গ্রাউন্ডেট বাংলাদেশ বিমানের সেই পাইলট ক্যাপ্টেন মুনতাসিরকে

ফ্লাইট সেফটি বিভাগ থেকে নতুন অফিস আদেশ জারি

গ্রাউন্ডেট করা হয়েছে বাংলাদেশ বিমানের সেই পাইলট ক্যাপ্টেন মুনতাসিরকে। মঙ্গলবার তাকে গ্রাউন্ডেট করা হয়। মুনতাসিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি গত ১৫ ফেব্রুয়ারী টেকঅপ হোল্ড থাকার পরও বিমানের ফ্লাইট নিয়ে রানওয়েতে গিয়েছিলেন এবং ঝুকিপুর্ণ ভাবে ফ্লাইট টেকঅপ করিয়েছিলেন।

এদিকে মুনতাসিরের এই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিমানের ফ্লাইট অপারেশন, ফ্লাইট সেফটি বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এই কারণে ফ্লাইট সেফটি বিভাগ থেকে নতুন অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে । সব ককপিট ক্রুদের এখন থেকে এই নিয়ম মানতে হবে। এই আদেশে বলা হয়েছে এখন থেকে ফ্লাইটে এবং ফ্লাইটের বাইরে সিকিউিরিট এবং সেফটি সংক্রান্ত সব তথ্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের জানাতে হবে। কেউ যদি কোন কারণে না জানায় তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ডেপুটি চীফ অব ফ্লাইট সেফটি ক্যাপ্টেন তাপস আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই আদেশ দেয়া হয়েছে।

অভিযোগ মুনতাসিরের এই দুর্ঘটনার বিষয়টি তারা জেনেও বিষয়টি শীর্ষ ম্যানেজমেন্টকে অবহিত করেননি। এমনকি ঘটনার ৯ দিন পার হয়ে গেলেও মুনতাসিরের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেননি। অভিযোগ আছে বিমানের ফ্লাইট অপারেশন বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন শাখার শীর্ষ কর্মকর্তাদের বেশিরভাগ শীর্ষ কর্মকর্তা বোায়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজের পাইলট। মুনতাসিরও এই উড়োজাহাজের পাইলট।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারী  ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুটি উড়োজাহাজ অল্পের জন্য সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। ইউএস-বাংলা পাইলটদের দক্ষতায় দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান ৩০০ যাত্রী।

এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করেছে সিভিল এভিয়েশন। বুধবার কমিটির প্রতিবেদন দেয়ার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে সিভিল এভিয়েশন চেয়ারম্যান মো. মফিদুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত ট্রাফিকের কারণে ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে আমার ধারণা। এ ধরনের ঘটনা স্বাভাবিক নয় এবং কাঙ্ক্ষিতও নয়। এক্ষেত্রে পাইলট নাকি কন্ট্রোলারের ভুল ছিল তা দেখা হচ্ছে। তদন্ত হচ্ছে, রিপোর্ট আসুক। তদন্ত প্রতিবেদন দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার জন্য রানওয়েতে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। বোয়িং-৭৩৭ মডেলের প্লেনটির পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন মুনতাসির ও ফার্স্ট অফিসার তানজিন। একই সময় ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইট একই রানওয়েতে অবতরণের চেষ্টা করছিল।

ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের কাছ থেকে অবতরণের অনুমতি পেয়ে ইউএস-বাংলার বিমানটি নিচে নামতে নামতে রানওয়ে থেকে প্রায় ১ হাজার ফুট উচ্চতায় আসে। তখন ইউএস-বাংলার পাইলট রানওয়েতে বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইটটি দেখতে পান। পাইলট তৎক্ষণাৎ নিজ সিদ্ধান্তে নিচে না নেমে প্লেনটি উড়িয়ে অন্যত্র চলে যান।

বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয় শাহজালালে। একে অন্যের ওপর দোষারোপ করে বিমান ও শাহজালালের ট্রাফিক কন্ট্রোল।

সিভিল এভিয়েশন সূত্র জানায়, সেদিন অতিরিক্ত ফ্লাইট উড্ডয়ন-অবতরণের চাপ ছিল। এ কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে।

ঘটনার ৯ দিনেও কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, ‘তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এদিকে এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ওই সময়কার কর্তব্যরত ট্রাফিক কন্ট্রোল অফিসার এবং পাইলটদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সূত্র।

আরও খবর
Loading...