এনআরবি ব্যাংক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গভর্নরের কাছে ৭ পরিচালকের অভিযোগ

অর্থনৈতিক ডেস্ক : এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমানের (নাসির) বিরুদ্ধে ব্যাংকটিরই সাত উদ্যোক্তা পরিচালক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। ১১ দফা অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা। খবর বণিক বার্তার।

এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে নীতিমালা লঙ্ঘন করে চেয়ারম্যান কর্তৃক ব্যাংকে পারিবারিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জোর করে ছুটিতে পাঠানো, ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির ক্ষমতা খর্ব করা, গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের পদত্যাগে বাধ্য করা, ঋণখেলাপি হয়েও ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ আঁকড়ে রাখা, ব্যাংককে নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যবহার করা।

লিখিত আবেদনে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫ ও ৪৯ ধারা অনুযায়ী এনআরবি ব্যাংকে হস্তক্ষেপের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অনুরোধ করা হয়েছে। এ দুটি ধারায় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে পুনর্গঠন, অনিয়ম উদ্ঘাটনে বিশেষ পরিদর্শন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে পর্যবেক্ষক নিয়োগের বিধান রয়েছে।

চেয়ারম্যান মাহতাবুর রহমানের পাশাপাশি এনআরবি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান তাতিয়ামা কবিরের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সাত পরিচালক। নিয়ম লঙ্ঘন করে তিনি নিয়মিত ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে বসে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রতিটি কাজে হস্তক্ষেপ করছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগকারীরা হলেন এনআরবি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ, নির্বাহী কমিটির (ইসি) চেয়ারম্যান এম বদিউজ্জামান, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ড. নাসের আহমেদ চৌধুরী, ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ, অডিট কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান নাভেদ রশিদ খান, পরিচালক মোহা. ইদ্রিস ফরায়েজী ও বিকল্প পরিচালক আমিনুর রশিদ খান। গত ১৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বরাবর করা এ লিখিত অভিযোগের একটি কপি বণিক বার্তার হাতে রয়েছে।

পরিচালকদের এ অভিযোগ তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি’ বিভাগ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শিগগিরই এ কমিটি এনআরবি ব্যাংকে বিশেষ পরিদর্শন চালাবে বলে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ বর্তমানে এনআরবি ব্যাংকে বিশেষ নিরীক্ষা চালাচ্ছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই ব্যাংকটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম  বলেন, এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পরিচালকদের লিখিত অভিযোগ কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংক পেয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

যেকোনো ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের আমানতের সুরক্ষা দেয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর। এ দায়িত্ব পালনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবসময়ই যথাযথ ব্যবস্থা নেয়। প্রয়োজনের নিরিখে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর ব্যবস্থাও নিয়ে থাকে। এনআরবি ব্যাংকের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হবে না।

২০১২ সালে অনুমোদন পাওয়া চতুর্থ প্রজন্মের নয়টি ব্যাংকের একটি এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড। ২০১৬ সাল থেকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে দায়িত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান। তিনি দুবাইভিত্তিক আল-হারামাইন নামে একটি পারফিউম কোম্পানির স্বত্বাধিকারী।

গভর্নরের কাছে দেয়া চিঠিতে এনআরবি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানসহ সাত পরিচালক অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাহতাবুর রহমান এনআরবি ব্যাংকে পারিবারিক কর্তৃত্ব স্থাপনে উদ্যোগী হন।

এজন্য তিনি ব্যাংকের আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশনের ২২ ধারা লঙ্ঘন করে স্ত্রী, পুত্র, ভাই, মেয়ে জামাই, পুত্রবধূ ও ভাজিতাদের নামে শেয়ার কেনেন। ব্যাংকের ১১ জন পরিচালকের কাছ থেকে তিনি এ শেয়ার কিনেছেন।

এক্ষেত্রে ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য খারাপ করে পরিকল্পিতভাবে তিনি ছোট উদ্যোক্তাদের শেয়ার বিক্রি করতে বাধ্য করেছেন বলে অন্য পরিচালকরা অভিযোগ তুলেছেন। এনআরবি ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি করে দেয়া উদ্যোক্তারা হলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার একরামুল হক, ইতালি প্রবাসী ইদ্রিস ফরায়েজী ও জাহাঙ্গীর ফরায়েজী, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবদুল কাইয়ুম খালেক ও তার দুই ভাই, ড. কাজী মাহফুজুল হক, ড. উদ্দিন আহমেদ আফসার, ড. বদরুল আমিন সিদ্দিকী, রফিক মিয়া ও কানাডা প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বর্তমানে এনআরবি ব্যাংকে মাহতাবুর রহমানের স্ত্রী বাইজুন এন চৌধুরীর নামে ৩৪ লাখ ৯৯ হাজার ২০০ শেয়ার, পুত্র মোহাম্মদ ইমাদুর রহমানের নামে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৭ হাজার ২০০, ভাই মোহাম্মদ ওলীউর রহমানের নামে ৮০ লাখ, ভাতিজা মোহাম্মদ এহসানুর রহমানের নামে ২ কোটি ২৪ লাখ ৮ হাজার ৬৬৭ ও মোহাম্মদ আশফাকুর রহমানের নামে ১ কোটি ৬৩ লাখ ২৯ হাজার ১৩৩ শেয়ার রয়েছে।

সব মিলিয়ে ব্যাংকটিতে মাহতাবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের শেয়ারের পরিমাণ ২০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ গত ৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ১০১তম পর্ষদ সভায় উদ্যোক্তা পরিচালক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মরহুম ফজলুর রশিদ খানের শেয়ার অনিয়মের মাধ্যমে কিনে নেয়ার জন্য আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করে। এর প্রতিবাদে ব্যাংকের সাতজন পরিচালক নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন।

এ বিষয়ে এনআরবি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্য প্রবাসী ইকবাল আহমেদ ওবিই  বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাতৃভূমির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে ৪৬জন প্রবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এনআরবি ব্যাংক করার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু এরই মধ্যে আমাদের স্বপ্নের মৃত্যু হতে চলেছে। আমাদের স্বপ্নের ব্যাংকটি দুষ্ট লোকের খপ্পরে পড়েছে।

মাহতাবুর রহমান এনআরবি ব্যাংককে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে চান। গত চার বছর চেষ্টা করে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমরা ব্যর্থ হয়েছি। এজন্যই ব্যাংকিং খাতের অভিভাবক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আমরা বাধ্য হয়ে অভিযোগ দিয়েছি।

আশা করছি, আমরা ন্যায়বিচার পাব। ব্যাংকের আমানতকারীদের স্বার্থেই দ্রুততম সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

২০১৬ সালের আগস্ট থেকে এনআরবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন মো. মেহমুদ হোসেন। চার বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০১৯ সালের আগস্টে দ্বিতীয় মেয়াদে তাকে এমডি পদে নিয়োগ দেয়া হয়। অথচ গত ২৬ জুলাই ব্যাংকের ১০০তম পর্ষদ সভায় হঠাৎ করেই মেহমুদ হোসেনকে তিন মাসের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়।

যদিও এমডিকে ছুটিতে পাঠানোর বিরুদ্ধে ব্যাংকের সাতজন পরিচালক নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। এ পরিচালকদের অভিযোগ, অনিয়ম দুর্নীতি বৈধ করার জন্যই চেয়ারম্যান মাহতাবুর রহমান ব্যাংকের এমডিকে জোর করে ছুটিতে পাঠিয়েছেন।

নিয়ম লঙ্ঘন করে একতরফাভাবে তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে বলে  জানান এনআরবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মেহমুদ হোসেন। তিনি বলেন, ৩৬ বছরের ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে আমি কখনো অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত হইনি। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি নিয়েই দীর্ঘ এ সময়ে বেশ কয়েকটি ব্যাংকে দায়িত্ব পালন করেছি।

কিন্তু হঠাৎ করেই গত ২৬ জুলাই আমাকে তিন মাসের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ওই সময় আমি করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। এমন একটি সময়ে নিয়মবহির্ভূত ও একতরফাভাবে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি আমার জন্য সীমাহীন কষ্টের।

মেহমুদ হোসেন বলেন, ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীকে ছুটিতে পাঠানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি পূর্বনির্ধারিত আলোচ্যসূচি ছাড়াই পরিচালনা পর্ষদে তোলা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় আমাকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে, সেটি কোনো নিয়মেই পড়ে না। আমি কোনো অপরাধ করিনি। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ ব্যাপারে আমি ন্যায়বিচার পাব বলেই বিশ্বাস করি।

পরিচালকদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়, চলতি বছরের মার্চ থেকে ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির সব ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। ব্যাংকের যোগ্য কর্মীদের পদত্যাগে বাধ্য করে বিতর্কিত লোকদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

খেলাপি হয়েও চেয়ারম্যান পদে থাকা, স্বতন্ত্র পরিচালক পদে নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম, এনআরবি ব্যাংকের সম্পদকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহারসহ আরো বেশ কয়েকটি অভিযোগ এনে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫ ও ৪৯ ধারা অনুযায়ী এনআরবি ব্যাংকে হস্তক্ষেপ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরকে অনুরোধ করা হয়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫ ধারা অনুযায়ী, জনস্বার্থ, মুদ্রানীতি ও ব্যাংক নীতির উন্নতি বিধান, কোনো ব্যাংকের আমানতকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী ক্ষতিকর কার্যকলাপ প্রতিরোধ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করতে পারে। আর ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৯ ধারা অনুযায়ী, তফসিলভুক্ত ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ যে কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংককে দেয়া হয়েছে।

এ ধারা অনুযায়ী যে কোনো ব্যাংকের পর্ষদ বা যে কোনো কমিটিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে একজন কর্মকর্তাকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়ার সুযোগ রয়েছে। আইন প্রদত্ত এ ক্ষমতা ব্যবহার করে চতুর্থ প্রজন্মের ফারমার্স এবং এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সামগ্রিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেষ্টা করেও এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মাহতাবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার ব্যবহূত মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

বর্তমানে এনআরবি ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব পালন করছেন ব্যাংকটির এএমডি মামুন মাহমুদ শাহ। সামগ্রিক বিষয়ে জানতে চাইলে  তিনি বলেন, পরিচালকদের মধ্যে মতের অমিল থাকতে পারে। তবে ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে আমি কোনো সমস্যা মনে করছি না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে করা অভিযোগ সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই। ব্যাংকের এমডি মেহমুদ হোসেন অসুস্থ ছিলেন। এজন্য তার ছুটি বাড়ানো হয়েছে বলে শুনেছি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত চলমান রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান, তার ভাই মোহাম্মদ ওলীউর রহমান ও ছেলে মোহাম্মদ ইমাদুর রহমানের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। দেশের সবকয়টি ব্যাংককে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য বিএফআইইউতে পাঠাতে বলা হয়।

প্রকাশ : বণিক বার্তা।

আরও খবর
Loading...