শাহজালাল ও কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়নে ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ভবনের ফাউন্ডেশনে স্ক্রিউড স্টিল পাইলের (এসএসপি) পরিবর্তে বোরড পাইল ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি জানিয়েছেন, এ বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে রূপান্তর এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি ক্রয় প্রস্তাবসহ মোট পাঁচটি ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশের বাইরে থাকায় সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।
বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জ‌্যেষ্ঠ সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভা শেষে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনাল ভবনের ফাউন্ডেশনের স্ক্রিউড স্টিল পাইলের পরিবর্তে বোরড পাইল ব্যবহারের ভেরিয়েশন বা কার্যবিধি পরিবর্তনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এতে ব্যয় কমেছে। এ প্রকল্প দেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।
এ বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ হলে সারা বিশ্বের কাছে বলতে পারব, আমাদেরও আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর আছে।’

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে শাহজালাল বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ ও সম্প্রসারণের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন ও খসড়া মাস্টারপ্ল্যান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
২০১৭ সালে ২৪ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় একনেক।
এ প্রকল্পে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ১৩ হাজার ৬১০ কোটি ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
নির্মাণকাজে অর্থায়ন করবে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। সব ধরনের সহায়তা দেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ শেষ হতে সময় লাগবে ৪ বছর। তৃতীয় টার্মিনাল ভবন হবে তিন তলা।
২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এ ভবনের নকশা করেছেন স্থপতি রোহানি বাহারিন।
তিনি এনওসিডি-জেভি জয়েন্ট ভেঞ্চার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সিপিজি করপোরেশন (প্রাইভেট) লিমিটেডের (সিঙ্গাপুর) স্থপতি। তৃতীয় টার্মিনালের বহির্গমনের জন্য ১৫টি সেলফ সার্ভিস চেক-ইন কাউন্টারসহ ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার থাকবে।

এছাড়া, ১০টি স্বয়ংক্রিয় পাসপোর্ট কন্ট্রোল কাউন্টারসহ মোট ৬৬টি ডিপারচার ইমিগ্রেশন কাউন্টার থাকবে।
আগমনীর ক্ষেত্রে পাঁচটি স্বয়ংক্রিয় চেক-ইন কাউন্টারসহ ৫৯টি পাসপোর্ট এবং ১৯টি চেক-ইন অ্যারাইভাল কাউন্টার থাকবে।
টার্মিনালে ১৬টি আগমনী ব্যাগেজ বেল্ট স্থাপন করা হবে।

অতিরিক্ত ওজনের ব্যাগেজের জন্য চারটি পৃথক বেল্ট স্থাপন করা হবে।
তৃতীয় টার্মিনালে সঙ্গে বর্তমান টার্মিনাল ভবনগুলোর সঙ্গে প্রকল্পের প্রথম ধাপে কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকবে না।
তবে প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে কানেকটিং কোরিডোরের মাধ্যমে পুরনো টার্মিনাল ভবনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা হবে।
গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য তৃতীয় টার্মিনালে সঙ্গে মাল্টিলেভেল কার পার্কিং বিল্ডিং ভবন নির্মাণ করা হবে, সেখানে ১ হাজার ৪৪টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

বর্তমানে ভিভিআইপিদের জন্য শাহজালাল বিমানবন্দরে আলাদা ভিভিআইপি কমপ্লেক্স আছে। সেটি ভেঙে ফেলা হবে।
তৃতীয় টার্মিনালে পৃথকভাবে কোনো ভিভিআইপি টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে না। টার্মিনাল ভবনের ভেতরে দক্ষিণ পাশে সর্বাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ভিভিআইপি স্পেস থাকবে।

কৃষিমন্ত্রী জানান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়র দুটি প্রস্তাবের মধ্যে দ্বিতীয় ক্রয় প্রস্তাবটি ছিল কক্সবাজার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ। এ প্রস্তাবটি কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। এটি বড় প্রস্তাব। সরকারের প্রাধিকার প্রকল্পের অন্যতম এটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে বার বার তাগিদ দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে ১ হাজার ৮৬৮ কোটি ৫২ লাখ ৬৯ হাজার ৪৫০ টাকার প্রকল্পের সুপারিশ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের ঠিকাদার চায়নার সিআরসি কোম্পানি।

আরও খবর
Loading...