যে কারণে ভারতে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড বা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত দু’তিনমাস ধরে অস্বাভাবিক কম হলেও
ভারতে কিন্তু চলতি মাসে পেট্রোল ও ডিজেল রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে।

সরকার নিয়ন্ত্রিত অয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলো (ওএমসি) এই জুন মাসেই একটানা প্রায় ২২ দিন ধরে রোজ পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়ে চলেছে।

যার ফলে রাজধানী দিল্লির বাসিন্দারা ইতিহাসে এই প্রথমবার প্রতি লিটার ৮০ রুপিরও বেশি দাম দিয়ে পেট্রোল ও
ডিজেল দুটোই কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

মুম্বাই বা ভোপালে পেট্রোলের দাম প্রায় ৯০ টাকা লিটারে পৌঁছে গেছে।

পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস সারা দেশ জুড়ে সোমবার তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছে –
দেশের বিভিন্ন শহরে কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হয়েছেন।

কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী এক ভিডিও বার্তায় সরকারের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছেন, এই করোনাভাইরাস মহামারিতে দেশ যখন ইতিমধ্যেই সঙ্কটে,
তখন যেন জ্বালানি তেলের এই বর্ধিত দাম অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হয়।

‘সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে জোর করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে’ বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

ভারতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের দাম কত হবে, সেটা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর সরাসরি নির্ভর করবে (‘লিঙ্কড’) –
কেন্দ্রীয় সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ২০১৪ সালেই।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ক্রুডের দাম এখন ৪০ ডলারের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে।
মার্চের মাঝামাঝি থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত তা ২০ থেকে ৩০ ডলারের মধ্যেই ছিল।

ক্রুড বা অপরিশোধিত তেলের দাম এত কম হওয়া সত্ত্বেও ভারতীয় ক্রেতাদের পাম্পে জ্বালানি তেলের জন্য এত বেশি দাম দিতে হচ্ছে কেন,
সে প্রশ্ন তাই সঙ্গত কারণেই উঠছে।

আরও খবর
Loading...