ঢাকা রুটে ফ্লাইট কমালো চায়না ইস্টার্ন, বন্ধের পথে সাউদার্ন

করোনাভাইরাসের কারণে যাত্রী সংকট চরমে

নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে (কোভিড-১৯) যাত্রী সংকট দেখা দেয়ায় ঢাকা রুটে ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স। একই কারণে ঢাকা রুটের ফ্লাইট বন্ধই করে দিতে চলেছে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স। প্রতিষ্ঠান দু’টির ঢাকা কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও দুই ট্যুর অপারেটর ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

চায়না সাউদার্নের বিষয়ে সূত্র জানায়, আগে সপ্তাহে সাত দিন ফ্লাইট চালিয়ে আসছিল সাউদার্ন। চীনে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে ফেব্রুয়ারির শুরুতে ফ্লাইট সীমিত করে ফেলে এয়ারলাইন্সটি। তবে বর্তমানে ঢাকা-গুয়াংজু রুটে (সপ্তাহে) তাদের একটিমাত্র ফ্লাইট (মঙ্গলবার) চলাচল করছে। এ ফ্লাইটও যায় ফাঁকা। তাই যে কোনো সময় এ ফ্লাইটও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

চায়না সাউদার্নের ফ্লাইটে বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা ঢাকা থেকে গুয়াংজু ছাড়াও কানেক্টিং ফ্লাইটের মাধ্যমে চীনের বেইজিং, কুনমিং, সাংহাই, সেনজেন, হাংজুতে যেতেন। এছাড়া বাংলাদেশ থেকেও অনেকে চায়না সাউদার্নের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডাসহ উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করতেন।

এয়ারলাইন্সটির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসের কারণে যাত্রী সংকট দেখা দিলে ফেব্রুয়ারিতে সপ্তাহে সাত ফ্লাইট থেকে কমিয়ে চার ফ্লাইটে আনে চায়না সাউদার্ন। প্রতিষ্ঠানটি এই রুটে আগে এয়ারবাস এ-৩৩০ মডেলের এয়ারক্রাফট চালাত। এতে আসন ছিল ২৮০টি। ফ্লাইট সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি বিমানের আকারও ছোট করে তারা। কয়েকদিন আগে তারা বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফটও চালিয়েছিল, যার আসনসংখ্যা ছিল ১৭৪। এখন এয়ারলাইন্সটি একেবারে ফ্লাইটই বন্ধ করে দিতে চলেছে।

এ বিষয়ে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের বাংলাদেশ কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে চায়না ইস্টার্নের ব্যাপারে জানা যায়, এয়ারলাইন্সটি আগে ঢাকা-কুনমিং রুটে সপ্তাহে সাতটি ফ্লাইট পরিচালনা করতো। এ সংখ্যা কমিয়ে এখন তিনটি ফ্লাইট চালাচ্ছে তারা। রোববার, সোমবার ও মঙ্গলবার চলছে এ ফ্লাইট।

এ বিষয়ে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সেরও বাংলাদেশ কার্যালয়ের কারও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য মেলেনি।

এ ব্যাপারে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ উল-আহসান  বলেন, চায়না সাউদার্নের ফ্লাইট বন্ধের পথে। চায়না ইস্টার্নও ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়েছে। বর্তমানে চায়না ইস্টার্নের পাশাপাশি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ-চীন রুটে সীমিত আকারে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ঢাকা-গুয়াংজু রুটে ইউএস-বাংলার বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের এয়ারক্রাফটি আগে সপ্তাহে সাত দিন চলাচল করলেও এই সংখ্যা কমিয়ে তিন ফ্লাইট করা হয়েছে।

এর বাইরে ক্যাথে ড্রাগন (ড্রাগন এয়ার) হংকং হয়ে চীনের বেশ কয়েকটি শহরে ঢাকা থেকে ফ্লাইট চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম  বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে চীন রুটে যাত্রী অনেকটাই কমেছে। তবে বাংলাদেশি অনেকেই এখনো দেশে ফিরছেন। তাদের স্বার্থে আগের মতো সপ্তাহে তিন দিন ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রাখবে ইউএস-বাংলা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনেক এয়ারলাইন্সই চীন রুটের সরাসরি ফ্লাইট স্থগিত করছে। তবে বাংলাদেশের তরফ থেকে এখনো এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন বলছে, উহান শহর থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর সৃষ্ট বিপর্যয়ের কারণে ইন্দোনেশিয়ার লায়ন এয়ার, আমেরিকান এয়ারলাইন্স, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, দক্ষিণ কোরিয়ার এয়ার সিউল এয়ারলাইন্স, এয়ার এশিয়া, এয়ার কানাডা, আমেরিকান ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, ক্যাথে প্যাসিফিক, জার্মানির লুফথানসা ও ফিনএয়ার চীন রুটে ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে।

এদিকে করোনাভাইরাসের প্রভাবে কেবল চীনই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও ঘুরতে যাওয়া লোকের সংখ্যা প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে। ট্যুর অপারেটররা বলছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্কে অনেকে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার, ভুটান, ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোতেও ঘুরতে যাচ্ছেন না। কেউ কেউ আগে কেটে রাখা টিকেটও বাতিল করছেন।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চীনেই মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৯১২ জন। বর্তমানে চীনসহ বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।

ভাইরাসের ভয়াবহতায় চীনা নাগরিক এমনকি চীন থেকে আগত যাত্রীদের ঢুকতে দিচ্ছে না অনেক দেশই। বিশ্বের প্রায় সব দেশ এ ভাইরাস ঠেকাতে স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরে বসিয়েছে স্ক্রিনিং মেশিন। বাংলাদেশেও এমন স্ক্রিনিং কার্যক্রম নেয়া হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ উল-আহসান  বলেন, প্রতিটি ফ্লাইটে আগত যাত্রীদের স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া চীন থেকে আগত যাত্রী ও ক্রুদের বোর্ডিং ব্রিজ থেকে পৃথক গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করিয়ে আলাদাভাবে স্ক্রিনিং করানো হচ্ছে।

আরও খবর
Loading...