NOVOAIR

কমেছে আয়: সরকারি প্রকল্পে ২৫% বরাদ্দ কমিয়েছে বেবিচক

এভিয়শন নিউজ ডেস্ক :

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে গত এপ্রিল ও মে মাসে দেশের সব বিমানবন্দরেই পুরোপুরি বন্ধ ছিল দেশী-বিদেশী এয়ারলাইনসের বাণিজ্যিক ফ্লাইটের কার্যক্রম। পরে ১ জুন থেকে সীমিত পরিসরে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হলেও অ্যারোনটিক্যাল ও নন-অ্যারোনটিক্যাল দুই খাতেই আয় কমেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক)। এ অবস্থায় স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকারি অর্থায়নে (জিওবি) চলমান সব প্রকল্পে ব্যয় বরাদ্দ ২৫ শতাংশ কমিয়ে এনেছে সংস্থাটি।

করোনাভাইরাসের কারণে বেবিচকের ক্ষতিসংক্রান্ত সর্বশেষ নথিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) সংস্থাটির রাজস্ব আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬০৫ কোটি ৩৬ লাখ ৭৫ হাজার ৭২৭ টাকা কম হয়েছে। ফলে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি দুই পন্থায় করোনার কারণে সৃষ্ট ক্ষতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে বেবিচক। এ কারণে স্বল্পমেয়াদে আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সংশ্লেষ নেই এবং অত্যাবশ্যকীয় নয় এমন দীর্ঘমেয়াদি নতুন উন্নয়ন প্রকল্প আপাতত হাতে নিচ্ছে না বেবিচক।

বর্তমানে বেবিচকের নিজস্ব অর্থায়নে বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো হচ্ছে বেবিচকের প্রধান কার্যালয় ভবন নির্মাণ প্রকল্প, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রকল্পের বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প, চট্টগ্রাম শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো টার্মিনাল ভবনের সম্মুখে কার্গো অ্যাপ্রোন নির্মাণ প্রকল্প, সৈয়দপুর, বরিশাল ও সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প কাজের পরামর্শক সেবা (ডিজাইন ফেইজ) প্রকল্প, ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদ্যমান এক্সপোর্ট কার্গো অ্যাপ্রোনের উত্তর দিকে অ্যাপ্রোন সম্প্রসারণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প, ৪৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেনারেল এভিয়েশন হ্যাঙ্গার, হ্যাঙ্গার অ্যাপ্রোন ও ফায়ার স্টেশনের উল্টো দিকে অ্যাপ্রোন নির্মাণ প্রকল্প এবং ২৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন নির্মাণ প্রকল্প। কভিডের কারণে আর্থিক ক্ষতি সামাল দিতে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২০-২১ অর্থবছরে চলমান এসব প্রকল্পে বরাদ্দ ২৫ শতাংশ কমিয়েছে বেবিচক।

এ প্রসঙ্গে বেবিচকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, দেশের বিমানবন্দরগুলো ব্যবহারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে এয়ারলাইনসগুলো থেকে চার্জ আদায় করে বেবিচক। এসব চার্জ বাবদ প্রতি মাসে ৯০ থেকে ১০০ কোটি টাকা আয় হতো বেবিচকের। কিন্তু মার্চ থেকে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হওয়ার পর বেবিচকের আয় কমতে শুরু করে। এ অবস্থায় সরকারি অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে শোভাবর্ধকসহ কম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নকাজ এবং অতিজরুরি না হলে বিদেশে প্রশিক্ষণ পরিহার করা হয়েছে। এছাড়া অত্যাবশ্যকীয় প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বিদেশ না গিয়ে অনলাইন বেজড কোর্সে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করেছে বেবিচক।

আরও খবর
Loading...