NOVOAIR

তদন্তকারীরা ইন্দোনেশিয়ার বিমান বিধ্বস্তের কারণ জানালেন

ইন্দোনেশিয়ার যাত্রীবাহী বিমান অটোথ্রোটলেটের জটিলতার কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জানা গেছে। অটোথ্রোটলেট হলো বিমান ইঞ্জিনের পাওয়ার নিয়ন্ত্রণ সিস্টেম।

বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি ) ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি কমিশন প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

গত ৯ জানুয়ারি জাভা সাগরে শ্রীবিজয়া এয়ারের এসজি ১৮২ ফ্লাইট ডুবে যায়। এতে থাকা ক্রুসহ ৬২ আরোহী নিহত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অটোথ্রোটলেট যার দ্বারা ইঞ্জিনের ক্ষমতাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বিমানের দুটি অটোথ্রোটলেটেই ত্রুটি পাওয়া গেছে। বিমান দুর্ঘটনার জন্য ওই সিস্টেমে ত্রুটি থাকাকে দায়ী করা হয়।

এয়ার সেফটি ইনভেস্টিগেটর নুরচাহয়ো উটোমো বলেন, ফ্লাইটের ডাটা রেকর্ডারের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি যখন ৮ হাজার ১৫০ থেকে ১০ হাজার ৬০০ ফিট উচ্চতায় পৌঁছায় তখন সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেয়। বিমানটি ৮ হাজার ১৫০ ফুট উপরে উঠার পর বাম ইঞ্জিনের থ্রাস্ট লেভার পেছনের দিকে চলে যায়। যার কারণে বিমানের শক্তি কমে যায়। ওই সময় ডান পাশের ইঞ্জিনের থ্রাস্ট লেভার স্থির ছিল। থ্রাস্ট লেভার হলো বিমানের শক্তি নিয়ন্ত্রণ সিস্টেম।

বিমানটি যখন ১০ হাজার ৬০০ফুট উচ্চতায় পৌঁছায় তখন একই ঘটনা ঘটে। তখন বাম ইঞ্জিনের থ্রাস্ট লেভারটি বাম দিক থেকে ঘুরতে থাকে।

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে উটোমো বলেন, বাম থ্রোটলট পেছনে দিকে দ্রুত সরে আছে। ওই সময় ডান থ্রোটলেট নড়েনি; তথা আটকে যায়। আমরা জানি না কিভাবে এ ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। তিনি বলেন, অটোথ্রোটলেট সিস্টেমের ত্রুটিই বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার একমাত্র কারণ নয়।

ফ্লাইট ডাকা রেকর্ডারের তথ্য বলছে, বিমানটি যখন ১০ হাজার ৯০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছায় তখন এর অটোপাইলট সিস্টেম বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপরই নিচে নামতে শুরু করে এটি। অর্থাৎ নিচে নামার আগে এটাই ছিল বিমানের সর্বোচ্চ উচ্চতায় উঠা।

বিমানটি নিচে নামতে শুরু করার পরপরই অটোথ্রোটলেট সিস্টেমও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিধ্বস্ত হওয়ার আগে অটোথ্রোটলেটটি ভেঙে যায়। পরে তা মেরামত করা হয়।

অটোথ্রোটলেটকে গুরুত্ব দিয়ে বিমানের আরও ১৩টি সিস্টেমের কার্যক্রম অনুসন্ধান করছে তদন্তকারীরা। বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ এবং মানুষের তৈরি কোনো ত্রুটি আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও খবর
Loading...