এই অভিশাপ থেকে কবে মুক্তি মিলবে?

এই অভিশাপ থেকে কবে মুক্তি মিলবে?

এটা খুবই দুঃখজনক যে সরকারি বেসরকারি নানা উদ্যোগের পরও বাল্যবিয়ে বন্ধ হচ্ছে না। গণমাধ্যমে প্রায়ই বাল্যবিয়ের খবর আসে। এরসঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে জেল-জরিমানারও বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে বাল্যবিয়ে থেমে নেই। বাল্যবিয়ে সমাজের জন্য অভিশাপ। কাজেই যে কোনো মূল্যে এটা বন্ধ করতে হবে।

এবার সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় একরাতে চার ছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুর রহমান। একই সঙ্গে বরের বাবা ও কনের বাবাকে জরিমানা করা হয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এ বিয়েগুলো বন্ধ করা হয়। এতে সদর উপজেলার ছোনগাছা ইউনিয়নের টুকরা ছোনগাছা গ্রামের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া খাতুন আঁখি (১৬), পৌরসভার কোবদাসপাড়ায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রী মোছা. হাসি খাতুন (১৬), খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের শৈলাবাড়ী গ্রামে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী আয়শা খাতুন (১৩) ও রতনকান্দি ইউনিয়নের পশ্চিম গজারিয়া গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্রী আমিনা খাতুন (১৪) বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পেল।

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিয়েগুলো বন্ধ করা হয়। চারজন কনেই অপ্রাপ্তবয়স্ক। বাল্যবিয়েগুলো বন্ধ করে সর্বমোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রত্যেক ক্ষেত্রে কনের বাবার কাছ থেকে কনে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকা নেয়া হয়।

আইন অনুযায়ী পুরুষের বিয়ের বয়স ২১ বছর, নারীর ১৮ বছর। ব্যতিক্রম হলে বিয়ের সঙ্গে জড়িত বর-কনের অভিভাবক, আত্মীয়, স্থানীয় কাজিসহ সবার শাস্তির বিধান রয়েছে। জড়িত পুরুষদের এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। বর ও কনে দুজন নাবালক হলে তাদের কোনো শাস্তি হবে না। বর সাবালক ও কনে নাবালিকা হলে ছেলের এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা এক হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

কন্যাশিশুরাই বাল্যবিয়ের শিকার হয় বেশি। দারিদ্র্য, অসচেতনতা, সামাজিক নিরাপত্তার অভাব, যৌন হয়রানি ও কন্যাশিশুর প্রতি নেতিবাচক মনোভাবের কারণে কন্যাশিশুদের বিয়ে হচ্ছে বেশি। পাশাপাশি ভুয়া জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে বয়স বাড়ানোর ঘটনাও ঘটছে। দেখা যায়, সন্তান জন্ম দেওয়া ও লালন-পালন করা অল্প বয়সী মায়েদের পক্ষে সম্ভব হয় না। এই অবস্থায় মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ছে।

নানা ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে-এমন স্বপ্ন দেখছি আমরা। কিন্তু বাল্যবিয়ে এর মধ্যে বিরাট এক বাধা। এ সমস্যা সমাধানে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে সবচেয়ে বেশি। বিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে গেল-এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার কারণে মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। তাছাড়া আর্থ সামাজিক নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ জন্য বাল্যবিয়ে বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও মানসিকতার পরিবর্তনও অত্যন্ত জরুরি।

আরও খবর
Loading...