ঘুম কম-বেশি হলে যে রোগ হয় ফুসফুসে

ঘুম কম-বেশি হলে যে রোগ হয় ফুসফুসে।

সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় পাওয়া গেছে, যেসব লোক নিয়মিত ১১ ঘণ্টার বেশি অথবা ৪ ঘণ্টার কম সময় ঘুমান তাদের অনিরাময়যোগ্য ফুসফুস রোগ পালমোনারি ফাইব্রোসিসে ভোগার ঝুঁকি বেশি।

এ গবেষণাটি প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসে প্রকাশিত হয়। গবেষকরা বায়োলজিক্যাল ক্লক বা দেহঘড়ির সঙ্গে ফুসফুস রোগের যোগসূত্র আছে বলে মত জানিয়েছেন। এ গবেষণা এটা সাজেস্ট করছে যে, দেহঘড়ির দিকে মনোযোগ দিয়ে পালমোনারি ফাইব্রোসিসের মতো মারাত্মক ফুসফুস রোগের ঝুঁকি কমানো যাবে।

যুক্তরাজ্যের দ্য ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটসে কর্মরত এ গবেষণার প্রধান লেখক জন ব্লেকলি বলেন, ‘পালমোনারি ফাইব্রোসিস হচ্ছে ফুসফুসের একটি ধ্বংসাত্মক রোগ, যার নিরাময় বর্তমানে নেই। কিন্তু আমাদের এ গবেষণা আশাবাদী করেছে যে, দেহঘড়ির সঙ্গে পালমোনারি ফাইব্রোসিসের যোগসূত্র ভবিষ্যতে এ রোগের চিকিৎসা উদ্ভাবন অথবা প্রতিরোধে নতুন পথ দেখাবে।’

তিনি আরো জানান, ‘পালমোনারি ফাইব্রোসিস ও ঘুমের স্থায়িত্বের মধ্যে এ যোগসূত্রের প্রকৃত কারণ বুঝতে অথবা এটার ওপর ভিত্তি করে কার্যকর চিকিৎসা উদ্ভাবন করতে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। আরো গবেষণার ফলাফল দেখে আমরা নিশ্চিত হতে পারব যে প্রতিদিন কি পরিমাণে ঘুমালে এ বিধ্বংসী রোগের প্রভাব কমানো যাবে।’

আমাদের অভ্যন্তরীণ দেহঘড়ি ২৪ ঘন্টার চক্রে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় মানব শরীরের প্রায় প্রত্যেক কোষকে নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন- ঘুম, হরমোন নিঃসরণ ও বিপাক। এ ঘড়ির প্রধান অবস্থান হচ্ছে এয়ারওয়েতে। কিন্তু এ গবেষণায় দেখা গেছে যে, পালমোনারি ফাইব্রোসিসের রোগীদের দেহঘড়ির আবর্তন অ্যালভিওলাই নামক ছোট এয়ার স্পেসেও ছড়িয়ে পড়ে। ইঁদুরের ওপর পরিচালিত গবেষণায় পাওয়া গেছে, দেহঘড়ির মেকানিজমের এ পরিবর্তনে ফাইব্রোটিক প্রসেস ব্যাহত হতে পারে- যার ফলে পালমোনারি ফাইব্রোসিসের ঝুঁকি উপরের দিকে ওঠতে পারে। তারপর গবেষকরা ইউকে বায়োব্যাংকের মানব উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তে আসেন যে, অত্যধিক ঘুম ও অত্যল্প ঘুম উভয়ের সঙ্গে পালমোনারি ফাইব্রোসিসের যোগসূত্র রয়েছে।

ঘুমের স্থায়িত্ব ও পালমোনারি ফাইব্রোসিসের মধ্যকার যোগসূত্র এ রোগের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ের মতো সমান শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে। যেসব লোক নিয়মিত ৪ ঘণ্টা বা এর কম সময় ও ১১ ঘণ্টা বা এর বেশি সময় ঘুমিয়েছেন তাদের পালমোনারি ফাইব্রোসিসের ঝুঁকি প্রতিদিন ৭ ঘন্টা ঘুমিয়েছেন এমন লোকদের তুলনায় যথাক্রমে দ্বিগুণ ও তিনগুণ বেশি ছিল। গবেষণার এ ফল এটা বলছে যে, কম ঘুমের চেয়ে বেশি ঘুমে পালমোনারি ফাইব্রোসিসের ঝুঁকি বেশি। এছাড়া যারা বেশি রাত জাগেন অথবা শিফট ভিত্তিক কাজ করেন তাদেরও এ বিধ্বংসী রোগের বাড়তি ঝুঁকি রয়েছে।

আরও খবর
Loading...