মৌলভীবাজারে পর্যটক কমেছে আশঙ্কাজনক হারে

মৌলভীবাজারে পর্যটক কমেছে আশঙ্কাজনক হারে।

সারা বছর মৌলভীবাজারে পর্যটকের আনাগোনা থাকলেও শীত মৌসুমে তা বেড়ে যায় কয়েকগুন। কিন্তু চলতি মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা কমে গেছে আশঙ্কাজনক হারে। ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে অন্যান্য বছর জেলার প্রতিটি হোটেল-রিসোর্ট পরিপূর্ণ থাকলেও এ বছর ছিল খালি। পর্যটন মৌসুমে পর্যটক কমে যাওয়ায় চিন্তিত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পর্যটন মৌসুমে মৌলভীবাজারে সবচেয়ে বেশি পর্যটক দেখা যায় কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেইক, হামহাম জলপ্রপাত, মনিপুরী পাড়া এবং শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন চা বাগান ও বাইক্কাবিল, কুলাউড়ার কালাপাহাড়সহ হাকালুকি হাওরে। এই পর্যটকদের ৯৫ শতাংশ থাকার জন্য বেছে নেন শ্রীমঙ্গলের প্রায় ৭০টি হোটেল রিসোর্টকে। কিন্তু এবছর পর্যটকের সংখ্যা কমে গেছে ৮০ শতাংশ। ৭০টি হোটেল রিসোর্টে গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ছাড়া সব রুম খালি ছিল।

শ্রীমঙ্গল শহরের গ্রীণলিফ রিসোর্টের পরিচালক এসকে দাস সুমন জানান, গত বছর তার রিসোর্টের ৯০ শতাংশ রুমে পর্যটক ছিল কিন্তু এই বছর তার ৮৫ শতাংশ রুম পর্যটক শূন্য। পর্যটন বান্ধব পরিবেশ না থাকায় পর্যটকরা বিদেশমুখী হচ্ছেন বলে তার ধারণা।

পর্যটন সেবা সংস্থার শ্রীমঙ্গলের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক জানান, গত কয়েক বছর ধরে পর্যটক কমছে কিন্তু এই বছর তা আশঙ্কাজনক হারে কমে এসেছে। পর্যটক কমার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পর্যটকরা এখন বিদেশমুখী। খরচের অনুপাতে ভারত, থাইল্যান্ড বা বালিতে পর্যটকরা যে সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে আমাদের এখানে তা পাচ্ছেনা। দেশে পর্যটনের ব্যাপারে সরকার উদাসীন। পর্যটকদের জন্য ন্যূনতম সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। হাজার হাজার পর্যটক আসেন কিন্তু ভাল একটি পাবলিক টয়লেটও নেই শ্রীমঙ্গলে। আন্তঃনগর ট্রেনে নেই পর্যাপ্ত আসন। সেই সাথে আছে মাইকের বিকট শব্দ।

মাধবকুণ্ড পর্যটক সহায়ক ও উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান কবির জানান, নববর্ষে আগত পর্যটকদের সংখ্যা প্রতি বছর বৃদ্ধি পায় কিন্তু এই বছর তা হয়নি। আমাদের ধারণা ছিল নববর্ষ উপলক্ষে মাধবকুণ্ডে ১৫ থেকে ২৫ হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটবে। সেখানে মাত্র সহস্রাধিক পর্যটকের সমাগম ঘটেছে যার বেশিরভাগই স্থানীয় পর্যটক।

আরও খবর
Loading...