মার্কিন নির্বাচনে ফের হস্তক্ষেপ করতে চাইছে রাশিয়া -এফবিআই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে আবারও হস্তক্ষেপ করতে চাইছে রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশ। এমন অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইর প্রধান ক্রিস্টোফার রে। তিনি বলেন, ভুল তথ্য বা ভুয়া খবর ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে নির্বাচনে প্রভাব ফেলা হতে পারে।

বৃহস্পতিবার মার্কিন সিনেটের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে দেয়া বক্তব্যে এমন আশঙ্কার কথা জানান তিনি। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির এ বৈঠকে বেশ কিছু প্রমাণও তুলে ধরেন এফবিআইয়ের প্রধান।

ক্রিস্টোফার রে বলেন, প্রথমত, এবারও নির্বাচনকেন্দ্রিক বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে মস্কো। দ্বিতীয়ত, ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনকে তুচ্ছ প্রমাণ করতেও ভুল তথ্য দেয়া হচ্ছে। এছাড়া মার্কিনিদের মধ্যে রুশ বিরোধী মনোভাব পাল্টানোর জন্যও কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন ক্রিস্টোফার রে।

শুধু রাশিয়া নয়, চীন ও ইরানও আগামী ৩ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন এফবিআই প্রধান। তিনি বলেন, চীন মার্কিন প্রযুক্তি ও অন্যান্য গোপন তথ্য পেতে এতই মরিয়া হয়ে উঠেছে যে, তার সংস্থাকে প্রতি দশ ঘণ্টা পর পর নতুন তদন্ত শুরু করতে হচ্ছে।

এর আগে ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয় নিশ্চিত করতে রাশিয়া তার প্রতিপক্ষ হিলারি ক্লিন্টনের বিরুদ্ধে জোরালো প্রচার চালিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল।

ট্রাম্প নিজে আসন্ন নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলছেন। মেল-ইন ব্যালটের বেড়ে চলা ব্যবহারের কারণে তিনি কোনো ভিত্তি ছাড়াই কারচুপির আশঙ্কা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মহামারীর কারণে ভোটারদের একটা বড় অংশ এবার ডাকযোগে ভোট দেবেন বলে ধরে নেয়া হচ্ছে।

গত নির্বাচনেও প্রায় এক চতুর্থাংশ ভোটার এভাবে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছিলেন। বিশেষজ্ঞরা সেই প্রক্রিয়া নিয়ে সংশয়ের কোনো কারণ দেখছেন না।

এর আগে বিরোধী নেতা জো বাইডেন এক টাউন হল অনুষ্ঠানে আমেরিকার নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন।

বাইডেন বলেন, এবারের নির্বাচনেও রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি স্পষ্ট হলে এবং তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে রাশিয়াকে তার মূল্য চোকাতে হবে। সে দেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন তিনি। তার মতে, কোনো বিদেশি শক্তি নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করলে তা আমেরিকার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করবে।

সুত্র-যুগান্তর

আরও খবর
Loading...