ড্রিমলাইনার বিমানের পরিচালনায় ১০ বিদেশী পাইলট নিয়োগ

ড্রিমলাইনার বিমানের পরিচালনায় ১০ বিদেশী পাইলট নিয়োগ।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে আধুনিক প্রযুক্তির বোয়িং ড্রিমলাইনার থাকলেও সেগুলো পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ ও দক্ষ পাইলট নেই। যার কারণে উপায় না পেয়ে উচ্চ বেতন আর সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বিদেশী ১০ পাইলটকে সম্প্রতি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ম্যানেজমেন্ট থেকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না নেয়ার কারণে ককপিট ও কেবিন ক্রু পদের পাইলট সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

বলাকা ভবন সূত্রে জানা গেছে, বিমানের বহরে নতুন প্রজন্মের ছয়টি ড্রিমলাইনার (বোয়িং-৭৮৭-৮০০ এবং ৭৮৭-৯০০ মডেল) উড়োজাহাজ ধাপে ধাপে বহরে যোগ হয়েছে। সর্বশেষ গত ৫ জানুয়ারি ৭৮৭-৯০০ মডেলের অত্যাধুনিক ড্রিমলাইনার দিয়ে ঢাকা-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট অপারেশন শুরু করে। এর আগে আরও পাঁচটি এয়ারক্র্যাফট দিয়ে ফ্লাইট চালু করলেও এসব বোয়িং চালানোর জন্য পর্যাপ্ত এবং অভিজ্ঞ পাইলট বিমানে নেই। বর্তমানে ঢাকা-লন্ডন-ঢাকা, ঢাকা-ম্যানচেস্টার-সিলেট-ঢাকা, ঢাকা-দোহা-ঢাকা, কুয়েত, দাম্মাম, রিয়াদসহ বিভিন্ন রুটে ছয়টি ড্রিমলাইনার দিয়ে ফ্লাইট চলাচল করছে।

বিমানের বহরে বিদেশী ১০ পাইলট নিয়োগ দেয়া প্রসঙ্গে বলাকা ভবন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র গতকাল নাম না প্রকাশের শর্তে অভিযোগ করে বলেন, বিমানের বহরে নতুন নতুন এয়ারক্র্যাফট বাড়লেও সেইভাবে ককপিট এবং কেবিন ক্রু তৈরি করা হযনি। বহরে এয়ারক্র্যাফট বাড়লেও পাইলট স্বল্পতার কারণে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে বিদেশ থেকে উচ্চ বেতনে ১০ জন বিদেশী ককপিট ক্রু নিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে তাদের নিয়োগ কার্যকর হয়েছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, বিমানের ম্যানেজমেন্টে যারা আছেন, তাদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে অদুরদর্শিতার অভাব রয়েছে জানিয়ে তারা বলেন, নিয়ম হচ্ছে আগামী পাঁচ বছর বিমানের বহরে মোট কতগুলো রুট বাড়বে, কয়টা নতুন অথবা লিজ এয়ারক্র্যাফট যোগ হতে পারে এগুলোর একটা এসেসমেন্ট আগে ভাগে করতে হয়। এর জন্য কতজন পাইলট কেবিন ক্রু দরকার সেটির ধারণা থাকতে হবে। পরিকল্পনা না নেয়ার কারণে এখন আমাদের বহরে অত্যাধুনিক ড্রিমলাইনার (বোয়িং-৭৮৭-৮০০) চারটি এবং ৭৮৭-৯০০ দু’টি যোগ হলেও ক্রু সঙ্কট দেখা দিয়েছে। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, শোনা যাচ্ছে বিদেশী একজন পাইলটের বেতন ধরা হয়েছে প্রায় ১৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে গুলশান ২ নম্বরের একটি তিন তারকা মানের হোটেলে।
উল্লেখ্য, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে বর্তমানে মোট ১৮টি এয়ারক্র্যাফট রয়েছে। এর মধ্যে নিজস্ব উড়োজাহাজ ১২টি আর ড্যাশ-৮ দু’টিসহ ছয়টি লিজের।

এ দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ককপিট ক্রু শিডিউলার পদের পাইলট মনজু গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর অবসরে গেছেন। পরে পাইলট সঙ্কট থাকায় কর্তৃপক্ষ তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি ফ্লাইট পরিচালনা করলেও গতকাল শনিবার পর্যন্ত পাইলটদের ডিউটি বণ্টনের দায়িত্ব পালনকারী ককপিট ক্রু শিডিউলার পদটি এখনো শূন্যে রয়েছে।
গতকাল শনিবার রাত সোয়া ৮টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো: সোকাব্বির হোসেন টেলিফোন করে বলেন, পাইলট সঙ্কটের কারণে আমরা বিদেশী পাইলট নিয়োগ দিয়েছি। তবে সংখ্যাটা ১০ জনের বেশি হতে পারে। সেটি পরে দেখে বলতে হবে। এর মধ্যে কারো দুই মাস বা কারো চার মাস মেয়াদ আছে। বিদেশী পাইলটদের বেতন দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি আমরা ডিসক্লোজ করতে চাচ্ছি না।

ফ্লাইট অপারেশন বিভাগে ককপিট ক্রু শিডিউলার পদটি শূন্যে থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি দেশে ছিলাম না। এই পদটি সেনসিটিভ। তাই বুঝেশুনে দিতে হবে বলে জানান তিনি।

নয়া দিগন্ত

আরও খবর
Loading...