পাইলটের বিরুদ্ধে কেবিন ক্রুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, তালিকায় বিমানের ১০ পাইলট

পাইলটের বিরুদ্ধে কেবিন ক্রুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, তালিকায় বিমানের ১০ পাইলট।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১০ জন পাইলটের বিরুদ্ধে ককপিটে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন একাধিক কেবিন ক্রু। সম্প্রতি বিমানের সিনিয়র পাইলট ক্যাপ্টেন ইশরাত আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে এসব তথ্য বেরিয়ে আসছে।

অপরদিকে ৪৯ জন কেবিন ক্রুর বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চোরাচালান, চুরি ও দেশের বাইরে বিমানের বিভিন্ন হোটেলগুলোতে নানা অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিমানের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। সম্প্রতি ই-মেইলে বিমানের দুই কেবিন ক্রু অভিযোগ করেন ক্যাপ্টেন ইশরাত এক কেবিন ক্রুকে বিজনেস ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছেন।

ওই কেবিন ক্রু তার কথা না শোনায় তাকে পেছনের কেবিনে পাঠিয়ে দেন। অপর কেবিন ক্রু অভিযোগ করেন, ক্যাপ্টেন তাকে ককপিটে ডেকে নিয়ে তার সঙ্গে নানা অশ্লীল কথাবার্তা বলেছেন। তাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন।

এ দুই কেবিন ক্রুর অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে কয়েকদিনে একাধিক কেবিন ক্রু ১০ জন পাইলটের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন।

একই সঙ্গে পাইলটদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন তুলে ধরে ৪১ জন কেবিন ক্রুর বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চোরাচালান, চুরি ও দেশের বাইরে বিমানের বিভিন্ন হোটেলগুলোতে নানা অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ করেন।

তারা বলেন, বিমানের এক কেবিন ক্রু আছেন বিদেশে যার অসামাজিক কার্যকলাপের জন্য মামলা পর্যন্ত হয়েছে। ওই কেবিন ক্রু মারা গেছেন বলে বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি লন্ডনে অবস্থিত বিমানের ভাড়া করা এক হোটেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিমানের কেবিন ক্রুরা ফ্লাইট নিয়ে হোটেলে এসে নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ড করছে। যা হোটেলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।

এছাড়া দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বিমানের কয়েকটি হোটেল কর্তৃপক্ষও বিমানকে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছে একাধিক কেবিন ক্রুর বিরুদ্ধে।

অপরদিকে পাইলটদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা নিজেদের পছন্দের কেবিন ক্রু ছাড়া ফ্লাইট করতে রাজি হন না। বেশিদিনের ফ্লাইটে যাওয়ার আগে পাইলটরা সিডিউলে নিজেদের পছন্দের কেবিন ক্রুদের তালিকা দেন। এ রকম পাইলটের সংখ্যা ১০ জনের বেশি।

অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ নিয়ে বিমানের পাইলট ও কেবিন ক্রুরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি বিমানের সেফটির জন্য মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন বিমানকে ঢেলে সাজানোর জন্য বিমান সচিব মহিবুল হক ও বিমান এমডি মোকাব্বির আহম্মেদ দিনরাত কাজ করছেন তখন এমন ঘটনা বিমানের জন্য বড় ধরনের নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।

পাইলটদের যে সিন্ডিকেট নারী কেবিন ক্রুদের ওপর নানাভাবে যৌন হয়রানি করে আসছে তাদের খুঁজের বের করার দাবি জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি যেসব কেবিন ক্রুর বিরুদ্ধে মাদক সেবন, চুরি, চোরাচালান ও বিদেশে নিয়ে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ করে আসছে তাদের তালিকাও তৈরি করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি দেয়া এক আবেদনে বিমানের এক নারী কেবিন ক্রু তার অভিযোগপত্রে লিখেছেন- ‘বিজনেস ক্লাসের কেবিনে দায়িত্ব থাকার কারণে ক্যাপ্টেন ইশরাত কেবিন ক্রু ইনচার্জকে নির্দেশনা দিয়ে তাকে ককপিটে ডেকে নেন।

কো-পাইলট ক্যাপ্টেন অরবিন্দ ককপিটের বাইরে গেলে, তিনি তার শরীরে হাত দেয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তিনি তার ট্যাব বের করে তাকে নারীদের নগ্নছবি দেখানোর চেষ্টা করেন।’

তিনি লিখেছেন, ‘ছয় বছরে যখনই তাকে ফ্লাইটে পেয়েছি, তখনই এমন আচরণ তিনি করেছেন। আমি ধৈর্য ধরে সহ্য করেছি, ভেবেছি সময় গেলে তিনি এসব বন্ধ করবেন। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য, তার এমন আচরণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ফ্লাইটে তিনি সীমা অতিক্রম করেছেন। এমনকি তিনি আমাকে হুমকি দিয়েছেন তার অসৌজন্যমূলক ও নোংরা প্রস্তাবে রাজি না হলে তিনি আমাকে বিপদে ফেলবেন, সেটা যে করেই হোক।’

এ প্রসঙ্গে ক্যাপ্টেন ইশরাত বলেন, তিনি কোনো কেবিন ক্রুর সঙ্গে কোনো ধরনের যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করেননি। তবে বিজনেস ক্লাসে দায়িত্ব পাওয়া এক কেবিন ক্রুকে বিমানের একটি নির্দেশনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি তা বলতে পারেননি।

এ কারণে তিনি ফ্লাইটের চিফ পার্সারকে ডেকে তাকে বিজনেস ক্লাসের পরিবর্তে অন্য ক্লাসে দিতে বলেছেন। এতে হয়তো ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি অভিযোগ করতে পারেন।

ইশরাত আরও বলেন, তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বিমানের ফ্লাইট চালিয়ে আসছেন। বিমানের পরিচালক ফ্লাইট অপারেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ (ডিএফও) দায়িত্বে তিনি ছিলেন। এ কারণে বিমানে তার অনেক শত্রু আছে। বিমানের পাইলট অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) তার সদস্যপদ পর্যন্ত বাতিল করে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিমানের পাইলট ও কেবিন ক্রুরা একই পরিবারের সদস্য। পাইলটদের সঙ্গে কেবিন ক্রুদের বন্ধুর মতো সম্পর্ক। কাজেই কোনো কেবিন ক্রুর সঙ্গে ককপিটে খারাপ আচরণের প্রশ্নই আসে না।

আরও খবর
Loading...