বাংলাদেশ ভারত ফ্লাইট চলাচল শুরু করতে ভারতের সিভিল এভিয়েশনকে চিঠি দিয়েছে বেবিচক

কোন কোন রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে তার তালিকা দেয়া হয়েছে ভারতকে

এয়ারলাইন্স ডেস্ক : ভারত বাংলাদেশ ফ্লাইট চলাচল শুরু করতে গত ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কতৃপক্ষ (বেবিচক)  চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান ভারতের সিভিল এভিয়েশনের মহাপরিচালক বরাবর চিঠি দিয়েছন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের করোনা পরিস্থিতি এখনো আশঙ্কাজনক এবং উভয় দেশে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তারপরেও দুই দেশের মানুষের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় ফ্লাইট চলাচল চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ আগ্রহী।

চিঠিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-দিল্লি, দিল্লি-ঢাকা, ঢাকা-কলকাতা ও কলকাতা-ঢাকা রুটে, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স ঢাকা-কলকাতা, কলকাতা-ঢাকা, ঢাকা-চেন্নাই, চেন্নাই-ঢাকা রুটে এবং নভোএয়ার ঢাকা-কলকাতা ও কলকাতা-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে জানানো হয়।

এছাড়া চিঠিতে এয়ার বাবল চুক্তি চূড়ান্তে কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো ভারত থেকে কতটি ফ্লাইট পরিচালনা হবে এবং এর বিপরীতে বিমান সংস্থাগুলোর কত ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ প্রয়োজন। এছাড়া বিমান সংস্থাগুলোর জন্য টিকিটের দাম, গ্রাউন্ড হান্ডলিং, এয়ারপোর্ট ফি নির্ধারণ প্রয়োজন কিনা তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

অপর দিকে পররাষ্ট্র সচিব ও বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো অপর এক চিঠিতে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এয়ার বাবল ফ্লাইট পরিচালনার জন্য দেশীয় বিমান সংস্থাগুলো থেকে উড়োজাহাজের ধরন ও যাত্রী বহনের সক্ষমতার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

তবে চুক্তি চূড়ান্তের আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কতজন বাংলাদেশি ও বাংলাদেশে কতজন ভারতীয় নাগরিক ফেরার অপেক্ষায় আছেন তার সম্ভাব্য সংখ্যা জানা প্রয়োজন। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা, ব্যবসা, পড়াশোনা কাজে সম্ভাব্য যাত্রীর সংখ্যাও জানা জরুরি। একইসঙ্গে ভারতের বর্তমান কোভিড ১৯ পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে বিশদ ধারণাও পাওয়া দরকার।

এছাড়া বাংলাদেশি বিমান সংস্থাগুলোর ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিরূপণের স্বার্থে বেশকিছু বিষয়ে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামত প্রয়োজন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার ক্ষেত্রে রোগীর সঙ্গে একাধিক সহায়তাকারীকে ভ্রমণের সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া ভারতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হলে সেখানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশিদের যাতায়াত উন্মুক্তকরণের জন্যও বলা হয়েছে। যেহেতু ভারতে গমনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের নতুন করে ভিসা নিতে হবে, সেক্ষেত্রে চিকিৎসা, ব্যবসায়িক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে কী পরিমাণ যাত্রী ভারতে যেতে পারবেন এবং এ ব্যাপারে ভিসা সংক্রান্ত শর্তাবলি সম্পর্কে ধারণা প্রয়োজন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

একইসঙ্গে চিঠিতে আরও কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। যেমন বাংলাদেশের সব এয়ারলাইন্সের পাইলটদের ভারতের অভ্যন্তরে সিমুলেটর ট্রেনিং কার্যক্রমের জন্য ভিসা ও কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা সহজিকরণ, উভয় দেশের যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নিয়মাবলি সম্বন্ধে ধারণা এবং অন্য যে আট দেশের সঙ্গে ভারত  এয়ার বাবল চুক্তি করেছে তার খসড়া সংগ্রহ।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান  বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ভারতের সিভিল এভিয়েশন বরাবর চিঠি দিয়েছি। আমরা কোন কোন রুটে বিমানের ফ্লাইট পরিচালনা করতে চাই তার একটি তালিকা দিয়েছি। তাদের কাছে জানতে চেয়েছি, তারা কোন কোন রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে চায়। আমাদের থেকে ভারতের করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি নাজুক।

আমরা আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চেয়েছি এ অবস্থায় ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে কিনা। একইসঙ্গে আমাদের দেশের নাগরিকদের ভ্রমণ সহজের জন্য উদ্যোগ নিতেও আমরা সুপারিশ করেছি।

জানাগেছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এয়ার বাবল চুক্তি নির্ভর করছে প্রতিবেশী দেশটির করোনা পরিস্থিতির ওপর। কোভিড ১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতির দিক দিয়ে ভারতের অবস্থা নাজুক উল্লেখ করে সম্প্রতি স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় দেশটির সঙ্গে ফ্লাইট পরিচালনা যথাযথ হবে কিনা এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ চেয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

গত ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে  এয়ার বাবল ফ্লাইট  পরিচালনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর এক যৌথ সভায় এই পরামর্শ চাওয়া হয়। এয়ার বাবল ফ্লাইট বলতে দুটি দেশের মধ্যে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রবিধান মেনে ফ্লাইট চালুকে বোঝায়। গত ১৮ আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ সফরে এসে  এয়ার বাবল ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তাব দেন। এ পর্যন্ত ৮টি দেশের সঙ্গে এই চুক্তি করেছে ভারত।

৩ সেপ্টেম্বরের সভায় জানানো হয়, এয়ার বাবল ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তাবনায় ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়ছে, বাংলাদেশ থেকে কেবল চিকিৎসা ও ব্যবসার কাজে বৈধ ভিসাধারী ও কূটনৈতিক ব্যক্তিরা দেশটিতে ভ্রমণ করতে পারবেন। চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীর সঙ্গে যেতে পারবেন একজন সহায়তাকারী।সুত্র-দৈনিক আমাদের সময়

আরও খবর
Loading...