগে কেবিন ক্রু ও পাইলটরা একই হোটেলে থাকতেন। তারপরও পাইলট ও কেবিন ক্রুদের সঙ্গে একটা ভাল সম্পর্ক ছিল। কখনোই কোন খারাপ কথা শোনা যায়নি। কিন্তু ইদানিং প্রায়শ পাইলটদের সঙ্গে নতুন যোগ দেয়া কেবিন ক্রুদের নিয়ে নানা নেতিবাচক কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে। আগে পাইলট-কেবিন ক্রুদের একজনের বিপদে অন্য জন এগিয়ে আসতো। কিন্তু কিছুদিন আগে বিমানে শতাধিক কেবিন ক্রু নিয়োগ দেয়া হয়। তাদের মধ্য থেকে যেসব ক্রু অন্য এয়ারলাইন্স থেকে বিমানে নিয়োগ পেয়েছেন তাদের মধ্যে কয়েকজন কেবিন ক্রু‘র অত্যাচারে বিমান এখন অতিষ্ট। তারা এতটাই বেপোরোয়া আচরণ করে তারা পাইলট-সিনিয়র স্টাফ, পরিচালক কাউকে পাত্তা দিতে চান না। এদের সঙ্গে সমাজের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি, এমপি -মন্ত্রীদের সঙ্গেও ভাল সম্পর্ক আছে। একারণে এরা ধরাকে সরা জ্ঞান করেন।

জানাগেছে, কেবিন ক্রু সোনিয়া একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্স থেকে বিমানে যোগদান করেন। এরপরই তিনি একের পর এক পাইলটের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিমানে যোগদান করেই তিনি প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন বিমানের সিনিয়র পাইলট (মোকা…… নাম প্রকাশ কার হলো না) এর সঙ্গে। তাদের দুই জনের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক চলাকালে সোনিয়া আবারো প্রেমে পড়েন বিমানেরই ফাস্ট অফিসার (…..তিশ.. নাম প্রকাশ করা হলো না)  এর সঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে এই ত্রিভুজ প্রেম চলতে থাকে। এই দুই পাইলট একে অন্যের ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলেন। এক পর্যায়ে ত্রিভুজ প্রেমের সম্পর্ক জানাজানি হয়। এরপর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরার একটি হোটেলে ভয়াবহ মারামারির ঘটনা ঘটে দুই পাইলট ও ফাস্ট অফিসারের মধ্যে। এতে রেস্টুরেন্ট অনেক আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যার কারণে উত্তরা থানায় সাধারণ ডায়রী করেন ওই রেস্টুরেন্ট মালিক। এক পর্যায়ে এক পাইলটের স্ত্রী তার স্বামীকে ডিভোর্স দেয়। অপর পাইলটের স্ত্রীর সঙ্গে এখনো সম্পর্ক থাকলেও সোনিয়াকে নিয়ে প্রায়শ তাদের মধ্যে অশান্তি চলছে। এ বিষয়ে জানার জন্য কেবিন ক্রু সোনিয়ার সংগে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।–
(দ্বিতীয় পর্ব আসছে শিগগির)
আরও খবর
Loading...