কাতার থেকে দেশে ফেরার অপেক্ষায় পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশি

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম দেশ কাতারও নিয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ মার্চ থেকে বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে যাত্রীবাহী বিমান চলাচল সাময়িক বন্ধ রয়েছে। ফলে কাতার থেকে দেশে ফিরতে পারছেন না প্রায় পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশি প্রবাসী।

বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে, কাতারে বসবাসরত পাঁচ শতাধিকের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক সেখান থেকে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা অপেক্ষা করছেন কবে নাগাদ কাতার সরকার দেশটিতে সব নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে। তাহলে তারা খুব দ্রুতই বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারবেন।

প্রায় তিন মাস ধরে চলা করোনার কারণে কাতারের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিভিন্ন কোম্পানি তাদের কর্মী ছাঁটাই করেছেন, যার মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। এ ছাড়া কথিত ফ্রি ভিসাধারী অনেকে আছেন, যাদের এখন একদম কাজ নেই বললেই চলে। তারাও ঘরে বসে নিরলস দিন কাটাচ্ছেন এবং একরুমে গাদাগাদি করে সাত থেকে আটজন থাকছেন, রয়েছে কিছুটা খাবার সংকটও।

এ ছাড়া করোনাভাইরাস আক্রমণের আগে বাংলাদেশ থেকে কাতারে আশা অনেক পর্যটক বর্তমানে অলস সময় পার করছেন। এদিকে বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে কাতার কারাগারে আছেন অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে অনেকের সাজার মেয়াদ শেষ। এখন বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন তারা।

এমন অবস্থায় স্বাভাবিক নিয়মে এবং প্রয়োজনে কাতার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সুস্থতার ছাড়পত্র নিয়ে বাংলাদেশে ফিরতে চান তারা। তবে পরবর্তী ঘোষণা না আশা পর্যন্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের ফিরে আশার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি বহাল রয়েছে।

কাতার থেকে প্রবাসীদের ফিরে যাওয়ার বিষয়ে কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ বলেন, ‘এই বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। প্রাথমিকভাবে কাতারের সার্চ অ্যান্ড ফলোআপ ডিপার্টমেন্টে বিভিন্ন অপরাধে আটককৃত বাংলাদেশি নাগরিক, সাজাপ্রাপ্ত আসামি, যারা আমিরি ক্ষমাপ্রাপ্ত, কাতারে ভ্রমণ ভিসায় এসে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিক এবং বিশেষ ক্ষেত্রে নারী ও শিশুদের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনা করা হচ্ছে।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বিশেষ ফ্লাইটের জন্য বিমান সংস্থা নির্বাচন করা দূতাবাসের এখতিয়ারভুক্ত নয়। তবে সরকার যদি বিশেষ ফ্লাইটের অনুমোদন দেয় তাহলে যাত্রীদের আর্থিক সাশ্রয় এবং যাত্রী সেবার মানের কথা বিবেচনায় আগ্রহী এয়ারলাইন্সের মধ্য থেকে বিশেষ ফ্লাইটের জন্য নির্বাচিত হবে।

তবে আটককৃত বাংলাদেশি নাগরিক এবং আমিরি ক্ষমাপ্রাপ্ত আসামিদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কাতার সরকারের পছন্দ প্রাধান্য পাবে। কারণ, তাদের বিমান খরচের ব্যবস্থা করবে কাতার সরকার।

এদিকে কাতার থেকে ঢাকায় একটি চ্যাটার্ড বিমান চালুর বিষয়ে কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসে চিঠি পাঠিয়েছেন প্রাইভেট বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।

এ বিষয়ে দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এ বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত বা আপডেট ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সকে সরাসরি জানানো হবে।’

কাতারের শ্রমবাজারে প্রায় চার লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন। বর্তমানে করোনাভাইরাসের থাবায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে প্রবাসীদের জীবন। ফলে বৈধ ভিসাধারী, কর্মহীন বিপুল বাংলাদেশি এখন দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন।

আরও খবর
Loading...