ভারতীয়দের দাবি, জবাইকৃত গরুর আর্তনাদেই ভূমিকম্প হয়

ভারতের কেন্দ্রীয় পশুপালন মন্ত্রণালয় অধীনস্থ ‘রাষ্ট্রীয় কামধেনু আয়োগ’ কমিটি গরু নিয়ে পরীক্ষার আয়োজক। দেশের পশুকল্যাণের জন্য ২০১৯-’২০ সালের বাজেটে ‘রাষ্ট্রীয় কামধেনু আয়োগ’-এর নাম অন্তর্ভুক্ত করে আর্থিক বরাদ্দের বন্দোবস্ত করে নরেন্দ্র মোদী সরকার।

গো-হত্যার সঙ্গে ভূমিকম্পের সম্পর্ক নিয়েও অভিনব ‘বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব’ হাজির করেছে কামধেনু আয়োগ। সেখানে জুড়ে দেওয়া হয়েছে কিংবদন্তি বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের নাম। তাদের ব্যাখ্যা, কোনও এক জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে গবাদি পশু জবাই করা হলে তাদের মরণ-আর্তনাদের ‘প্রভাব’ পড়ে ভূস্তরের উপর। ‘আইনস্টাইনিয়ান পেন ওয়েভ’-এর দীর্ঘস্থায়ী ফল হিসেবেই ভূমিকম্প হয় বলে জানানো হয়েছে পাঠ্যসূচিতে।

কেন্দ্রীয় মৎস্যচাষ, পশুপালন এবং দুগ্ধ উৎপাদন মন্ত্রনালয়ের অধীনস্থ সংস্থা হিসেবে কাজ করে কামধেনু আয়োগ। ভারতের পশুপালন মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইটেই ১ ঘণ্টার এই অনলাইন পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে তারা। তাদের আয়োজিত পরীক্ষার নাম, ‘কামধেনু গো বিজ্ঞান প্রচার-প্রসার পরীক্ষা’। তাদের লক্ষ্য, জাতীয় গো-কল্যাণ কর্মসূচিকে শক্তিশালী করা।

বছর খানেক আগে দেশি গরুর দুধে সোনার ‘হদিস’ দিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি-র সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এরপর রাজ্য বিজেপি-র এক নেতা পোল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাপত্র পেশ করে গো-দুগ্ধে সোনার উপস্থিতি দাবি করেন। ওই গবেষণাপত্রে গরুর দুধে অন্য নানা খনিজের সঙ্গে সামান্য সোনার উপস্থিতির কথা বলা হয়েছিল। তবে তা দেশি গরু নয়। কামধেনু আয়োগের পাঠ্যসূচি অবশ্য জানাচ্ছে, কেবলমাত্র দেশি গরুর দুধেই রয়েছে সোনা।

দেশ জুড়ে ‘গো বিজ্ঞান পরীক্ষা’ নেওয়া হচ্ছে দেশের ৯০০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে সেই মর্মে নির্দেশও পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। অনলাইনে গরু বিষয়ক এই সরকারি পরীক্ষায় বসার জন্য পড়ুয়াদের উৎসাহিত করতে বলা হয়েছে। কামধেনু আয়োগের এমন অবৈজ্ঞানিক অদ্ভুত দাবি নিয়ে সোচ্চার হয়েছে দেশটির সচেতন মহল। এই ধরনের কোনও পরীক্ষা নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির বাংলা বিভাগীয় প্রধান রাজ্যেশ্বর সিংহ বলেন, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞানমনষ্ক, ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থা প্রচার করে, রাষ্ট্রের দায়িত্বও সেটাই হওয়া উচিত।”

আরও খবর
Loading...