নতুন তিন আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান

নতুন তিন আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান।

বোয়িং ৭৮৭-৮ (ড্রিমলাইনার) মডেলের নতুন একটি উড়োজাহাজ আনতে আগামীকাল যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি প্রতিনিধি দল। গাঙচিল নাম দেয়া উড়োজাহাজটি যুক্ত হলে বিমানের বহরে ড্রিমলাইনারের সংখ্যা দাঁড়াবে তিনটিতে। সেপ্টেম্বরে এ মডেলের আরেকটি উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। বহরে ড্রিমলাইনারগুলো যুক্ত হওয়ার পর নতুন তিন রুটে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বিমানের।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮ (ড্রিমলাইনার) উড়োজাহাজ কিনতে ২০০৮ সালে চুক্তিবদ্ধ হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর মধ্যে দুটি বিমানের বহরে যুক্ত হয়েছে গত বছর। তৃতীয়টিকে নিয়ে আগামী সপ্তাহেই দেশে ফিরছে বিমানের প্রতিনিধি দল।
এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার বলেন, বহরের তৃতীয় ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি আনতে বিমানের একটি প্রতিনিধি দলের যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সিয়াটল থেকে উড়োজাহাজটি বুঝে নিয়ে দেশে ফিরবেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইনস সংস্থাটির বহরে চতুর্থ ড্রিমলাইনার যুক্ত হবে সেপ্টেম্বরে। ড্রিমলাইনারগুলো বহরে যুক্ত হলে সেগুলো দিয়ে আপাতত তিনটি নতুন আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ। রুট তিনটি হচ্ছে ঢাকা-গুয়াংজু, ঢাকা-মদিনা ও ঢাকা-কলম্বো। তিনটি রুটেই প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বিমানের।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে নিজস্ব উড়োজাহাজ রয়েছে আটটি। এর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর মডেলের উড়োজাহাজ আনা হয় ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে। বর্তমানে এগুলো পালকি, অরুণ আলো, আকাশ প্রদীপ ও রাঙা প্রভাত নামে চলমান রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালের নভেম্বরে আনা হয় বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের নতুন আরো একটি উড়োজাহাজ, যার নাম দেয়া হয়েছে ‘মেঘদূত’। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বিমানের বহরে যোগ হয়েছে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ ‘ময়ূরপঙ্খী’। গত বছর বিমানবহরে যুক্ত হয় নতুন দুটি ড্রিমলাইনার। এগুলোর নাম রাখা হয়েছে ‘আকাশবীণা’ ও ‘হংসবলাকা’। নিজস্ব উড়োজাহাজের পাশাপাশি বিমানের বহরে লিজ নেয়া উড়োজাহাজ রয়েছে সাতটি। এর মধ্যে বোয়িং ৭৩৭ রয়েছে চারটি ও ড্যাশ-৮ রয়েছে তিনটি।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়ের জন্য ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর মধ্যে আটটি উড়োজাহাজ এরই মধ্যে বিমানের বহরে যুক্ত হয়েছে। বাকি রয়েছে কেবল দুটি ড্রিমলাইনার। এগুলোর নাম হচ্ছে ‘গাঙচিল’ ও ‘রাজহংস’। প্রতিটি ড্রিমলাইনারে মোট আসনসংখ্যা ২৭১। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাস ২৪টি ও ইকোনমি ক্লাস ২৪৭টি। বিজনেস ক্লাসের ২৪টি আসন ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড হওয়ায় তা যাত্রীদের আরামদায়ক বিশ্রামের জন্য সহায়ক।
ড্রিমলাইনার মডেলের উড়োজাহাজ ঘণ্টায় ৬৫০ মাইল বেগে টানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম। এটি চালাতে অন্যান্য উড়োজাহাজের তুলনায় ২০ শতাংশ কম জ্বালানি লাগে। অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময়ও ওয়াইফাই সুবিধা পাবেন যাত্রীরা। এছাড়া মোবাইল ফোনে রোমিং সুবিধা থাকলে আকাশে উড্ডয়নের সময়েও কল করা যাবে। এজন্য ২৫টি স্যাটেলাইটের সঙ্গে চুক্তি করেছে বিমান।

আরও খবর
Loading...