মালয়েশিয়ার প্লেনের টিকিট সোনার হরিণ!

মালয়েশিয়ার প্লেনের টিকিট সোনার হরিণ!

ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে ফিরতি যাত্রাসহ ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে টিকিট পাওয়া গেলেও এখন তা ৫০ হাজার টাকায়ও মিলছে না। শুধু তা-ই নয়, ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো এয়ারলাইনসেরই টিকিট নেই। যা আছে, তা পাওয়ার চেষ্টাও সোনার হরিণের পেছনে ছোটার মতো। ডিসেম্বরের স্কুল ছুটিতে সপরিবারে মালয়েশিয়ায় ঘুরতে যাওয়ার সঙ্গে বাড়তি যোগ হয়েছে সেখানে অবৈধ ঘোষিত প্রবাসী শ্রমিকদের ফেরত আসার চাপ। এই দুইয়ে মিলে অবস্থা যখন জটিল তখন বিশেষ পদক্ষেপ নিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। মালয়েশিয়ায় বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশি শ্রমিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য চলতি মাসে এই রুটে ১৬টি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই বিমান সংস্থা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘ব্যাক ফর গুড’ কর্মসূচির আওতায় মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশি অবৈধ শ্রমিকদের দেশে ফিরে আসার সুযোগ দিলেও টিকিট সংকটের কারণে সেখানে অনেকে আটকে আছেন। সময়মতো ফ্লাইট না পাওয়ায় তাঁরা এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশে ফিরতে বিপাকে পড়েছেন। মালয়েশিয়া সরকার ঘোষিত এ সুযোগ এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। এই কর্মসূচির আওতায় নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২৯ হাজার বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসী সাধারণ ক্ষমার সুবিধা নিয়েছেন। আরো তিন হাজার আবেদন পড়েছে। মোট আবেদন পড়েছে প্রায় ৩২ হাজার। তাঁদের ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা টু মালয়েশিয়া রুটে তাদের নিয়মিত ফ্লাইটের অতিরিক্ত হিসেবে ১৬টি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করবে। বোয়িং ৭৩৭ ও ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার দিয়ে এসব ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। কবে থেকে এসব ফ্লাইট পরিচালিত হবে সেটি না জানালেও শিগগিরই এসব ফ্লাইট চালু করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা হিসেবে দেশের মানুষের প্রতি বিমানের সব সময়ই একটি দায়বদ্ধতা রয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সেই দায়বদ্ধতা থেকেই দেশের মানুষ ও প্রবাসী শ্রমজীবী ভাই-বোনদের প্রতি দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে এই বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করতে যাচ্ছে।’

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক বলেন, ‘আমাদের প্রবাসী ভাইদের সাহায্য করতে পেরে আমরা আনন্দিত। দেশের ও দেশের মানুষের স্বার্থ ও প্রয়োজনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ দপ্তর, সংস্থাগুলো সব সময়ই প্রস্তুত।’

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে দেশীয় বিমান বাংলাদেশ ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। এ ছাড়া বিদেশি এয়ারলাইনসের মধ্যে ফ্লাইট চালাচ্ছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস, মালিন্দো এয়ার ও এয়ার এশিয়া।

জানতে চাইলে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, যাত্রীদের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে ১৫, ১৭ ও ১৯ ডিসেম্বর ঢাকা-কুয়ালালামপুর এবং ১৬, ১৮ ও ২০ ডিসেম্বর কুয়ালালামপুর-ঢাকা তিনটি অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁদের প্রতিষ্ঠান।

কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন জানায়, আগে দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক অভিবাসীদের জেল, জরিমানা ও বিভিন্ন ধরনের আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হতে হতো। কিন্তু সাধারণ ক্ষমার আওতায় বাংলাদেশের অবৈধ কর্মীদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য মালয়েশিয়া সরকারের ‘ব্যাক ফর গুড’ কর্মসূচিতে এই কষ্টকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে না।

আরও খবর
Loading...