বাংলাদেশ বিমানের যাত্রীদের জন্য ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’

বাংলাদেশ বিমানের যাত্রীদের জন্য ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’

বিমানে ভ্রমণ করা যাত্রীদের বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানাতে একটি ম্যাগাজিন করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন।

বাংলাদেশ বিমানের দেশি-বিদেশী যাত্রীদের জন্য বিমানে ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ নামে সাময়িকীটি রাখা হবে।

বুধবার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এই সাময়িকীর মোড়ক উন্মোচন করেন।

এ সময় তিনি বলেন, “বিমানের প্রতিটি যাত্রী বিমানে বসেই যেন বাংলাদেশ সম্বন্ধে জানতে পারেন সে ধরনের ম্যাগাজিন। সেখানে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সভ্যতা, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বলা আছে।”

এক প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মুজিববর্ষের মাধ্যমে কীভাবে পর্যটনে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করা যায় সে সুযোগটা আমরা কাজে লাগাতে চাই।

“বাংলাদেশের পর্যটনখাতগুলোকে তেমন ভালোভাবে তুলে ধরতে পারিনি। আমরা দ্রুত স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নেব।”

পর্যটন নিয়ে মহাপরিকল্পনা তৈরি করতে গত ১৯ ডিসেম্বর পরামর্শক নিয়োগ দেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।

পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের মূল চাহিদাপূরণের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

কানাডা থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে তিনটি এবং ২০২১ সালে আরও দুটি উড়োজাহাজ আনা হবে বলে জানান বিমান প্রতিমন্ত্রী।

চীনে বাংলাদেশ বিমানের কোনো ফ্লাইট নেই জানিয়ে মাহবুব বলেন, “ইউএস-বাংলা গুয়াজুতে ফ্লাইট পরিচালনা করে, সেখানে করোনা ভাইরাসের প্রভাব নেই। প্রতিদিন লোকজন যাচ্ছে, কোনো কিছু থেমে নেই।

“৩২ থেকে ৩৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা হলে ওই ভাইরাস অটোমেটিক্যালি নষ্ট হয়ে যায়। আমার মনে হয় দু’এক দিনের ভেতরে বাংলাদেশের (তাপমাত্রা) ৩২ এর উপরে উঠবে। সুতরাং আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই।”

করোনাভাইরাস যেন দেশে ঢুকতে না পারে সেজন্য বিমান বন্দরে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এটা নিয়ে ওরিড হওয়ার কিছু নেই। সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব মহিবুল হক বলেন, “আমাদের দেশে অনেক চাইনিজ কাজ করেন, অনেকগুলো উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে তারা সম্পৃক্ত আছেন। এবং চীনই তাদের লোকগুলোকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে না, অন্য দেশে যেন (করোনা ভাইরাস) না ছড়ায় এজন্য।

“চারটি এয়ারলাইন্স চীনে যাত্রী পরিবহন করে। সত্যিকার অর্থে যাওয়ার যাত্রী কমে গেছে, আসার যাত্রী না কমলেও যাওয়ার যাত্রী কমে গেছে।”

সচিব বলেন, “পর্যটকরা এখনও বাংলাদেশকে সেইফ কান্ট্রি হিসেবেই জানে। সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক ও যুক্তরাষ্ট্রে এই ভাইরাস পাওয়া গেছে, আমাদের দেশে এখনও এটা পাওয়া যায়নি। আমরা মনে করছি সাময়িক কিছু প্রভাব পড়ছে, সেটা অস্বীকার করার কারণ নেই। আমরা মনে করছি মুজিব বর্ষে এটা নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা হবে না।”

ভারত থেকে সব থেকে বেশি পর্যটক বাংলাদেশে আসে জানিয়ে সচিব বলেন, “ইউরোপ থেকেও প্রচুর ভিজিটর বাংলাদেশে আসে। করোনার প্রভাব সারা পৃথিবীতে কিছুটা পড়ছে, বাংলাদেশেও যে কিছুটা পড়বে এটা অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই, এটা হল বাস্তবতা। এটা সরকার বা সবারই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে এটা আমরা ওভারকাম করার চেষ্টা করছি।”

আরও খবর
Loading...