দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে স্বপ্নের থার্ড টার্মিনাল

করোনার আঘাতেও থামেনি নির্মাণ কাজ

দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে স্বপ্নের থার্ড টার্মিনাল। করোনার আঘাতেও থামেনি এই বিশাল নির্মাণযজ্ঞ। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ব্যাহত হয়েছে সরকারের বড় কিছু প্রকল্পের কাজ। তবে থামেনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প।

নির্মাণ কাজে যুক্ত প্রায় ৬০ জন কর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও প্রভাব পড়েনি এর অগগ্রতিতে। মাটি কাটার কাজ শেষে শুরু হয়েছে পাইলিং। সুস্থ কর্মীদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার জন্য করা হচ্ছে পৃথক আবাসন ব্যবস্থা।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষে (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে শুরু থেকেই নির্মাণ প্রকল্প এলাকায় চলাচলে ছিল বিধি-নিষেধ। এরপরও প্রায় ৬০ কর্মী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কর্মীদের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রকল্প এলাকায় ৪০০ কর্মীর আবাসন ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রকল্পের সব কর্মীর করোনাভাইরাস পরীক্ষা শেষে প্রকল্প এলাকায় থাকবেন সুস্থ কর্মীরা।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে কোনোভাবেই যেন নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত সময় না লাগে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে যেন কাজ ব্যাহত না হয়। শুরু থেকেই এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

এরপরও যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাতে বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ কমে এজন্য প্রকল্প এলাকায় ৪০০ জনের আবাসন সুবিধা করা হচ্ছে। ফলে তাদের আর বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।’

এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা আছে বর্ষার আগেই মাটি কাটা ও পাইলিংয়ের কাজ শেষ করা। ইতোমধ্যে সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে। আশা করছি, কোনোভাবেই নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত সময় লাগবে না।’

.প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর ২৮ ডিসেম্বর শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রায় ৩০ লাখ বর্গফুট জায়গায় এ টার্মিনাল নির্মাণ হলে বছরে দুই কোটি (২০ মিলিয়ন) যাত্রীকে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে সেবা দেওয়া যাবে। প্রকল্পের ১৬ হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন করবে জাপানি উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা) এবং বাকি পাঁচ হাজার কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার।

২০১৮ সালে এই প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়। তখন ২২টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র নেয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে মিতসুবিশি করপোরেশন, ফুজিতা করপোরেশন ও স্যামসাং এই তিনটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি) কাজের অনুমোদন পায়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ প্রকল্পে মূল ব্যয় ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা।

বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা। নকশায় পরিবর্তন ও ভ্যাট বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে নির্মাণ খরচ ৭ হাজার ৭৮৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বেড়েছে।

সর্বশেষ ৩০ মে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। তিনি  বলেন, এখন পর্যন্ত টার্মিনাল নির্মাণকাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক। কোনও রকম বিরতি ছাড়া কাজ চলছে। করোনাভাইরাস থেকে কর্মীদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। – ছবি ও রিপোর্ট, বাংলাট্রিবিউন

আরও খবর
Loading...