সৌদি পৌঁছানোর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে করোনা নেগেটিভ সনদ থাকতে হবে যাত্রীদের

সৌদি পৌঁছানোর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে করোনা নেগেটিভ সনদ থাকতে হবে। যাত্রীদেরকেউ টানা চার দিন, কেউবা পাঁচ দিন ধরে অপেক্ষায় ছিলেন কখন হাতে পাবেন সৌদিগামী ফ্লাইটের টিকিট। অবশেষে হাতে টিকিট পেয়ে সবার মুখে হাসি । তবে এই হাসি ক্ষণিকের। কারণ, করোনাভাইরাসের পরীক্ষার বিষয়টি দুশ্চিন্তায় ফেলেছে তাদের। সে কারণে কাঙ্ক্ষিত টিকিট পাওয়ার আনন্দটুকু মুহূর্তে মলিন হয়ে যায় তাদের।

সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী দেশটিতে পৌঁছানোর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকতে হবে যাত্রীদের। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কমপক্ষে ১৫ জন প্রবাসী নমুনা দিতে গিয়েও মহাখালীর করোনা সেন্টার থেকে ফিরে এসেছেন। অথচ, শুক্রবার বিকালের মধ্যে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকতে হবে তাদের।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স (সাউদিয়া)-এর রিটার্ন টিকিট নিয়ে যারা ছুটিতে দেশে এসেছিলেন,বৃহস্পতিবার তাদের টিকিট রি-ইস্যু করা হয়েছে। নতুন করে কোনও টিকিট বিক্রি করছে না এই দুই এয়ারলাইন্স। টিকিট রি-ইস্যু করতে কোনও অতিরিক্ত ফি’ও নিচ্ছে না এয়ারলাইন্স দুটি।

আরিফুর রহমান ও তার বাবা দুজনেই সৌদি আরবে থাকেন। বাবা ও ছেলে একসঙ্গে রিটার্ন টিকিট রি-ইস্যু করাতে পেরেছেন। দুজনের ফ্লাইট ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৩০ মিনিটে। বিকাল তিনটার দিকে টিকিট পাওয়ার পর ছুটে যান মহাখালীতে করোনার পরীক্ষার জন্য। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাদের খুশির জোয়ারে মুহূর্তেই ভাটা নেমে এলো। করোনা পরীক্ষার নমুনা দিতে পারেননি তারা। শুক্রবার সকালে তাদেরকে আবারও নমুনা দেওয়ার জন্য মহাখালীতে যেতে হবে।

আরিফুর রহমান বলেন, সকালে টেস্ট করতে যেতে বলেছে। কিন্তু আমাদের তো বিকালেই বিমানবন্দরে গিয়ে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে, কারণ রাতে ফ্লাইট যাবে। শুক্রবার দুপুরের মধ্যে রিপোর্ট না পেলে আমাদের কী হবে।

একই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন সৌদি প্রবাসী। দুপুরে টিকিট নিয়ে তারা মহাখালী গিয়ে দেখেন— নমুনা সংগ্রহ বন্ধ। একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন এখলাস রানা। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের সকালে যেতে বলেছে। কিন্তু ফ্লাইটের আগে রিপোর্ট না পেলে তো বিপদ।’

এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তারিখ অনুসারে যাত্রীদের টিকিট রি-ইস্যু করছে। করোনাভাইরাসের কারণে ১৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের আকাশপথের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ১৬ মার্চ থেকে ক্রমান্বয়ে বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর টিকিট রি-ইস্যু করছে বিমান।

তবে দাম্মাম ও মদিনা রুটের যাত্রীদের এখনই টিকিট রি-ইস্যু করছে না বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাব্বির হোসেন  বলেন, ‘আমরা রিয়াদ ও জেদ্দায় ফ্লাইটের অনুমতি পেয়েছি। তাই এ রুটের যাত্রীদের টিকিট রি ইস্যু করা হচ্ছে। দাম্মাম ও মদিনার অনুমোদন পেলে সেই রুট গুলোতেও ফ্লাইট চলবে। নতুন ফ্লাইটের অনুমোদন সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে অন্য যাত্রীদেরও বুকিংয়ের শুরু হবে।

 

আরও খবর
Loading...