ভিসা জটিলতায় চাকরির বাজার হারাচ্ছেন বাংলাদেশি নাবিকরা

Bangladeshi-sailorsএভিয়েশন নিউজ: ভারত, সিঙ্গাপুর, হংকং, সৌদি আরব, আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশি নাবিকরা দীর্ঘদিন ধরে ভিসা জটিলতায় ভুগছেন। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম এ খাত ক্রমেই সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। সংকট সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে নাবিকদের সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন।

মেনিং এজেন্ট মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতের কোনো বন্দর থেকে (গুজরাট ও মুম্বাই বন্দর) বাংলাদেশি নাবিকরা বিদেশি জাহাজে উঠতে চাইলে দূতাবাস থেকে ভিসা প্রদানে গড়িমসি করে। তবে সরাসরি ভিসা দেবে না, এ কথাও বলে না। এ ছাড়া জাহাজ নিয়ে ভারতের বিভিন্ন বন্দরে বাংলাদেশি নাবিকরা গেলে সেসব বন্দরে তাঁদের নামতে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

জানা গেছে, বাংলাদেশের প্রায় ছয় হাজার প্রশিক্ষিত নাবিক এবং তিন হাজার ক্রু বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাহাজে চাকরি করে প্রতিবছর প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান। অথচ এখন বাংলাদেশি নাবিকরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাতায়াতে ভিসা জটিলতার কারণে বাধার মুখে পড়ছেন।

নাবিকদের ভিসা সমস্যার বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর জাকিউর রহমান বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এসব দেশের সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সদস্য ক্যাপ্টেন জিল্লুর রহমান ভূঁইয়া জানান, সিঙ্গাপুর ও আরব আমিরাতে যাতায়াতের জন্য বাংলাদেশি নাবিকরা ভিসা জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশ্বের খ্যাতনামা সব শিপিং কম্পানি দুবাই, সিঙ্গাপুর ও হংকংভিত্তিক। তাই ভালো কোনো শিপিং কম্পানিতে চাকরি পেতে হলে সিঙ্গাপুর, দুবাই কিংবা হংকং হয়েই জাহাজে উঠতে (সাইন ইন) হয়। কিন্তু এসব দেশের ভিসা জটিলতার কারণে বাংলাদেশিরা ভালো চাকরি পাচ্ছেন না। এত দিন ভারতে এই সমস্যা থাকলেও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার পর কিছুটা সমাধান হয়েছে বলে তিনি জানান।

মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, অন্যান্য দেশের নাবিকরা সিঙ্গাপুরে অনায়াসে বিশেষায়িত ভিসা পান। কিন্তু বাংলাদেশিরা তা পাচ্ছেন না। বাংলাদেশি নাবিকদের সাধারণ ভিসা নিয়েই সিঙ্গাপুরে যেতে হয়। একই অবস্থা হংকংয়েও।

বিদেশি জাহাজে নাবিক নিয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার (মেনিং এজেন্ট) মালিকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সৌদি সরকার দুই বছর আগে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সৌদি আরবের সব ট্রাভেল এজেন্ট এবং শিপিং কম্পানিকে বাংলাদেশি কোনো নাবিকের ‘সিম্যান ডিসচার্জ বুক’ গ্রহণ না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। এতে করে অনেক বাংলাদেশি নাবিক মধ্যপ্রাচ্যের জাহাজগুলোয় চাকরির সুযোগ হারাচ্ছেন।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বাংলাদেশ মেনিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সদস্য ও হক অ্যান্ড সন্স কম্পানির মহাব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন শাহ আজিমুল হক বলেন, ‘ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) নীতিমালা অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশে গিয়ে যেকোনো নাবিকের সাইন ইন কিংবা সাইন আউট (জাহাজে যোগদান কিংবা চাকরি ছেড়ে আসা) করার অধিকার থাকলেও সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিরা তা পাচ্ছেন না। সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেও নাবিকদের ভিসা সমস্যার কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নাবিক অভিযোগ করে বলেন, ‘এ ব্যাপারে সৌদি আরবে বাংলাদেশি দূতাবাসের কর্মকর্তারা কোনো ভূমিকা রাখছেন না। এ ছাড়া দুবাইতে কোনো বাংলাদেশি নাবিক সংকটে পড়লে আমাদের দূতাবাস কোনো সহযোগিতা করে না।’

আরও খবর
Loading...