যুক্তরাষ্ট্রে ৭৬ সৌদি নাগরিকের ওপর আর্থিক ও ভিসা নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার ঘটনায় সৌদি আরবের সাবেক এক কর্মকর্তা ও রাজকীয় একটি বাহিনীর ওপর আর্থিক নিষেথাজ্ঞার পাশাপাশি দেশটির ৭৬ নাগরিকের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ।

সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যায় যুবরাজ অনুমোদন দিয়েছিলেন বলে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরপরই ওয়াশিংটন রিয়াদের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নিল।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মোহাম্মদ বিন সালমানকে ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিক খুনে দায়ী করা হলেও শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি তার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সাংবাদিক জামাল খাসোগির নামে একটি আইন প্রণয়ন করেছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে, ‘খাসোগি আইন’। যেসব বিদেশি ভিন্নমতাবলম্বীদের হুমকি দেবে বা সাংবাদিক এবং তাদের পরিবারকে হয়রানি করবে; এই আইনের অধীন তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।

এই আইনে ৭৬ সৌদি নাগরিককে কালোতালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে ব্লিংকিন বলেন, আমরা পরিষ্কার করে দিয়েছি যে বাইরের দেশে বসবাস করা ভিন্নমতাবলম্বী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের হুমকি ও হামলা সৌদি আরবকে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র তা সহ্য করবে না।

সৌদি গুপ্তচরেরা ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে জামাল খাসোগিকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

বাইডেন প্রশাসনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রভাবের কথা বিবেচনায় নিয়ে বলা যায় তার সবুজ সংকেত ছাড়া এই হত্যাকাণ্ড অসম্ভব। বিদেশের মাটিতে ভিন্নমতাবলম্বীদের নীরব করিয়ে দিতে সহিংস পদক্ষেপে যুবরাজের সমর্থনের সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ড মিলে যায়।

যুবরাজের কঠোর সমালোচক খাসোগি মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টে নিয়মিত লিখতেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা হলেও ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে যেতে তাকে প্রলুব্ধ করা হয়েছিল।

মার্কিন অর্থমন্ত্রণালয় বলছে, সৌদির র‌্যাপিড ইন্টারভেনশন ফোর্সসহ সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অপরাধী লেনদেন ও সম্পদ জব্দ করা হচ্ছে।

যুবরাজের সুরক্ষায় কাজ করা অভিজাত বাহিনী এই র‌্যাপিড ইন্টারভেনশন ফোর্স। তাদের জবাবদিহিও একমাত্র যুবরাজের কাছে।

আরও খবর
Loading...