বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য জাপানে ফ্লাইট পরিচালনার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, ২৯ জানুয়ারি জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বিমান চলাচল পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য জাপানে ফ্লাইট পরিচালনার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ-জাপানের মধ্যকার বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে আরও সহজ করতে দুই দেশের অ্যারোনটিক্যাল অথরিটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের যে কোনও এয়ারলাইন্স জাপানের যে কোনও বিমানবন্দরে (হানেদা ব্যতীত) যাত্রী ও কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। এছাড়াও ফিফথ ফ্রিডম সুবিধা দিয়েছে জাপান। এর ফলে দেশি এয়ারলাইন্সগুলো বাংলাদেশ থেকে চীন (মেইন ল্যান্ড চায়না) ব্যতীত বিশ্বের অন্য যেকোনও দেশের বিমানবন্দরের যাত্রী নিয়ে টোকিওতে (নারিতা বিমানবন্দর) যেতে পারবে এবং একইভাবে টোকিও থেকে বাংলদেশে যাত্রী আনতে পারবে। এছাড়া, আগে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার কোনও সুযোগ না থাকলেও এখন বিমান সংস্থাগুলো দুই দেশের মধ্যে কার্গো ফ্লাইটও পরিচালনা করতে পারবে।

সূত্র জানায়, আগে ঢাকা-টোকিও রুটে সপ্তাহে মাত্র দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করার সুযোগ ছিল বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে ব্যাংকক হয়ে টোকিওতে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে ঢাকা-ব্যাংকক রুটে বিমানের যাত্রী ধারণ ক্ষমতার শতকরা ৩৫ ভাগের বেশি যাত্রী পরিবহনের বিষয়েও নিষেধাজ্ঞা ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-ব্যাংকক-টোকিও রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করলেও এই কারণে ফ্লাইট চালু করতে পারেনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

দ্বিপক্ষীয় এই সভায় বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমানের নেতৃত্বে বেবিচক সদস্য (ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশন্স) গ্রুপ ক্যাপ্টেন চৌধুরী মো. জিয়াউল কবীর, উপ-পরিচালক একেএম ফাইজুল হক, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাস ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশন্স) গ্রুপ ক্যাপ্টেন চৌধুরী মো. জিয়াউল কবীর বলেন, ‘জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষীয় বিমান চলাচল চুক্তি পর্যালোচনা সভায় নতুন বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর সুযোগ বাড়বে। একইসঙ্গে জাপান ফিফথ ফ্রিডম সুবিধাও দিয়েছে। এতে করে বাণিজ্যিকভাবেও ফ্লাইট প্ল্যান করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর।’

জাপানে ফ্লাইট চালু প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোকাব্বির হোসেন বলেন, ‘ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে আমাদের নিজস্ব কিছু আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন আছে। সরকারের কাছ থেকে অথরাইজেশন পেলে আমরা জাপানে স্লটের জন্য আবেদন করতে পারবো। এছাড়া, জাপানে অফিস, জিএসএ নিয়োগ সহ আরও কিছু কাজ করতে হবে। এসব কাজ সম্পন্ন হলে আমরা ফ্লাইট শুরু করতে পারবো।

আরও খবর
Loading...