বাংলাদেশের আকাশপথে যাত্রী কমতে পারে ৬০%

করোনা-পরবর্তী সময়ে আকাশপথে যাত্রী আসা-যওয়া অনেক কমে যাবে। বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ যাত্রী যায় তার ৪০ শতাংশই প্রবাসী শ্রমিক।
করোনাভাইরাসের কারণে অনেক দেশই আপাতত শ্রমিক নেওয়া বন্ধ রাখবে। এতে এই ৪০ শতাংশ যাত্রীর বড় অংশই কমে যাবে। বিমান পরিবহন খাতে আমাদের কার্গোসহ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের বাজার এক হাজার কোটি টাকার। এর মধ্যে প্যাসেঞ্জার খাতে ৭০০ কোটি টাকা এবং কার্গো খাত থেকে ৩০০ কোটি টাকা আসে। ভবিষ্যতে প্রবাসে চাকরিও কমে যাবে। এ ছাড়া করপোরেট ও লেজার ট্রাভেল ব্যাপকভাবে কমবে। পর্যটনসংক্রান্ত ভ্রমণও অনেক কমে যাবে। এখন করোনা আতঙ্কে ঈদ, নিউ ইয়ারে দেশের বাইরে বেড়াতে যাবে না সাধারণ মানুষ। সরকার অতি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। এতে বাংলাদেশ মার্কেটে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ যাত্রী কমে যাবে।

আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার ফ্লাইট চালুর বিষয়টি নির্ভর করছে সিভিল এভিয়েশনের নিষেধাজ্ঞা ওঠানোর ওপর। কিছু দেশ আবার বাংলাদেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে। বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরিটি যে গাইডলাইন প্রকাশ করেছে, তাতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ৭৫ শতাংশের বেশি যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। কোনো কোনো দেশে যেতে কভিড-১৯ সনদ নিতে হবে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) আইয়াটা বলছে, এত কিছু নিয়ম করলে মানুষ প্লেনে উঠবে না। এটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

আইএটিএ বলেছে, আকাশপথে ২০১৯ সালে যে ভ্রমণ প্যাটার্ন ছিল সেই অবস্থায় ফিরতে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারা বলছে, আকাশপথে বৈশ্বিক যাত্রী পরিবহন ৩০ শতাংশ কমে যাবে। যাত্রী কমে গেলেও এয়ারলাইনসগুলোকে তাদের এয়ারক্রাফট ব্যবহার করতে হবে। তখন ভাড়া বাড়িয়েও খুব সুবিধা করতে পারবে বলে মনে হয় না। সে কারণে বিভিন্ন সমীক্ষায় বলা হচ্ছে, এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ৮৫ শতাংশ এয়ারলাইনস দেউলিয়া হয়ে যাবে। এরই মধ্যে আমেরিকার বড় এয়ারলাইনস এভিয়াংকা, ভার্জিন এয়ারলাইনস, নরওয়ে এয়ারলাইনস, এয়ার মরিশাসসহ আরো কয়েকটি কম্পানি ব্যাংকের কাছে দেউলিয়া হয়ে গেছে। যে সব এয়ারলাইনস টিকে থাকবে তারা ভাড়া বাড়িয়ে দেবে। ইচ্ছে হলে চড়, না হলে চড়ো না—এমন পরিস্থিতি হয়তো সৃষ্টি হবে। তখন দরকারি ভ্রমণও অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে যাবে।

ভাড়ার ব্যাপারে এখনো কোনো এয়ারলাইনস কিছু বলতে পারছে না। কভিড-১৯ সার্টিফিকেট নিতে বাড়তি খরচ হবে যাত্রীর। আগে যে খরচে আমেরিকা যাওয়া যেত, সেই দামে আর হয়তো টিকিট পাওয়া যাবে না। তা ছাড়া বিমানবন্দরগুলোতে ভোগান্তি অনেক বাড়বে। নানা রকম প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। চেক ইন ও ইমিগ্রেশনে বিশাল লাইন পড়বে। চার ঘণ্টা আগে এয়ারপোর্টে পৌঁছতে হবে। সামাজিক দুরত্ব বাজায় রেখে এসব করতে হলে এয়ারপোর্টের প্রধান সড়কে লাইন চলে আসবে। এসব সমস্যা মোকাবেলায় অটো চেক ইন, ইলেকট্রিক গেটগুলো বেশি বেশি ব্যবহার করতে হবে। পৃথিবীর অনেক দেশে চেক ইনের জন্য লাইনে দাঁড়ানো লাগে না। সেখানে বেশির ভাগই হয় অনলাইন চেক ইনে। সিভিল এভিয়েশন নানা নিয়ম-কানুন তৈরি করছে, কিন্তু তারা নিজেদের সেভাবে প্রস্তুত করতে পারছে না। একটা এয়ারক্রাফটের চার শ যাত্রী যদি লাইন দিয়ে দাঁড়ায় তাহলে তা কোথায় গিয়ে ঠেকবে? আর একসঙ্গে যদি চারটি ফ্লাইট থাকে তাহলে কী অবস্থা হবে তা অনুমান করা যায়। আমাদের বিমানবন্দরের আকার ছোট। এখানে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা কঠিন হবে। এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি এখন সমুদ্রের মাঝখানে দাঁড়িয়ে। কোন দিকে গেলে ভালো হবে তা কেউ বুঝতে পারছে না।

কাজী ওয়াহিদুল আলম : এভিয়েশন বিশ্লেষক, দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক

আরও খবর
Loading...