সুন্দরবনের ক্ষতিসাধনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান।

বৃহস্পতিবার খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবনের ক্ষতিসাধনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের দিনে সুন্দরবন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পালিত হয় সুন্দরবন দিবস। ২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের আওতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রূপান্তর ও পরশের উদ্যোগে এবং দেশের আরও ৭০টি পরিবেশবাদী সংগঠনের অংশগ্রহণে প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সুন্দরবন দিবস’ ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়, সুন্দরবন আমাদের জাতীয় সম্পদ। এটি এখন বিশ্ব-ঐতিহ্য। জগদ্বিখ্যাত এ প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকারী হওয়াতে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে আলাদা করে চিহ্নিত করা যায়। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে আগলে রেখেছে সুন্দরবন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বশিরুল-আল-মামুন বলেন, ‘আমরা যারা সুন্দরবন সন্নিহিত এলাকার মানুষ, আমাদের বেঁচে থাকার স্বার্থেই সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। ২০০৭ ও ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় সাক্ষ্য দেয় যে, সুন্দরবন পরম মাতৃত্বে আমাদের আগলে রেখেছিল বলেই আমরা কম ধ্বংসের শিকার হয়েছি। এ প্রমাণ শুধুই এবারের নয়, এটা শতাব্দী থেকে শতাব্দী পর্যন্ত একই ধারায় চলে আসছে। আমরা সুন্দরবনের অনেক ক্ষতি করলেও সুন্দরবন সব সময় শুধুই দিয়ে গেছে, বিনিময়ে সে পায়নি কিছুই। এখন সময় হয়েছে সুন্দরবনের ক্ষতিসাধনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার। শুধু বন বিভাগের সামান্য লোকবল ও সীমিত সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ওই ধ্বংস প্রয়াস রুখে দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই সুন্দরবন সন্নিহিত এলাকার মানুষেরও সুন্দরবন সংরক্ষণে সমর্থন ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন।’

নানা আনুষ্ঠানিকতায় সুন্দরবন দিবস পালন করা হছে। ইতিমধ্যে বুধবার খুলনার উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরিতে ‘সুন্দরবনকে যেমন দেখতে চাই’ শীর্ষক শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় সুন্দরবন দিবসের মূল অনুষ্ঠান উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরিতে অনুষ্ঠিত হবে। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হবে সকাল ৯টায় শহীদ হাদিস পার্ক থেকে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মামুন রেজা, সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কাদির, রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ প্রমুখ।

আরও খবর
Loading...