সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের নতুন যাত্রা শুরু ১ অক্টোবর

সিলেট : দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ১ অক্টোবর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সিলেটের এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন।

এ বিষয়ে রবিবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদর দফতরে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে বর্ণাঢ্য ও সফল করতে ইতোমধ্যে সবাইকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিতকায় অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে এটি। উল্লেখ্য এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন সিভিল এভিয়েশনের সবচেয়ে দক্ষ  তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান।

এই প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে প্রায় দু’হাজার কোটি টাকা। বিমানবন্দরটির সংস্কার ও সম্প্রসারণের জন্যই এ প্রকল্প। পৃথিবীর অষ্টম বৃহৎ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চীনের বিইউসিজি নামের কোম্পানি এরই মধ্যে গ্রাউন্ডওয়ার্ক শুরু করেছে। মাসপাঁচেক আগে প্রকল্পের কার্যাদেশ পেয়ে ওই কোম্পানির বিশেষজ্ঞরা এখন ঢাকা ও সিলেটে অবস্থান করছেন।

কোভিড বিপর্যয় দেখা না দিলে এতদিনে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়ে যেত। প্রকল্প নিয়ে বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, সিনিয়র সচিব মহিবুল হক ও বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান ইতোমধ্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সর্বক্ষণিক মনিটর করছেন। তাদের একান্ত উৎসাহ ও আগ্রহেই করোনা তান্ডবকে উপেক্ষা করে শুরু হতে যাচ্ছে অক্টোবর যাত্রা।

দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে সিলেটকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও চাচ্ছেন যথাসময়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ শুরু ও শেষ করতে। যাতে আন্তর্জাতিক এভিয়েশনেও ওসমানি বিমানবন্দর একটা নিজস্ব অবস্থান প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

বর্তমানে সিলেটে লন্ডন থেকে আসা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ল্যান্ড করতে পারলেও চার শ’র বেশি আসনের সুপরিসর বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও পূর্ণ আসনের যাত্রী নিয়ে উড্ডয়ন করতে পারছে না। রানওয়ের তেমন সক্ষমতা নেই। যদিও লন্ডন থেকে এ পরিমাণ যাত্রী ও জ্বালানি নিয়ে ওই উড়োজাহাজ রওনা হয়ে সিলেটে অবতরণ করতে পারছে।

বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার এই প্রকল্প সম্পর্কে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী  জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতার মান ও পরিধি বৃদ্ধির লক্ষ্যেই বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ হাতে নিয়েছে বেসরকারী বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

তারই ধারাবাহিকতায় পূর্ণ হতে যাচ্ছে সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। এ বিষয়ে সিনিয়র সচিব মহিবুল হক বলেন, আমরা ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সদয় সম্মতি পেয়েই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির কাজ শুরু করে দিয়েছি। আগামী দশ দিনের মধ্যে সবই করতে হবে। এ নিয়ে কর্মকৌশলও ঠিক করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে এটা উদ্বোধন করবেন।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, বর্তমানে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে  সিলেট ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি আন্তর্জাতিক দৃষ্টিনন্দন টার্মিনাল ও কন্ট্রোল টাওয়ারের নির্মাণ কাজ। টার্মিনাল বিল্ডিংয়ের সঙ্গে এয়ারফিল্ড গ্রাউন্ড লাইট এপ্রোন স্থাপনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

সব কিছু যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই চীনের স্বনামধন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিইউসিজিকে গত ২৪ মার্চ কার্যাদেশ দেয়া হয়। এখন উদ্বোধনী প্রস্তুতি নিয়ে আমাদেরকে কাজ করতে হচ্ছে।

জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক টার্মিনালের যাবতীয় সুযোগ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন বোর্ডিং ব্রিজ, ব্যাগেজ হ্যান্ডেলিং সিস্টেম, ফ্লাইট ইনফর্মেশন ডিসপ্লে সিস্টেমসহ অন্যান্য অত্যাধুনিক টার্মিনাল বিল্ডিং সম্পর্কিত সকল ধরনের যন্ত্রপাতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যার ফলশ্রুতিতে বিমানবন্দরের যাত্রী সেবার মান বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

বিমানবন্দর টার্মিনালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহের জন্য এই প্রকল্পের আওতায় আলাদা সাবস্টেশন স্থাপনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্য ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম এবং স্বাচ্ছন্দ্যে টার্মিনাল ব্যবহারের জন্য সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সিএএবি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। সম্প্রতি এটি বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক নিরাপত্তাযন্ত্র ক্রয় করে। এর মধ্যে ছিল বিশ্বমানের ইডিএস সিস্টেম।

আরও খবর
Loading...