করোনাভাইরাসের প্রভাবে, চীনে কাঁকড়া রপ্তানি বন্ধ ! ক্ষতির মুখে চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

চীনে করোনাভাইরাসের প্রভাবে কাঁকড়া রপ্তানি বন্ধ থাকায় লোকসানের মুখে পড়েছেন কাঁকড়া চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

সময় মতো ঘের থেকে কাঁকড়া বিক্রি করতে না পারায় ঘেরেই মারা যাচ্ছে অনেক কাঁকড়া। এ অবস্থা চলতে থাকলে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন জেলার কাঁকড়া চাষি ও ব্যবসায়ীরা। কাঁকড়া রপ্তানি সমস্যা দূর করতে, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন চাষিরা।

দেশের দক্ষিণ, দক্ষিণ পশ্চিাঞ্চলে  খুলনা  বাগেরহাটে কয়েক হাজার কাঁকড়া ঘের রয়েছে। শরণখোলায় ছোট-বড় তিন শতাধিক কাঁকড়া ঘের রয়েছে। এসব ঘেরে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিকটন কাঁকড়া মজুত রয়েছে বলে চাষিরা জানিয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব কাঁকড়া রপ্তানি করা না গেলে অধিকাংশ কাঁকড়া ঘেরে মারা যাবে। এতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা চাষিদের।

উপজেলার বেশ কয়েকটি কাঁকড়া ঘেরে চাষি, জেলে ও শ্রমিকদের সাথে  কথা বলে জানাজায়, কাঁকড়া চাষের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে রয়েছেন জেলার কয়েক হাজার জেলে-শ্রমিক। কাঁকড়া রপ্তানি বন্ধ থাকায় তারা রয়েছেন চরম দুরবস্থায়। উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে রপ্তানিকারক, চাষি, জেলে, শ্রমিক সবাই হতাশ হয়ে পড়েছেন।

চাষিরা জানান, শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী, রায়েন্দা এবং ধানসাগর ইউনিয়নের সুন্দরবন সংলগ্ন ভোলা ও শ্যালা নদীসংলগ্ন লোকালয়ে মাটির বেড়ি ও বাঁশের পাটার ঘেরা দিয়ে দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে কাঁকড়ার চাষ হচ্ছে। জেলেদের মাধ্যমে সুন্দরবনসহ বিভিন্ন নদ-নদী থেকে ধরে আনা ছোট কাঁকড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে কিনে ঘেরে ছাড়া হয়। এরপর আড়াই থেকে তিন মাস ঘেরে কাঁকড়া লালন-পালন করা হয়।আড়াই  তিন মাসের মধ্যে কাঁকড়া পূর্ণাঙ্গ রূপ নেয়। এর মধ্যে বিক্রি না হলে এমনিতেই মরে যায়। কারণ মা কাঁকড়ার পেট ডিমে পরিপূর্ণ থাকে। এছাড়া পুরুষ কাঁকড়ার খোলস পরিবর্তনের সময় এসে যায়। ডিম ছাড়া এবং খোলস পরিবর্তনের সময় সমস্ত কাঁকড়া সাগর, নদ-নদীতে চলে যায়। বদ্ধ জায়গায় থাকার কারণে তারা মারা যায়।বিক্রি উপযোগী পূর্ণাঙ্গ কাঁকড়ায় পরিণত হতে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা খরচ পড়ে। এরপর পাইকারি ও রপ্তানিকারকদের কাছে বিক্রি করা হয়। বিগত বছরগুলোতে কাঁকড়া বিক্রি করে বেশ লাভবান হয়েছেন চাষিরা। কিন্তু এ বছর রপ্তানিতে হঠাৎ ধস নামায় পুরোটাই লোকসান গুণতে হবে তাদের। কাঁকড়া রপ্তানি সমস্যা দূর করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।

শরণখোলা উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় জানান, শরণখোলার চাষিরা সাধারণত ১০ থেকে ১৫ দিন কাঁকড়া ঘেরে রাখার পর বিক্রি করে থাকে। কিন্তু চাষিরা গত ডিসেম্বর থেকে ঘেরে কাঁকড়া ছাড়ার পর আর ধরতে পারছেন না। অধিক পরিমাণ কাঁকড়া দীর্ঘদিন ধরে ঘেরে থাকার কারণে ঘেরে কাঁকড়া মরার খবর আসছে।

করোনাভাইরাসের কারণে কাঁকড়া রপ্তানি বন্ধ থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি জানান। এ অবস্থায় ভিন্ন দেশে কাঁকড়ার বাজার খোঁজার পরামর্শ দেন এই মৎস্য কর্মকর্তা।

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ডা. মো. খালেদ কনক বলেন, ‘বাগেরহাটের শরণখোলায় সামান্য কয়েকটি ঘেরে কাঁকড়া মরার খবর আসছে। তবে  যে সব ঘেরে অধিক পরিমাণ কাঁকড়া মজুত রয়েছে তা অন্যত্র ছাড়ার পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা।

আরও খবর
Loading...