‘খেলছেন জানি, তারপরও নির্বাচনে যাচ্ছি’

‘খেলছেন জানি, তারপরও নির্বাচনে যাচ্ছি’

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে সরকারকে উদ্দেশ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন নির্বাচন খেলা করছেন জানি, তারপরও নির্বাচনে যাচ্ছি।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের (বিএসপিপি) উদ্যোগে পেশাজীবী সমাবেশে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, উন্নত চিকিৎসা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘নির্বাচন দিচ্ছেন, নির্বাচন নির্বাচন খেলা করছেন আমরা জানি। তারপরও আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি। কেন যাচ্ছি খুব পরিষ্কার করে বলেছি-আমরা এই নির্বাচনটাকে গণতন্ত্রের মুক্তির সংগ্রাম, দেশনেত্রীর মুক্তির সংগ্রামের একটি হাতিয়ার হিসেবে নির্বাচনে যাচ্ছি।’

আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে দলীয়ভাবে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের খুব দুঃখ নিয়ে বলেছেন, মির্জা ফখরুল যদি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন তবে আমি পারব না কেন! একশবার পারবেন, এই মুহূর্তে মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। আসেন একসঙ্গেই নির্বাচনী প্রচারণা করি। আইন বলে, মন্ত্রী ও এমপি থাকলে এটা পারবেন না। পদত্যাগ করে আসেন, আপনি নৌকা ও আমি ধানের শীষের জন্য প্রচারণা করি।’

তিনি বলেন, ‘আসুন, চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন। দেখা যাক জনগণ কার দিকে থাকে। আমরা এ কথা পরিষ্কারভাবে বলতে পারি ক্ষমতা থেকে নেমে আসুন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করুন। একটা নিরপেক্ষ সরকারকে বসিয়ে দিন। আপনারা জানেন এটা কোনোদিনই হবে না।’

‘আপনারা কৌশলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে মানুষকে বোকা বানিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থাই আপনারা রাখতে চান। তা হবে না, এদেশের মানুষ তা মেনে নেবে না।’

বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একদিনও দেরি না করে মুক্তি দিন। কারণ তার শরীর অত্যন্ত খারাপ হয়ে গেছে। তার অ্যাডভান্স সেন্টারে চিকিৎসা দরকার। বাংলাদেশে কোনো অ্যাডভান্স সেন্টার নেই। এজন্য তার পরিবার বলেছে আমরা তার চিকিৎসা করতে চাই।’

‘এ কোন অমানবিকতা? এটা কোনোভাবেই ভালো নজির হচ্ছে না। এই নজির সৃষ্টি করবেন না। খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে যে নির্বাচন করেছেন, সেটাকে বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করুন।’

খালেদা জিয়াকে বেআইনিভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করে রাখা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার এই প্রশ্ন তুলেছি যে, আইনে ও যে ধারায় সাজা দিয়েছেন, সেই আইনে ও ধারায় আপনারা অনেক লোককে জামিন দিয়েছেন। এই প্রশ্ন আমার বিচার বিভাগের কাছে, মাননীয় বিচারকদের কাছে। জনগণের আস্থা আপনাদের ওপর থাকার কথা। সব জায়গায় হেরে গেলে, সব জায়গায় নির্যাতিত ও নিপীড়িত হলে মানুষ বিচার বিভাগের কাছে যায়, বিচারকদের কাছে যায়, আশ্রয় পাওয়ার জন্য।’

‘কিন্তু কী দুর্ভাগ্য! আজ সেখান থেকেই সবেচেয়ে বেশি অন্যায় করা হচ্ছে এমন একজন নেত্রীর ওপর, যিনি এই দেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রাণের নেত্রী। দুর্ভাগ্য! ১৯৭১ সালে যে চেতনাকে কেন্দ্র করে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম…একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, একটি গণতন্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। সেই স্বপ্নকে সেই আশাকে ভেঙে তছনছ করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ভিন্ন মোড়কে কায়েম করেছে।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আজকে উৎসব পালন করেছেন খুব ভালো কথা। কিন্তু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে উৎসব পালন করা হচ্ছে। সুতরাং এই উৎসবে দেশের মানুষের হৃদয় কতটুকু থাকবে সেটা একবার চিন্তা করে দেখা দরকার আছে। দেশের বেশিরভাগ মানুষকে অস্বস্তিতে রেখে, একটা দুরবস্থায় রেখে এই উৎসব কতটুকু সফল হবে সেটা ভেবে দেখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অত্যন্ত প্রভাবশালী মানুষ। তিনিও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামও করেছেন অনেকদিন। তিনি বলেছেন, বেগম জিয়া এমন কোনো অসুস্থ নন যে তাকে চিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠাতে হবে। এটা অন্যায়, আপনার কাছ থেকে এই ধরনের কথা আশা করি না। একজন রাজনৈতিক নেত্রীর চিকিৎসার জন্য আপানার সঠিক কথা বলুন।’

সরকারের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এখন আপনাদের কোর্টে বল, এখন আর আদালতের কোর্টে বল নেই, বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের যেকোনো অবনতির দায়-দায়িত্ব সব আপনাদের। যদি বেগম খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হয়, তাহলে সম্পূর্ণভাবে আপনাদের দায়ী থাকতে হবে।’

‘আমরা খুব পরিষ্কার করে বলছি, বারবার বলেছিলাম, এখনও বলছি-সময় থাকতে দেয়ালের লিখন পড়ুন, মানুষের চোখের ভাষা দেখুন। মানুষের কথা বোঝার চেষ্টা করুন। এভাবে দখল করে, জোর করে দাবিয়ে রেখে, গুলি করে, গুম করে চিরদিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না।’

বিএনপির মহাসচিব সরকারের উদ্দেশে আরও বলেন, ‘আপনাদের শেখ মুজিবুর রহমানের কথাটাই স্মরণ করিয়ে দিতে চাই- দাবায়ে রাখতে পারবা না। মানুষকে দাবায়ে রাখা যাবে না। বাংলার মানুষকে কখনোই দাবিয়ে রাখা যায়নি।’

আরও খবর
Loading...