বেতন-ভাতা কমানোয় জীবন-যাপনে হিমশিম খাচ্ছেন বিমানের ক্রুরা

করোনার কারণে আয় কমার অজুহাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ক্রুদের দু-একটি বাদে প্রায় সব ভাতা বন্ধ।  ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কর্তনের পর মাসিক বেতনের পরিমাণ ঠেকেছে তলানিতে। এ অবস্থায় স্বাভাবিক জীবন-যাপনে হিমশিম খাচ্ছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্রুরা।

বিমানে পাঁচ বছর ধরে চাকরি করেন- এমন একজন কেবিন ক্রু (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক-১) বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সব কাটার পর মাসে বেতন পাই প্রায় ২২ হাজার টাকা। অথচ মাসের বাড়িভাড়া ও সার্ভিস চার্জ বাবদই খরচ হয় ২৫ হাজার টাকা। কয়েক মাস ধরে সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে বাড়িভাড়া পরিশোধ করেছি। সেই টাকাও শেষের পথে।

বহরে ১৮টি উড়োজাহাজ নিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের বেতনে মাসে ৫০ কোটি টাকা খরচ করে। এই খরচ কমাতে মে মাস থেকে কর্মীদের ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন কম দিচ্ছে তারা। এক অফিস আদেশে গ্রুপ ১ থেকে ৩ (২) পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মোট বেতনের (গ্রস স্যালারি) ১০ শতাংশ, গ্রুপ ৪ থেকে ৫ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের ১৫ শতাংশ, ৬ থেকে ৮ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের ২০ শতাংশ এবং ৯ থেকে উপরের কর্মকর্তাদের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেতন কর্তন করা হচ্ছে। অন্যদিকে পাইলটদের ক্ষেত্রে যাদের চাকরির বয়স ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে, তাদের আউট স্টেশন অ্যালাউন্স কর্তনের পর যে বেতন থাকে তার ২৫ শতাংশ কর্তন করা হচ্ছে। যাদের চাকরির বয়স ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে, তাদের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ এবং যাদের চাকরির বয়স ১০ বছরের বেশি, তাদের ক্ষেত্রে কর্তন করা হচ্ছে ৫০ শতাংশ।
পাশাপাশি ব্যয় কমাতে করোনাকালে চুক্তিভিত্তিক দেশি-বিদেশি ১৭ পাইলটকে বিনা বেতনে ছুটিতেও পাঠায় বিমান। শুধু বেতন নয়, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পাইলট-কেবিন ক্রুদের ৫০ শতাংশ পেনশন কাটার সিদ্ধান্তও নেয় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি।

পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বিমানের ফ্লাইটে কর্মরত একজন ফ্লাইট স্টুয়ার্ড (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক-২) বলেন, জুলাইয়ের বেতন থেকে করোনার কারণে নগদ ৪ হাজার ২০০ টাকার মতো কেটেছে। কয়েকটি ভাতা বন্ধ করায় গত মাসে মাত্র ২৪ হাজার টাকার মতো বেতন পেয়েছি। এই টাকা দিয়ে বাড়িভাড়া দেব কীভাবে? সন্তানদের খরচ মেটাব কীভাবে?

করোনাকালে দীর্ঘদিন ফ্লাইট বন্ধের পরে বেশ কয়েকটি রুটে চলাচল শুরু করেছিল বিমান। তবে যাত্রী সংকটসহ নানা কারণে অনেক রুটে ফ্লাইট স্থগিত করে তারা। বর্তমানে কয়েকটি অভ্যন্তরীণ রুটে এবং কুয়ালালামপুর, দুবাই ও লন্ডন (আন্তর্জাতিক) রুটে ফ্লাইট চালাচ্ছে তারা। তবে দু-একদিন পরপর চলছে বিমানের বিশেষ ফ্লাইট।

আরও খবর
Loading...