দেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বাধুনিক বডি স্ক্যানার

অস্ত্র বা বিস্ফোরক কিংবা অবৈধ পণ্য বা মাদক শরীরে বহন করে উড়োজাহাজে ওঠা এখন কঠিন হয়ে পড়বে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে।

নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক বডি স্ক্যানার ‘প্রোভিশন ২’,যা মানুষের পোশাকের নিচে লুকিয়ে থাকা যে কোন ক্ষুদ্র উপকরণ বা উপাদান বৈদ্যুতিন চুম্বকীয় বিকিরণের সাহায্যে শনাক্ত করতে সক্ষম।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) একটি সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক টার্মিনালে ৭ টি, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১ টি এবং সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১টি ‘প্রোভিশন ২ স্ক্যানার বসানো হয়েছে ।

তবে এখনো পুরোপুরিভাবে চালু করা হয়নি জাইকার অর্খায়নে বসানো এইসব স্ক্যানারের কার্যক্রম। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ খুবই সহসাই চালু করা হবে। এ জন্য এই মাসেই জাইকার একটি প্রতিনিধি দল পরিদর্শনে আসছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে ।

এদিকে সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) গণশুনানিতে অংশ নিতে এসে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসানো স্ক্যানারটির কার্যক্রম দেখেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান।

বেবিচক চেয়ারম্যান পরীক্ষামূলকভাবে স্ক্যানারের ভেতর ঢুকে দেখেন। এ সময় স্ক্যানারটি নিখুঁতভাবে ইমেজ ডেলিভারি দেয় স্ক্রিনে। এ সময় শাহ আমানত বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সারওয়ার-ই-জামান সঙ্গে ছিলেন।

জানানো হয়, সর্বাধুনিক সিকিউরিটি টেকনোলজি ‘প্রভিশন ২’ বডি স্ক্যানারটি বিমানবন্দরে ব্যবহারের জন্যই বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে । স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিমুক্ত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি মিলিমিট্রিক ওয়েভস’ (এমএমডাব্লু) প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রভিশন ২ যাত্রীর পুরো শরীর দ্রুত স্ক্যান করে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে

৮ ফুট উঁচু ছোট্ট একটি কাচের ঘরের মতো দেখতে স্ক্যানারটিতে যাত্রী শরীরে বহন এমনকি অন্তর্বাসের ভেতর লুকিয়ে রাখা অস্ত্র, বিস্ফোরক, বোমা তৈরির উপকরণ, মাদক যাবতীয় সব কিছুই শনাক্ত করবে, যা ধরা পড়বে সংযুক্ত মনিটরে ।

মেটালিক, নন-মেটালিক, ওয়েপনস, স্ট্যান্ডার্ড ও হোম মেড বিস্ফোরক (শিট ও বাল্ক), লিক্যুইডস, জেলস, প্লাস্টিকস, পাউডারস, সিরামিক কিছুই বাদ পড়বে না।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার জানান, একজন যাত্রীকে স্ক্যান করতে সময় লাগবে দেড়-দুই সেকেন্ড। ঘণ্টায় দুই-তিনশ যাত্রীকে স্ক্যানিং করা যাবে।

শাহ আমানত বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সারওয়ার-ই-জামান বলেন, ‘প্রোভিশন ২’ স্ক্যানার বিমানবন্দর ও ফ্লাইট সেফটি ও সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা আরও বেশি শক্তিশালী হবো। এখন কারও পক্ষে ক্ষতিকারক উপাদন নিয়ে উড়োজাহাজে উঠা সম্ভব হবে না। ‘

আরও খবর
Loading...