ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন আটকে পড়া সৌদি প্রবাসীরা

ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন আটকে পড়া সৌদি প্রবাসীরা। মহামারীর কারণে দেশে আটকে পড়া সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশীরা কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না সাত মাস ধরে। ফলে আয় উপার্জনও বন্ধ পুরোপুরি। অনেকেরই সঞ্চিত অর্থটুকুও শেষ হয়ে গিয়েছে বহু আগে। ফলে পরিবারের ভরণপোষণ চালাতে হচ্ছে ধারদেনা করে।

এ ঋণের পরিমাণও ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এ অবস্থায় কর্মস্থলে ফিরে যাওয়া ছাড়া আর কোনো গতি নেই তাদের। যদিও ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও ভিসা, আকামার মেয়াদ ও উড়োজাহাজের টিকিট ক্রয়সহ আরো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নানা সংকটের মোকাবেলা করতে হচ্ছে তাদের।

ভুক্তভোগী প্রবাসীরা জানান, বেশ কয়েক মাস দেশে থাকায় তাদের সঞ্চিত অর্থ শেষ। অনেকে উড়োজাহাজের টিকিট ক্রয়ের সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছেন। এর বাইরে অনেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা স্বজনদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে পরিবার পরিচালনা করছেন। ফলে এ মুহূর্তে আটকে পড়া এসব প্রবাসীর কর্মস্থলে ফিরে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায়ও নেই।

মার্চে দেশে করোনার প্রকোপ শুরুর আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন বহু প্রবাসী কর্মী। এরপর মে-জুনের মাঝামাঝি সৌদি আরবে মহামারীর প্রকোপ বাড়ায় ফিরে আসেন আরো অনেকে। সেখানকার সুপারশপ, রেস্টুরেন্ট ও কলকারখানা বন্ধ হয়ে পড়ার কারণেও ফিরতে বাধ্য হন অনেকে।

ছুটি শেষে তাদের কর্মস্থলে ফেরার কথা থাকলেও উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় যেতে পারেননি তারা। দীর্ঘদিন দেশে থাকায় আয়-উপার্জন বন্ধ হলেও পরিবারের ভরণপোষণ চালিয়ে যেতে হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঋণের জন্য স্বজন বা বিভিন্ন সংস্থার দ্বারস্থ হতে হয়েছে তাদের অনেককেই।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে (১ এপ্রিল থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ৩৩ হাজার ২১৬ জন বাংলাদেশী, যাদের বেশির ভাগই শ্রমজীবী।

এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই করোনার কারণে কর্মস্থল ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। গত ছয় মাসে তাদের মধ্যে কতজন দেশে ঋণের বেড়াজালে আটকেছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না থাকলেও অভিবাসন নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, এ সংখ্যা ২০ হাজারের কম নয়।

আরও খবর
Loading...