সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরের ৪৫২ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি

সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরের ৪৫২ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি।

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উন্নয়নে নেয়া ৪৫২ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে চলছে ধীরগতি। নির্ধারিত সময় দুই বছর শেষ হলেও প্রকল্পের অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী। ফলে প্রকল্পের সময় আরও দুই বছর বাড়ানোর আবেদন করেন সংশ্লিষ্টরা। আবেদনটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে রয়েছে।

জানা গেছে, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদ্যমান রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের শক্তি বৃদ্ধিকরণে ৪৫১ কোটি ৯৭ লাখ ৭৩ হাজার টাকার একটি প্রকল্প নেয়া হয়। সরকার অনুমোদিত প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা ছিল। পুরো সময় শেষে প্রকল্পের অগ্রগতি শূন্যের কোটায়।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) বলছে, এ প্রকল্পের অগ্রগতি খুবই ধীরগতিসম্পন্ন। নির্ধারিত সময় শেষে প্রকল্পের অগ্রগতি শূন্য হওয়া হতাশাব্যঞ্জক। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাল্লা গ্রুপ। তবে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান জানান, প্রকল্পের ফিজিক্যাল অগ্রগতি প্রায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ। ফিজিক্যাল ওয়ার্ক হওয়ার পরে বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বিল জমা করলে টাকা দেয়া হয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল না দেয়ায় টাকা পরিশোধ হয়নি। ফলে কাগজ-কলমে কাজের অগ্রগতি শূন্য থাকবে বলছে আইএমইডি। প্রকল্পের ধীরগতি প্রসঙ্গে হাবিবুর রহমান বলেন, ওটা ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডার ছিল। বিদেশিদের যে চেক, সেটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ দূতাবাসে পরীক্ষা করাতে সময় লাগে। এ জন্য সময়মতো কাজ শুরু হয়নি।
সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর উন্নয়নের জন্য নেয়া প্রকল্পটির এমন দূরবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। মার্চে সিলেটের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি জানতে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সার্কিট হাউসে তিনি এক সভা করেন। সভায় ওই প্রকল্পের অবস্থা জেনে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
বিষয়টি জেনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী। তিনি জানান, দুই বছর মেয়াদ শেষে একটি প্রকল্পের অগ্রগতি শূন্যের কোটায় খুবই হতাশাজনক। শিগগিরই সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর পরিদর্শন করে দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।

আরও খবর
Loading...