দিল্লিতে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩, আহত দেড় শতাধিক।

গত রোববার ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নাগরিকত্ব আইন সংশোধন নিয়ে সংঘাত শুরুর পর থেকে এই তিন দিনে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ১৩ জন নিহত হয়েছে বলে ভারতের টেলিভিশন স্টেশন এনডিটিভি জানিয়েছে। আহতের সংখ্যা দেড় শতাধিক। হতাহতদের মধ্যে হিন্দু-মুসলমান উভয়েই রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সফরের মধ্যে নাগরিকত্ব আইন সংশোধন নিয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল, তা আরও মারাত্মক রূপ নিয়েছে।

মঙ্গলবার দফায় দফায় সংঘর্ষে দিল্লির মুসলমান অধ্যুষিত উত্তর-পূর্বাঞ্চল রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছিল । বিবিসি বলছে, দিল্লিতে এমন সহিংসতা গত কয়েক দশকেও দেখা যায়নি।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার কয়েকটি এলাকায় সান্ধ্য আইন জারি করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।উত্তর-পূর্ব দিল্লির সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এই উন্মত্ততা বন্ধ করে হিন্দু-মুসলিম উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

উত্তেজনা যেন না ছড়ায়, সেজন্য বেসরকারি টেলিভিশনগুলোকে সংঘাতের খবর প্রচারের ক্ষেত্রে সাবধান করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) পাস করার পর থেকে ভারতের মুসলমানরা ক্ষোভে ফুঁসছে। এই আইন বাতিলের দাবিতে নানা কর্মসূচিও চালিয়ে যাচ্ছিল তারা।

রোববার সংঘাত শুরুর পরদিনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রথম ভারত সফর শুরু করেন।অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি আইনের পক্ষে কর্মসূচি নিয়ে নামলে দেখা দেয় সংঘাত। সেদিনই নিহত হন এক পুলিশ কনস্টেবলসহ চারজন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে, কেননা ট্রাম্পের সফর হারিয়ে যাচ্ছে সহিংসতার খবরের কাছে।

আরও খবর
Loading...