নেপাল থেকে আসছে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

নেপাল থেকে আসছে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

দেশে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে নেপাল থেকে আসছে ৫০০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ। প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম পড়বে ৭ দশমিক ৭১৭২ সেন্ট, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ দশমিক ৪২৮৪ টাকা। এ হিসেবে ২৫ বছর মেয়াদে এ বিদ্যুতের জন্য মোট ৩৮ হাজার ১৬০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

সূত্র জানায়, ভারতীয় কোম্পানি জিএমআর গ্রুপ নেপালের আপার কার্নালি বেসিনে ৯০০ মেগাওয়াট আপার কার্নালি হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্ট নির্মাণ করেছে। সেখান থেকে ভারতীয় সংস্থা এনটিপিসি বিদ্যুৎ ভায়াপার নিগম লিমিটেডের (এনভিভিএন) মাধ্যমে এ বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। এ বিষয়ে ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল এনভিভিএনের সঙ্গে একটি চুক্তি করা হয়। পরবর্তীতে চুক্তির মেয়াদ ২০২০ সাল পর্যন্ত বাড়নো হয়।

সূত্র জানায়, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিদ্যুৎ অপরিহার্য উপাদান। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে দেশে নতুন নতুন শিল্প-কলকারখানা স্থাপন এবং পল্লী এলাকার কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকার প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার মাধ্যমে বিদ্যুৎ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। সে উদ্যোগের অংশ হিসেবেই নেপাল থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে।

এ সংক্রান্ত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এমওইউর পরিপ্রেক্ষিতে জিএমআর গ্রুপ কর্তৃক নির্মাণাধীন নেপালের আপার কার্নালি বেসিসে ৯০০ মেগাওয়াট আপার কার্নালি হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্ট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের লক্ষ্যে ভারতের এনভিভিএনের সঙ্গে বিউবোর পাওয়ার সেল অ্যাগ্রিমেন্ট (পিএসএ) এর ট্যারিফ ব্যতীত টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন এবং আনুষঙ্গিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে পিএসএ চূড়ান্ত করার জন্য কমিটি গঠন করা হয়।

পিএসএ পরীক্ষা ও চূড়ান্তকরণের জন্য পাওয়ার সেল কর্তৃক মি.জি.থমাস (টম) ওয়েস্ট. জেআর-কে কনসালট্যান্ট হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। কনসালট্যান্ট এবং বিউবোর কমিটির সঙ্গে ভারতীয় কোম্পানির প্রতিনিধিদের আলোচনাক্রমে পিএসএ চূড়ান্ত করা হয়। যা বিউবোর ২০১৮ সালের ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত ১৭৬৩তম সাধারণ বোর্ড সভায় অনুমোদিত হয়। আলোচ্য প্রকল্পের পাওয়ার ইভ্যাকুয়েশন দুই দেশের গ্রিড মাল্টিপল পয়েন্টে সিনক্রোনাইজ করে আগামী ৫-৬ বছরের মধ্যে প্রস্তাবিত ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা সম্ভব হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে ২০১৮ সালের ১৯ আগস্ট ভারতীয় কোম্পানির কাছ থেকে ট্যারিফ গ্রহণের জন্য বিউবোকে নির্দেশনা দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় কোম্পানি ট্যারিফ প্রস্তাব দাখিল করে।

ভারতের সেন্ট্রাল ইলেক্ট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশন (সিইআরসি) এর গাইডলাইন এবং জলবিদ্যুৎ সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য ও ঋতুভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে তারতম্য হওয়ার বিষয়সমূহ বিবেচনায় নিয়ে দাখিলকৃত ট্যারিফের ধারণাসমূহ গঠিত কমিটি কর্তৃক পরীক্ষা/পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া, ট্যারিফ প্রস্তাবের বিষয়ে পরামর্শ করে মতামত গ্রহণ করা হয়। বিউবো ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতের এনভিভিএন কর্তৃক ট্যারিফ প্রক্রিয়াকরণ কমিটির মাধ্যমে নেগোশিয়েশন করে ট্যারিফ নির্ধারণের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে প্রস্তাব পাঠায়।

ভারতীয় কোম্পানি এনভিভিএন সর্বশেষ নন-এসকালেবেল ট্যারিফ কম্পোনেন্ট ২৫ বছরের জন্য প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুতের ট্যারিফ ৮ দশমিক ৭৯ সেন্ট কন্সট্যান্ট করে মোট দাম প্রস্তাব করে ১০ দশমিক ৯৫ সেন্ট। পরবর্তীতে নেগোশিয়েশনের মাধ্যমে নন-এসকালেবেল ট্যারিফ কম্পোনেন্ট ২৫ বছরের জন্য প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুতের ট্যারিফ ৫ দশমিক ৮২২৫ সেন্ট কন্সট্যান্ট করে মোট দাম ৭ দশমিক ৭১৭২ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

জিএমআর ইন্ডিয়া কর্তৃক দাখিলকৃত ‘মান্থলি জেনারেশন প্রোফাইল ওভার অ্যানি কনট্রাক্ট ইয়ার’ অনুযায়ী বছরের বিভিন্ন মাসে বিভিন্ন ক্যাপাসিটিতে (সর্বোচ্চ ৫০০ মেগাওয়াট) জলবিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। ক্যাপাসিটে ভ্যারি করায় মাসিক নির্দিষ্ট কোনো ক্যাপাসিটি পেমেন্ট থাকবে না। বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য প্রতি ইউনিট হিসেবে অর্থাৎ এনার্জি বেজড ট্যারিফ হিসেবে নেগোশিয়েশন করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত একটি ক্রয়প্রস্তাব বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

আরও খবর
Loading...