বিজনেস ট্রাভেল ফিরতে ২০২৪ সাল লেগে যাবে!

মহামারী খুব শিগগির যাবে বলে মনে করছে না যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইন্সগুলো। তারা ভ্রমণ খরা মোকাবেলা করেই কোম্পানি চালিয়ে নিতে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তারা মনে করছে, চাপ সৃষ্টি করে সরকারের কাছ থেকে যদি ১০০ বিলিয়ন ডলারও নেয়া হয়, তবুও করোনার ক্ষতি থেকে যেতে পারে। আর তা প্রতিরোধ করতে এয়ারলাইন্সগুলোর যথেষ্ট অর্থ রয়েছে।
ডেলটা ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তাদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ১৬ অক্টোবর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইন্সগুলো দ্বিতীয় দফায় সহায়তা প্যাকেজের জন্য সরকারকে চাপ সৃষ্টি করেছিল কিন্তু কাজ হয়নি।
কংগ্রেসে তাদের প্রস্তাব পাস হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এয়ারলাইন্সগুলোর প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ দুটি। প্রাথমিকভাবে এয়ারলাইন্সগুলোকে দুটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। একটি হল- করোনাকালে যেরকম বিমান ভাড়া কম, সারাবছর একই ভাড়া রাখতে হবে। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হল, শেয়ার বাজারে বিমাণ ভ্রমণ বাণিজ্য প্রতিযোগিতামূলক খাত হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
যা এখন খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে।
ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের প্রেসিডেন্ট ব্রেট হার্ট এবং চিফ এক্সিকিউটিভ স্কট কিরবি কর্মীদের প্রতি এক মেমোতে লিখেছেন, এভিয়েশন শিল্পের ইতিহাসে করোনা মহামারী সবচেয়ে বড় সংকট। কিন্তু এ মহামারীর কিছু সুবিধাজনক দিকও রয়েছে। ডেলটা চিফ এক্সিকিউটিভ ইবি বাস্তিয়ান কর্মীদের প্রতি লিখেছেন, কোনো ভুল করা চলবে না। আমরা ম্যারাথন সংকটের মাত্র কয়েক মাইল এগিয়েছি।
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ডেলটা ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স মিলে ১৬.৮ বিলিয়ন ডলার লোকসান দিয়েছে। তারা তাদের ২০ শতাংশ কর্মী কমিয়েছে। এর মধ্যে ইউনাইটেড ১৩ হাজারের বেশি কর্মীকে বেতনছাড়াই ছুটিতে পাঠিয়েছে।
আমেরিকান এয়ালাইন্স ও সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্স চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করবে বলে জানা গেছে। এদিকে বিমানে যাত্রী ফিরতে শুরু করেছে। কিন্তু যাত্রীদের এই ফেরার গতি অত্যন্ত ধীর। ১১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইন্সগুলো ১ মিলিয়ন যাত্রী বহন করেছে যা আগের বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশের কম।
ডেলটা বস মিস্টার কিরবি বলছেন, ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলে বিমানের ভ্রমণবাণিজ্য দ্রুতগতিতে আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। তবে বিজনেস ট্রাভেল ফিরতে ২০২৪ সাল লেগে যাবে। তিনি বলছেন, এখনও বিশ্বের অনেক দেশ তাদের আকাশপথ বন্ধ রেখেছে। সীমান্তে প্রবেশ নিষিদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। স্কুল, অফিস যেভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে তেমনি বিমানসংস্থাও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীদের স্মার্ট ট্রাভেলিংয়ের স্বাদ দিতে চায়। ডেলটা এয়ারলাইন্সের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বলছেন, আমরা আক্ষরিক অর্থে এমন পদ্ধতি খুঁজছি, যাতে আমরা বুঝতে পারব পরের সপ্তাহে যাত্রীদের গন্তব্য কোথায়
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

আরও খবর
Loading...