চট্টগ্রামে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরু

ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ পাসপোর্ট অফিসে। সোমবার সকাল থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়। তবে রোববার বিকালে আবেদনপত্র জমা নেয়ার মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের উপ-পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ নুরুল আলম।

এর আগে গত ২৩শে মার্চ নগরীর মনসুরাবাদ কার্যালয়ে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরু করা হয়। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ২৫শে মার্চ সাধারণ ছুটির আওতায় সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি অফিস খুলে দেয়ার পর থেকে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম গতি পায় বলে জানান পাঁচলাইশ পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মাসুম হাসান। তিনি বলেন, ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও নতুন করে এমআরপি দেয়া হবে না। নতুন সব আবেদনকারীকেই দেয়া হবে ই-পাসপোর্ট।

অফলাইনে পিডিএফ আবেদন ফরম ডাউনলোড করে কমিপউটারে সেটা সরাসরি পূরণ করতে হবে। পূরণ করা ফরম প্রিন্ট করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ (যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র, পুরাতন পাসপোর্ট (যদি থাকে), প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রমাণ) পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। হাতে লেখা কোনো আবেদন গৃহীত হবে না। অনলাইন আবেদনের ফি পরিশোধের জন্য ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ ও অন্যান্য অপশন মিলবে।
এ ছাড়া নির্ধারিত ব্যাংকে ফি পরিশোধের সুযোগও রয়েছে। ব্যাংকে ফি পরিশোধের সময় পাসপোর্ট আবেদনপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। এরপর ছবি ও ফিঙ্গার প্রিন্টের জন্য পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। প্রিন্টেড আবেদন, পেমেন্ট স্লিপ, জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মসনদ, সর্বশেষ পুরোনা পাসপোর্ট (যদি থাকে) এবং অন্যান্য কাগজপত্র (যেটি আপনি সহায়ক মনে করেন) সঙ্গে রাখতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট তারিখে পাসপোর্ট অফিস থেকে আবেদনকারীকে সশরীরে ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে। পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় আবেদনকারীর ফিঙ্গার প্রিন্টের সঙ্গে এনরোলমেন্টের ফিঙ্গার প্রিন্টের মিল আছে কিনা পরীক্ষা করা হবে।
পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় ডেলিভারি স্লিপ বা রসিদ এবং সর্বশেষ পুরনো পাসপোর্ট (যদি থাকে) সঙ্গে আনতে হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে উপযুক্ত বাহকের কাছে পাসপোর্ট দেয়া হতে পারে। যেমন ১১ বছরের কম বয়সী সন্তানের পিতামাতা/বৈধ অভিভাবক নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র, আবেদনকৃত পাসপোর্ট ডেলিভারি স্লিপ/রসিদ ও পূর্বের পাসপোর্ট (যদি থাকে) প্রদর্শন সাপেক্ষে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন। অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে ক্ষমতা হস্তান্তরপত্র, আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, পুরাতন পাসপোর্ট (যদি থাকে) এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র, পুরাতন পাসপোর্ট (যদি থাকে) যাচাইসাপেক্ষে পাসপোর্ট দেয়া হতে পারে।
মাসুম হাসান জানান, ৫ বছর মেয়াদি ৪৮ পাতার পাসপোর্ট স্বাভাবিক সময়ে ২১ কার্যদিবসে পেতে ৪ হাজার ২৫ টাকা। ১০ কর্মদিবসে পেতে ৬ হাজার ৩২৫ টাকা এবং দুই কর্মদিবসে পেতে ৮ হাজার ৬২৫ টাকা জমা দিতে হবে। ১০ বছর মেয়াদি ৪৮ পাতার পাসপোর্ট ২১ কর্মদিবসে ৫ হাজার ৭৫০ টাকা, ১০ কর্মদিবসে ৮ হাজার ৫০ টাকা এবং দুই কর্মদিবসে পেতে ১০ হাজার ৩৫০ টাকা জমা দিতে হবে।

ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন সনদ অনুযায়ী পূরণ করতে হবে।

১৮ বছরের কম আবেদনকারী যার এনআইডি নেই, তার পিতা-মাতার এনআইডি নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রয়োজন হবে। অতি জরুরি ক্ষেত্রে ই-পাসপোর্ট করার জন্য প্রি-পুলিশ ভেরিফিকেশন নিজ উদ্যোগে করে নিয়ে যেতে হবে। প্রচলিত ব্যবস্থার মতো ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ভিসার বিষয়টি একই থাকবে। ভিসা কর্তৃপক্ষ বা দূতাবাসগুলো এই পিকেডি ব্যবহার করে আবেদনকারীর তথ্য যাচাই করে নিতে পারবে। এরপর বইয়ের পাতায় ভিসা স্টিকার, সিল দিতে পারবে বা বাতিল করে দিতে পারবে।

সূত্রমতে, বিশ্বের সব উন্নত দেশেই এখন ই-পাসপোর্ট চলছে। এতে সুবিধাও অনেক। ই-পাসপোর্টের মাধ্যমে ই-গেট ব্যবহার করে খুব দ্রুত ও সহজে ভ্রমণকারীরা যাতায়াত করতে পারবেন। ফলে বিভিন্ন বিমানবন্দরে ভিসা চেকিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না।

এর মাধ্যমে ইমিগ্রেশন দ্রুত হয়ে যাবে। ই-গেটের নির্দিষ্ট স্থানে পাসপোর্ট রেখে দাঁড়ালে ক্যামেরা ছবি তুলে নেবে। থাকবে ফিঙ্গার প্রিন্ট যাচাইয়ের ব্যবস্থাও। সব ঠিক থাকলে তিনি ইমিগ্রেশন পেরিয়ে যেতে পারবেন। কোনো গরমিল থাকলে জ্বলে উঠবে লালবাতি। কারও বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকলে, সেটিও জানা যাবে সঙ্গে সঙ্গে।

আরও খবর
Loading...