যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার ইউরোপের ওপর সৌদির ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার ইউরোপের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব। করোনা আতঙ্কে ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশ এবং আরও ১২ দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এর আগে ওমান, ফ্রান্স, জার্মানি, তুর্কি, স্পেন, আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, মিসর, ইতালি এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় নাগরিকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আনে সৌদি।

আগের ওই নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে আরও দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আনা হলো। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নতুন করে আরও ২৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। ফলে দেশটিতে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫।

বুধবার প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এমন ঘোষণা আসার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপ থেকে আগত নাগরিকদের ওপর সব ধরনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। তবে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকছে না যুক্তরাজ্য।

আগামী শুক্রবার থেকে এই নিষেধাজ্ঞা চালু হবে। নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এমন পদক্ষেপ নিলেন ট্রাম্প। এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সব ধরনের বাণিজ্যিও বন্ধ থাকবে। জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইউরোপে বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে কারণ দেশগুলো চীন থেকে লোকজনের আসা-যাওয়া বন্ধ করতে পারছে না।

অপরদিকে সৌদির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশগুলোতে থাকা নিজ দেশের নাগরিকদের ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তারা চাইলে দেশে ফিরতে পারবেন।

এছাড়া জর্ডানের সঙ্গে সব ধরনের যাত্রী পরিবহন বাতিল করা হয়েছে। তবে বাণিজ্যিক ও কার্গো পরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। কেউ নিজের স্বাস্থ্য বা ভ্রমণের বিষয়ে কোনো তথ্য গোপন করলে তাকে ৫ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে এক সৌদি পুরুষ ও এক নারী সম্প্রতি ইরাক থেকে দেশে ফিরেছেন। অপরদিকে করোনায় আক্রান্ত এক ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকা তার ১২ বছর বয়সী নাতনীও করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

এর আগে কাতিফ এলাকায় থাকা ওই ব্যক্তির শরীরে করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে। সম্প্রতি তিনি ইরান থেকে দেশে ফিরেছেন। এছাড়া সৌদিতে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত বাকি ২১ জন মিসরের নাগরিক। বুধবার তাদের করোনায় আক্রান্তের বিষয়টি ধরা পড়ে।

সৌদিতে করোনায় আক্রান্ত ৪৫ জনের মধ্যে একজন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এছাড়া বাকিদের কেউ কেউ কোয়ারেন্টাইনে অথবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কাজ করে যাচ্ছে সৌদি প্রশাসন। আগামী ১১ মার্চ পর্যন্ত সাময়িক সময়ের জন্য সব সিনেমা থিয়েটার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এসব থিয়েটার বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও খবর
Loading...