ভ্যাটমুক্ত কেনাকাটা বন্ধের পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে যুক্তরাজ্যে পর্যটন ও খুচরা বিক্রি খাত

 যুক্তরাজ্য : চলতি বছরের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য ভ্যাটমুক্ত কেনাকাটার সুবিধা বাতিলের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। এমন হলে কোটি কোটি পাউন্ড ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির পর্যটন ও খুচরা বিক্রি খাতের মালিকরা।

এ বিষয়ে মার্কস অ্যান্ড স্পেনসার, হিথ্রো ও সেলফ্রিজেসের মতো কোম্পানির প্রধানরা এক চিঠিতে জানিয়েছেন, সরকারের এমন পদক্ষেপে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রায় ৭০ হাজার চাকরি ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। খবর বিবিসি।

প্রতি বছর যুক্তরাজ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের পর্যটকদের কাছে ৩৫০ কোটি পাউন্ডের শুল্কমুক্ত পণ্য বিক্রি হয়। ভ্যাট রিটেইল এক্সপোর্ট স্কিমের (ভ্যাট আরইএস) আওতায় আন্তর্জাতিক পর্যটকরা যুক্তরাজ্যে ক্রয়কৃত পণ্যে পরিশোধকৃত ভ্যাট ফেরত চাইতে পারেন।

তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই পণ্যটি যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে ভোগ করা যাবে না। এ স্কিম লন্ডন ও এডিনবার্গের মতো পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে লাভবান করছে। একই সঙ্গে লাভবান করছে অক্সফোর্ডশায়ারের কেনাকাটার জন্য বিখ্যাত গ্রাম বাইসেস্টারকেও।

কিন্তু চলতি মাসের শুরুর দিকে সরকার জানিয়েছে যে ব্রেক্সিটের অন্তর্বর্তীকাল শেষ হওয়ার সময় ৩১ ডিসেম্বর থেকে এই ভ্যাট আরইএস বাতিল করা হবে। সরকারের দাবি, এ স্কিম যুক্তরাজ্যের জন্য খুব বেশি লাভজনক নয়। তাছাড়া আন্তর্জাতিক নিয়মের সঙ্গেও এটি যায় না।

তবে সমালোচকরা বলছেন, যুক্তরাজ্যের কোষাগার ভয় পাচ্ছে যে ব্রেক্সিটের অন্তর্বর্তীকাল শেষে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর পর্যটকদেরকেও ভ্যাট আরইএস সুবিধা দিতে হতে পারে, যা সার্বিকভাবে শুল্ক কর্তৃপক্ষের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করবে।

এ অবস্থায় দি অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিটেইল (এআইআর) অর্থমন্ত্রীর কাছে দেয়া চিঠিতে ভ্যাটমুক্ত কেনাকাটার সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। এআইআর সতর্ক করে দিয়ে জানায়, এমন সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাজ্য একমাত্র ইউরোপীয় দেশে পরিণত হবে, যেখানে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য ভ্যাটমুক্ত কেনাকাটার সুবিধা থাকবে না।

বিষয়টি দেশটির পর্যটন খাতের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাছাড়া এরই মধ্যে কভিড-১৯-এর কারণে ব্রিটেনের পর্যটন ও অবকাশ যাপন শিল্প ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় ভ্যাটমুক্ত কোনাকাটার সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পর্যটকদের হতাশ করবে।

এআইআর বস পল বার্নেস বলেন, মাদ্রিদ, মিলান ও প্যারিস এরই মধ্যে এ সিদ্ধান্তের কারণে খুশি হয়েছে। কারণ একই পণ্যের জন্য যদি আমরা অন্য এক-পঞ্চমাংশ বেশি দাম রাখি তাহলে আন্তর্জাতিক পর্যটকরা তাদের ভ্রমণ গন্তব্য যুক্তরাজ্য থেকে অন্য দেশে সরিয়ে নিতে দ্বিধা করবে না। আর এমন হলে বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিক্রয়কেন্দ্র অভূতপূর্ব ক্ষতির মুখে পড়বে, চাকরি হারাবে বহু মানুষ।

ভিসিট ব্রিটেনের দেয়া উপাত্ত অনুযায়ী, ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটকরা যুক্তরাজ্যে কেনাকাটা বাবদ ৬০০ কোটি পাউন্ড খরচ করেছে। এর মধ্যে ভ্যাটমুক্ত পণ্য বিক্রি হয়েছে ৩৫০ কোটি পাউন্ডের। তবে এর থেকে ভ্যাট ফেরত দিতে হয়েছে ২৫০ কোটি পাউন্ড।

হাতব্যাগ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মালবেরির প্রধান থিয়েরি আন্দ্রেত্তা বলেন, সরকার যে এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, তাতে কর্তৃপক্ষের দূরদৃষ্টির অভাব রয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত কন্টিনেন্টাল ইউরোপের বাজারে যুক্তরাজ্যের প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকে ধ্বংস করে দেবে।

এক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন আমাদের মতো ব্যবসায়ীরা। আর এটা তো বলারই অপেক্ষা রাখে না যে সার্বিকভাবে এ সিদ্ধান্ত এই খাতের চাকরি ও ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে।

ব্রিটিশ কোষাগারের এক মুখপাত্র বলেন, ব্রেক্সিটের অন্তর্বর্তীকালের পর আমাদের নিজস্ব শুল্ক ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে যাচ্ছি।

বিষয়টি সম্যক আলোচনার অধীন। আর এখন পর্যন্ত ভ্যাটমুক্ত কেনাকাটা সম্ভব হচ্ছে, কারণ বিক্রেতারা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন এবং তারা ক্রয়কৃত দ্রব্য সরাসরি তাদের দেশের ঠিকানায় পাঠাচ্ছেন।

-বণিকবার্তা

আরও খবর
Loading...