দেশীয় বিমানসংস্থা গুলোকে বাঁচাতে আসছে একগুচ্ছ নীতি সহায়তা

করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউনে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে এয়ারলাইনসগুলো। প্রায় দুই মাস ধরে বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে দেশের চারটি বিমান সংস্থা। নিয়মিত ফ্লাইট কার্যক্রম না থাকায় দেউলিয়ার হাত থেকে বাঁচাতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করেছে বিভিন্ন এয়ারলাইনস। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিশেষ নীতি সহায়তা ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় চার্জে ব্যাপক ছাড়ের পাশাপাশি জ্বালানি তেল, ল্যান্ডিং, পার্কিং চার্জ, এয়ারপোর্টের ভাড়াসহ একগুচ্ছ নীতি সহায়তা ঘোষণা করতে যাচ্ছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। তবে মন্ত্রণালয়ে বেবিচকের পাঠানো প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে এয়ারলাইনসগুলোকে কী ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়েছে সরকার। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ঈদের পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ২০২১ সাল পর্যন্ত অ্যারোনটিক্যাল চার্জ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আর আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে অ্যারোনটিক্যাল চার্জ ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া এয়ারলাইনসগুলোর কাছে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত নন-অ্যারোনটিক্যাল চার্জ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া দেশি এয়ারলাইনসগুলোর পাশাপাশি বিদেশি এয়ারলাইনসগুলোকেও কিছু ছাড় দেওয়ার সুপারিশ করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। দেশের বিমানবন্দরগুলো ব্যবহার, রাডারের তথ্য ব্যবহার, ওভারফ্লাইংসহ বিভিন্ন ইস্যুতে এয়ারলাইনসগুলো থেকে বিভিন্ন চার্জ আদায় করে বেবিচক। এসব চার্জ বাবদ প্রতি মাসে ৯০ থেকে ১০০ কোটি টাকা আয় হয় বেবিচকের। কিন্তু মার্চ থেকে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় বেবিচকের আয় প্রায় শূন্যে পৌঁছে গেছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহিবুল হক বলেন, ‘আমরা দেশের এয়ারলাইনসগুলোকে কিভাবে সহায়তা করা যায় সে বিষয়ে একটি সভা করেছি। আমরা বিভিন্ন দেশে কী পরিমাণ চার্জ কমানো হয়েছে সে বিষয়ে বেবিচককে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছি। প্রতিবেদন পেলেই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’

জানা গেছে, বিমানবন্দর ও এয়ারলাইনসসংক্রান্ত চার্জে ছাড়ের পরিমাণ নির্ধারণ হওয়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়কে ভ্যাটসংক্রান্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। কারণ চার্জের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় করে এনবিআর।

নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে এয়ারলাইনসগুলোকে দেউলিয়ার হাত থেকে বাঁচাতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান চেয়ে গত মাসে চিঠি দিয়েছে বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর পক্ষে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। এর আগে গত মার্চে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের ঝুঁকি নিরসনের কর্মপন্থা নিরূপণের জন্য জরুরি সাধারণ সভা করে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)।

সংকটকালে সিভিল এভিয়েশন চার্জ, যন্ত্রাংশ আমদানিতে অগ্রিম কর ও জ্বালানির ওপর আরোপিত কর বাতিলের দাবি জানায় সংগঠনটি। এ ছাড়া অন্তত দুই প্রান্তিকে ব্যাংক পাওনা সুদবিহীনভাবে ডেফার্ড পেমেন্টের ব্যবস্থা করারও দাবি জানানো হয়।

এদিকে ১ এপ্রিল দেশের পর্যটন খাতে নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে আর্থিক ক্ষতির হিসাব করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীর কাছে চিঠি দিয়েছে প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের (পাটা) গ্লোবাল এক্সিকিউটিভ বোর্ড মেম্বার ও বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান শাহীদ হামিদ। চিঠিতে ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আর্থিক ব্যবসা হারানোর চিত্র তুলে ধরা হয়।

আরও খবর
Loading...