বিমানের লন্ডন রুটে ফ্লাইট বাড়ানোর দাবি

অলস বসে আছে ১৮ উড়োজাহাজ

বাংলাদেশ বিমানের ঢাকা লন্ডন রুটে ফ্লাইট বাড়ানোর দাবি জানিযেছেন লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। তারা বলেছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে লন্ডন থেকে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশে দেশে ফিরে এসেছিলেন। তাদের অনেকে এখন আবার লন্ডনে ফিরে যেতে টিকিটের জন্য হন্য হয়ে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের দারে দারে ঘুরছেন। কিন্তু বিমানের ঢাকা থেকে লন্ডন রুটে ফ্লাইট ১টা হওয়ায় টিকিট পাচ্ছেন না তারা। এই অবস্থায় টিকিটের জন্য হাহাকার পড়ে গেছে।

লন্ডন প্রবাসীরা বলেছেন, আগামী আগষ্ট মাস পর্যন্ত বিমানের লন্ডন রুটে কোন সীট নেই। তারপরও বিমান ফ্লাইট বাড়াচ্ছে না। এটা রহন্যজনক ! কেন বাড়াচ্ছেন না তাও জানাচ্ছে না বিমান?  অথচ বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলো ট্রানজিটের মাধ্যমে ফ্লাইট ভর্তি করে লন্ডনের যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলোর সংগে আন্ডারহ্যান্ড ডিলিং করে বিমানের মার্কেটিং ও শীর্ষ ম্যানেজমেন্টের একটি সিন্ডিকেট এখন ফ্লাইট বাণিজ্য করছে। ফ্লাইট না বাড়িয়ে বিমানের যাত্রীদের বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলোর হাতে তুলে দিচ্ছে। আর এই খাত থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের  মার্কেটিং বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেণ, এই মুহুর্তে সপ্তাহে ৩টি ফ্লাইট দিলেও লন্ডন রুটে যাত্রীর অভাব হবে না। কিন্তু বিমানের হাই অফিসিয়াল এয়ারকন্ডিশন রুমে বসে বসে কর্মীদের বেতন কাটছে আর ফ্লাইট না চালিয়ে উড়োজাহাজগুলো অলস বসিয়ে রাখছে। অথচ না চালালেও এই উড়োজাহাজ গুলোর জন্য মাসে শুধু রক্ষনাবেক্ষন খরচ ১৬৬ কোটি টাকা। অভিযোগ আছে এই খরচের নামেও হচ্ছে লুটপাট।

জানাগেছে কাতার এয়ারলাইন্স কাতার থেকে প্রতিদিন কাতার-লন্ডন রুটে একটি ফ্লাইট করছে। একইভাবে এমিরেটস এয়ারলাইন্সও লন্ডন রুটে সপ্তাহে ৭টি ফ্লাইট করছে।  বাংলাদেশ থেকে যাত্রী নিয়ে তারা ট্রানজিট পেসিঞ্জার হিসাবে এই ফ্লাইটগুলো চালাচ্ছে। অথচ বালাদেশ বিমান ম্যানেজমেন্ট বসে বসে ঘুমাচ্ছে। আর জনগনের টাকা শ্রাদ্ধ করছে।

খোদ বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বিমান ম্যানেজমেন্টের এই আচরণে হতবাক। তারাও বলেছেন, লন্ডন রুটে এখন টাকা কামানোর সুযোগ। কিন্তু বিমান সপ্তাহে ফ্লাইট চালাচ্ছে মাত্র ১টি। সম্প্রতি বিমানের ৩টি সেল্‌স সেন্টার খোলা হয়েছে। এসব সেল্‌স সেন্টারে মাসে লাখ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। তারপরও তারা যাত্রী পাচ্ছে না। যেমনি ভাবে যাত্রী কম পাওয়ার অযুহাত দেখিয়ে অভ্যন্তরিন রুটে কোন ফ্লাইট চালাচ্ছে না। অথচ দেশীয় বিমান সংস্থাগুলো জাহাজ ভর্তি করে ফ্লাইট পরিবহন করছে।

আরও খবর
Loading...