বিমানযাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা বাড়ছে

করোনা বিশ্বব্যাপী তান্ডব চালাচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব বিধির পাশাপাশি ফেস মাস্ক পরার বিধি সবখানে চালু হয়েছে। বিশেষ করে এয়ারলাইন্সগুলোতে এ ব্যাপারে আরও কড়াকড়ি দেয়া হয়েছে। তবুও সর্বদা স্বাস্থবিধি মানছে না বিমানযাত্রীরা। বিমানের মধ্যে ফেস্ক মাস্ক না পরার পক্ষের যাত্রীরা বেড়েই চলেছে।
স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি এয়ারলাইন্স ইতোমধ্যে ১৫০০ যাত্রীকে বিমানে চড়ায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ বলছে, যাত্রীরা বিভিন্ন পন্থায় নিয়ম ভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এমনকি এ কাজে রাজনীতিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবর।
ফ্লাইট অ্যাটেন্ড্যান্টসদের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন বলছে, কনোরায় স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের হার বাড়ছে। ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট মাস্ক পরার ব্যাপারে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার ফলে অ্যাটেন্ড্যান্টসরাও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অধিকাংশ এয়ারলাইন্সের বক্তব্য, প্রথম দিকে স্বাস্থ্যবিধি মানার হার অপরিবর্তনীয় ছিল, পরে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের কর্মীদের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি পালনে গাফিলতি প্রকাশ পায়। এতে যাত্রী সাধারণের ওপরও প্রভাব পড়ছে। ফলে যাত্রীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের হার বেড়েছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র সোমবারও ফেস মাস্কের ব্যাপারে হুসিয়ারি দিয়েছে। তারা বলছে, যেকোনো পাবলিক ট্রান্সপোর্ট চড়তে হলে অবশ্যই ফেস মাস্ক পরতে হবে।
এয়ারলাইন্সগুলো প্রথম দিকে স্বাস্থ্যগত কারণেই ফেস মাস্কের ব্যবহারে জরুরি নির্দেশ জারি করে। তবে দিন দিন তাতে ব্যাপক লঙ্ঘন দেখা যায়। এমনকি একটি গ্রুপ বলে বেড়াচ্ছিল, মানুষের মুখ ঢাকতে বাধ্য করা নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
জুলাই থেকে ফেস মাস্ক পরার ব্যাপারে যাত্রীদের প্রতি কঠোর নির্দেশ জারি করে এয়ারলাইন্সগুলো। ফেস মাস্কের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে তারা প্রফেশনাল চিকিৎসা সুবিধা কমিয়ে দেয়। তবে ডেলটা এয়ারলাইন্স এখনও মেডিকেল সুবিধা জারি রেখেছে যাত্রীদের জন্য। যাত্রীদের শারীরিক চিকিৎসায় তারা ভার্চুয়াল পরামর্শ দিয়ে থাকে।
বিমানের মধ্যে কিছু যাত্রী সবসময় খাবার নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তারা চা-কফিসহ নানা খাবার বিমানের মধ্যে খায়। এতে ফেস মাস্কের ব্যাপারে তারা ততটা গুরুত্ব দেয় না। তবে বিমানে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করার বিধি কার্যকর করাও দুষ্কর।
এক এয়ারলাইন্স মুখপাত্র বলছেন, অনেকে মুখে মাস্ক পরতে কষ্ট হয়। তাদের অনেকে জানিয়েছে তারা মাস্ক পরতে পারবে না। একারণে মাস্ক না পরা যাত্রীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। যাত্রী অধিকার সংরক্ষণে কাজ করে এমন একটি সংগঠন বলছে, বিমানবন্দর কিংবা এয়ারপোর্টে নাগরিক নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব স্থানে স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা না থাকলে তা পুরো জাতির মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ারস মেগান লুটকে বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি পালন একটা অবশ্য কর্তব্য বিষয়। আমাদের যাত্রীদের সুরক্ষা রাখাই আমাদের দায়িত্ব। সুতরাং সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

আরও খবর
Loading...