এয়ারবাসের উড়োজাহাজের উপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপ

ইউরোপের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের উড়োজাহাজ আমদানিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) বাণিজ্য চুক্তিতে বাধ্য করতেই এ শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। এ ঘটনাকে দুঃখজনক বলছে এয়ারবাস। খবর: রয়টার্স।

গত অক্টোবরে ইউরোপীয় পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় ৭৫০ কোটি ডলারের পণ্যে শুল্ক বসানো হলেও আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সে তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এয়ারবাসের উড়োজাহাজ। ওই সময় বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর জানায়, তারা উড়োজাহাজ ছাড়া অন্যান্য পণ্যের ওপর আরোপ করা অতিরিক্ত শুল্কহার বজায় রাখবে। এছাড়া তারা এয়ারবাসকে দেওয়া ভর্তুকি কমিয়ে আনতে ইইউ’র প্রতি আহ্বান জানায়।

যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িং ও ফ্রান্সভিত্তিক নির্মাতা এয়ারবাসকে দেওয়া ভর্তুকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ’র মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তারা উভয়েই দাবি করছে, অপর পক্ষের এরকম সহায়তা প্রদান করা বৈধ নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণার পর একে দুঃখজনক বলে প্রতিবাদ জানিয়েছে এয়ারবাস। ইউরোপীয় কমিশনের পক্ষ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসকে অন্যায্য ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, এমন অভিযোগে ১৫ বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর অক্টোবরে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)। সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপের ৭৫০ কোটি ডলারের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের সুযোগ দেয়। যুক্তরাষ্ট্র এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ আমদানিতে ১০ শতাংশ এবং ফ্রান্সের মদ, ইতালির পনির, স্কটল্যান্ডের হুইস্কিসহ ইউরোপের দেশগুলোর বিভিন্ন কৃষিপণ্যে ২৫ ভাগ শুল্ক বসানোর ঘোষণা দেয়। পরে এয়ারবাসকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে ভালোভাবে নেয়নি ইইউ। ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী ব্রুনো ল্য ম্যার তখন বলেন, এ শুল্কেও কারণে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে।

ডব্লিউটিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেওয়া তাদের সিদ্ধান্তে জানায়, এয়ারবাসকে অবৈধভাবে কয়েকশ কোটি ডলারের ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। তারা প্রতিদ্বন্দ্বী উড়োজাহাজ নির্মাতা যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের বিপরীতে অন্যায্য সুবিধা ভোগ করেছে।

এয়ারবাসের নির্মাতা দেশগুলোর মধ্যে আছে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেন। তাদের ওপর ইউরোপের অন্য দেশগুলোর তুলনায় তাই বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে যন্ত্রপাতিসহ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করেনি যুক্তরাষ্ট্র।

চীনের পর ইইউভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ইইউ’র সঙ্গে আলোচনার ধীর গতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দৃশ্যত ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে, তাহলে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ তীব্রতর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও খবর
Loading...