ঢাকা শেয়ার বাজারে দ্বিতীয় দিনের মত অব্যাহত দরপতন বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা

ঢাকা শেয়ার বাজারে  দ্বিতীয় দিন অব্যাহত দরপতনে বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা।

ঢাকা শেয়ারবাজারে  আজও (মঙ্গলবার) বড় আকারের দরপতন অব্যাহত ছিলো। সোমবার সূচক ৮৮ পয়েন্ট কমার পর আজ দ্বিতীয় দিনের মতো সূচক কমেছে ৮৭.২৪ পয়েন্ট।  আজ দাম কমার শীর্ষে ছিলো এসএস স্টিল লিমিটেড, আলহাজ্ব টেক্সটাইল, গোল্ডেন হার্ভেস্ট ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের।

এই দরপতনে বিক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারিরা  দুপুরে মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে মানববন্ধন করেন ।অবশ্য গত সপ্তাহেও কয়েকজন বিনিয়োগকারীকে মুখে কালো কাপড় বেধে বিক্ষোভ করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে। বাংলাদেশে ১৯৯৬ এবং ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন হলে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদে ফেটে পড়েন বিনিয়োগকারীরা।

এই দরপতন আকস্মিক নয়। ২০১০ সালের পর থেকেই খুব ধীরে এই দরপতন হচ্ছিল যেটাকে তারা বলছেন ‘স্লো পয়জনিং’।বিশ্লেষক ও কোন কোন বিনিয়োগকারীর চচিল। ২০১৫ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মূল্যসূচক সর্বশেষ এত নিচে নেমেছিল। তখন সূচক ছিল ৪ হাজার ১২২ পয়েন্ট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক এবং পূঁজি-বাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক শাহাদত হোসেন সিদ্দিক বলছিলেন, সূচক কমার পিছনে দুইটি কারণ কাজ করছে। “প্রথমত এখন বেসরকারি বিনিয়োগ হচ্ছে না। আর দ্বিতীয় কারণ হল, এই মার্কেটের উপর মানুষের আস্থা চলে যাচ্ছে। সেই আস্থা ফিরিয়ে আনার কোন চেষ্টা করা হচ্ছে না”।

পূঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলছেন, “আজ পর্যন্ত যা অবস্থা তাতে আশার কোন আলো দেখা যাচ্ছে না”। তিনি বলেন, এই অবস্থা হওয়ার আগেই পলিসি সাপোর্ট দেয়া উচিত ছিল। বাংলাদেশে পলিসি মেকিং-এর সার্কেলে অমনযোগিতার বিষয় আছে। বিদেশি বিনিয়োগ আনা বা রাখার ব্যাপারে তাদের আগ্রহের ঘাটতি আছে ”। তিনি বলেন, এই ক্ষেত্রে পূঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাছাড়া বিদেশী বিনিয়োগ বাজারে না থাকাটাকে আরেকটা কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন বিনিয়োগকারীরা।

এর সভাপতি মিজানুর রশিদ চৌধুরী, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) পুনর্গঠনের দাবি জানান।

এদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি’র সাথে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা জানান, সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পাঁচ সদস্যের কমিটি করেছে সরকার।

সেই কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালক, এসইসি’র একজন নির্বাহী পরিচালক এবং ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকবেন বলে এই কর্মকর্তা জানান।

আরও খবর
Loading...